খুলনা জাতীয় নড়াইল প্রধান খবর যশোর

নড়াইলে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

unnamed উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:  নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের সরশপুরে চিত্রা নদীর মরা খালের ওপর সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু সেতু আর নির্মাণ হয় না। এ কারণে ওই নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে স্থানীয় লোকজনসহ শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শাহাবাদ ইউনিয়নের সরশপুর এলাকায় চিত্রা নদী মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীর উত্তর দিকে চরবিলা, ইলিন্দি, হৈদেরখোলা, ফালিয়া, আতশপাড়া, আড়ংগাছা ও বলরামপুর গ্রাম। এই সাত গ্রামে আনুমানিক ১৫ হাজার পরিবারের বাস। লোক সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার।

আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের পাঠানো তথ্য ও ছবির ভিত্তিতে জানা যায় এই গ্রাম সাতটির লোকজনের হাটবাজার, ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতসহ সব ধরনের কাজ করতে হয় নদীর দক্ষিণ দিকে। এসব মানুষ ও শিক্ষার্থীরা বাঁশের সাঁকো দিয়ে খুব কম সময়ে খাল পার হয়ে ছয় কিলোমিটার দূরে রূপগঞ্জ হাটসহ সদর উপজেলা ও জেলা শহরে যান। আর তা না হলে চার কিলোমিটার পথ ঘুরে মাইজপাড়া সেতুর ওপর দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য মরা খালের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। প্রায় দশ ফুট পরপর দুটি করে বাঁশের খুঁটি ১৮টি স্থানে বসানো হয়েছে। বাঁশের ওপর দিয়ে চলাচলের সময় ওপরে ধরার জন্য আড়াআড়ি বাঁশ বাধা হয়েছে। ৫০ বছর ধরে এলাকার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই চলাচল করছে। সরশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মানু মিত্র বলেন, বাঁশের ওপর দিয়ে চলতে গিয়ে অনেকেই পা পিছলে খালের মধ্যে পড়ে যায়। বেশিরভাগ সময় স্কুলের কোমলমতি শিশুরা সাঁকো পার হতে খালের পানিতে পড়ে যায়।

পরে লোকজন তাদের উদ্ধার করে। সরশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী শিউলি, ছলেমান, টিপুসহ অনেকেই জানায়, স্কুলে যাওয়ার একমাত্র পথ ওই সাঁকো। সাঁকো পার হওয়ার সময় নড়ে ওঠে। তখন ভয় করে। অনেকে পার হতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়। বই-খাতা, জামা-কাপড় নষ্ট হয়। ক্লাস না করে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। কলেজ ছাত্রী রোখসানা খাতুন বলেন, কাঁধে ব্যাগ, এক হাতে স্যান্ডেল এবং অন্য হাত দিয়ে বাঁশ ধরে পা টিপে টিপে একটা বাঁশের ওপর দিয়ে প্রতিদিন কলেজে যাওয়া-আসা করি। সরশপুর গ্রামের শিক্ষক রজিবুল ইসলাম বলেন, এর আগে অনেকবার ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে দাবি জানিয়েছি খালের ওপর সেতু তৈরি করার জন্য। কিন্তু শুধু প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। এবার নতুন চেয়ারম্যানকেও একই দাবি জানানো হয়েছে। চরবিলা গ্রামের ব্যবসায়ী শমসের আলী বলেন, মালামাল নিয়ে যাওয়া যায় না। নসিমন ভাড়া করে অনেক দূরের পথ ঘুরে যেতে হয়। শাহাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন পান্না বলেন, নতুন চেয়ারম্যান হয়েছি। সাত গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।