জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর সারাদেশ

পরিচয় মিলেছে গাজীপুরে নিহত ৩ জঙ্গির

7-jongi_38372হটনিউজ ডেস্ক : গাজীপুরে নিহত ৭ জঙ্গির মধ্যে ৩ জনের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী। তাদের মধ্যে ছবি দেখে ২ জঙ্গির পরিবার যোগাযোগ করেছে এবং আরেক জনের পরিচয় আগেই জানানো হয়েছিল। আজ মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, পাতারটেকে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নিহত ৭ জনের মধ্যে ২ জনের পরিবার যোগাযোগ করেছে বলে জানিয়েছে। এ নিয়ে আমরা মোট ৩ জনের পরিচয় জানতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন, নিহতদের যে ছবি পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল তা দেখে ২ জনের পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা হলেন- সিলেটের ছাতকের সাইফুল ইসলাম বাবুল ও ঢাকার বংশাল থানার মোগরটুলি এলাকার আজিমউদ্দিনের ছেলে ইব্রাহিম। এছাড়া নিহতদের মধ্যে নব্য জেএমবির নেতা ফরিদুল ইসলাম আকাশ। নিহতরা সবাই গুলশানে হামলাকারীদের দল নব্য জেএমবির সদস্য বলেও আগেই দাবি করা হয়েছিল।
গত শনিবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার নোয়াগাঁওয়ের আফারখোলা পাতারটেকের একটি বাড়িতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াটের অভিযানে ওই সাতজন নিহত হয়। এরপর রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের ফেইসবুক পাতায় নিহতদের ছবি প্রকাশ করে তাদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। সেখানে বলা হয়, জঙ্গি অভিযান ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে আমরা দেখেছি, জঙ্গিরা বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করে থাকে। তদন্তের স্বার্থে তাদের প্রকৃত পরিচয় জানা জরুরি। সে ছবি দেখে মঙ্গলবার গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আসেন ইব্রাহিমের বাবা আজিমউদ্দিন, যিনি ঢাকায় একটি আবাসন নির্মাতা কোম্পানিতে কাজ করেন।
পুলিশকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ইব্রাহিম পড়ালেখা করেছেন তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায়। গত ৮ অগাস্ট ভোরে বাসা থেকে নামাজ পড়তে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি তিনি। তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে পরদিন বংশাল থানায় একটি জিডিও করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। আজিমউদ্দিন বলেন, “চেয়েছিলাম আমার ছেলে মস্ত বড় আলেম হবে। কিন্তু মোবাইল ফোন আর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সে যে মৌলবাদী গোষ্ঠীতে জড়িয়ে পড়েছে তা আমরা বুঝতে পারিনি। জঙ্গিবাদে যোগ দিয়ে প্রাণ দিয়েছে ইব্রাহিম। পুলিশ ৭ জনের যে ছবি প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে ৩ নম্বর ছবিটি ইব্রাহিমের বলে জানান তার বাবা।
পুলিশ সুপার জানান, সিলেটের সাইফুল ইসলাম বাবুলের পরিবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং তারা গাজীপুরে আসছেন বলে জানিয়েছেন। পরিবারের দেয়া তথ্য যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।