অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেড় কোটি ডলার ফেরত আসছে

 bb-press_34293হটনিউজ ডেস্ক: ফিলিপিন্সের রিজিওনাল ট্রায়াল কোর্টের রায়ের ফলে রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থের প্রায় দেড় কোটি ডলার ফেরত পাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র আনোয়ারুল ইসলাম। রায়ের কপি হস্তান্তরের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে এ অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। সেই সঙ্গে আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় চুরি যাওয়া বাকি অর্থও উদ্ধার করা যাবে বলেও জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হওয়ার ৮ মাসে পর বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে জানালো ১ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ফেরত পাওয়ার খবর।
ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের কয়েক মাসের তদন্ত এবং দফায় দফায় ফিলিপিন্স সিনেটে শুনানির পর সোমবার বাংলাদেশকে অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়ে এ আদেশ দেয় ম্যানিলার আদালত। কোর্টের রায় ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যাওয়ার পর এ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে ফেরত আসবে। এ অর্থ ফেরত পাওয়া গেলেও তারপরও খোয়া যাওয়া প্রায় সাড়ে ৬ কোটি ডলার বাকি থাকবে। সে বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত জান যায় নি। তবে অচিরেই সব অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের।
ঘটনাটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে ফিলিপিন্স সরকার তৎপর হয়। দেড় কোটি ডলারের সন্ধান মেলার পর তা জব্দ করে ফিলিপিন্সের বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওই অর্থের মালিকানা দাবি করে ফিলিপিন্সের আদালতে আবেদন করা হয়। ফিলিপিন্সের বিচার বিভাগের প্রধান কৌসুলি রিকার্দো পারাস বলেছেন, বাংলাদেশ এ অর্থের প্রকৃত মালিক বলে আদালতের আদেশে বলা হয়েছে। ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকো সেন্ট্রাল ন পিলিপিনাসকে (বিএসপি) বলা হয়েছে, এ অর্থ বাংলাদেশকে হস্তান্তরের পদক্ষেপ নিতে। এই অর্থ এখন বিএসপির ভল্টে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, মে মাসে ফিলিপিন্সের সিনেট কমিটির তদন্তের সময় এক ‘ক্যাসিনো জাংকেট’ এ দেড় কোটি ডলার ফেরত দেন, যদিও তার জুয়ার আখড়ায় বাংলাদেশের রিজার্ভের সাড়ে ৩ কোটি ডলার গিয়েছিল বলে মনে করা হয়। ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের বাকি অর্থ কোথায় গেছে, তার হদিস এখনও মেলেনি। ফিলিপিন্স সরকার জুয়ার আখড়ার আরও আড়াই কোটি ডলার জব্দ করেছে, বাংলাদেশ ওই অর্থের দাবি করলেও তার সুরাহা হয়নি এখনও।
প্রসঙ্গত গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়ে যায়। এরমধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়ার পর তা ফিলিপিন্সের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের ৪টি একাউন্টে চলে যায়। শ্রীলংকায় চলে যাওয়া পুরো ২ বিলিয়ন ডলার ফেরত আসলেও ফিলিপিন্সের পুরো অর্থ ফেরত পাওয়া যায় নি এখনও।