সকল মেনু

মানিকগঞ্জের পথে মীর কাসেমের মরদেহ

image-35148-1472915077জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে মানিকগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মরদেহবাহী তিনটি অ্যাম্বুলেন্সকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

এর আগে রাতে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১০ টা ৩০ মিনিটে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় এই নেতার মৃত্যুদণ্ড গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে কার্যকর করা হয়।

আমাদের মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মীর কাসেমের দাফন উপলক্ষে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের চালা গ্রামে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে মীর কাসেমের স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন, ভাবি ফেরদৌস আরা, দুই মেয়ে, দুই ছেলের বউ, ভাগনি, ভাতিজাসহ ৪০ জন স্বজন চারটি মাইক্রোবাসে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের চালা ইউনিয়নের চালা গ্রামে পৌঁছেছেন। তবে পুলিশ গণমাধ্যম কর্মীদের চালা গ্রামের চার কিলোমিটার দূরে ঘিওর উপজেলার কলতাবাজারে আটকে দিয়েছেন। শুধু মীর কাসেমের পরিবারের সদস্যদের চালা গ্রামে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার সূতালড়ি ইউনিয়নের মুন্সীডাঙ্গী গ্রামে জন্ম নেন মীর কাসেম আলী। বাবা তৈমুর আলীর চাকরির সুবাদে শিশুকালে তিনি চট্টগ্রামে যান। মুন্সীডাঙ্গীতে গ্রামের বাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার পর তিনি হরিরামপুরের চালা ইউনিয়নের চালা গ্রামে ৫০ শতক জমি কেনেন। সেখানে ঘরবাড়ি না থাকলেও তিনি একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন।

ফাঁসি কার্যকরের পর মীর কাসেমের ময়নাতদন্ত শেষ হয় বলে জানান কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের (পার্ট-২) এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক।

মীর কাসেমের স্ত্রী জানান, মীর কাসেমের ভাই মানিকগঞ্জে একটি জমি কিনে রেখেছিলেন। সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে। এর আগে মীর কাসেমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ডাকে কারা কর্তৃপক্ষ। আজ বেলা ৩টা ৩৫ মিনিটে পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাতের জন্য কারাগারে প্রবেশ করেন। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে তাঁরা সোয়া চারটায় দেখা করার সুযোগ পান। সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় পরিবারের সদস্যরা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।
আয়েশা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, পরিবার ও নিকট আত্মীয়সহ ২২ জন দেখা করতে যান। ছোট ছোট দলে ধাপে ধাপে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়। সব শেষে দেখা করেন স্ত্রী, দুই মেয়ে, ছেলের বউসহ আটজন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top