অপরাধ জাতীয় ঢাকা ফরিদপুর

চাঞ্চল্যকর সালথার গণধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথার চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এজাহারভুক্ত সাত আসামীর বিরুদ্ধে ফরিদপুর আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। শুক্রবার সালথা থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানানো হয়।

সালথা থানার ওসি ডিএম বেলায়েত হোসেন জানান, পাশ্ববর্তী গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার চকবন দোলাগ্রামের রিক্সাচালক মামুন মিনার কণ্যা স্বপ্না আক্তার (২১) ওমানে চাকুরী করতেন। গত ১৬ মার্চ সে বিদেশ থেকে বাড়িতে আসে। এরপর সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের জাফর বিশ্বাসের ছেলে ইয়াছিন বিশ্বাসের সাথে স্বপ্নার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

ইয়াছিন গত ১৪ এপ্রিল স্বপ্নাকে ফোন করে তার বাড়িতে বেড়াতে আসতে বলে। প্রেমের টানে স্বপ্না বাড়ি থেকে রওনা হলে পথিমধ্যে অপেক্ষামান প্রেমিক ইয়াছিন উপজেলার কালিনগর বাজারে আসলে তাকে মোটরসাইকেল যোগে উজিপুর এলাকার জনৈক নিরোথ বাড়ৈর বাগানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

পরে ইয়াছিন মেয়েটিকে নিয়ে বাগান থেকে বের হওয়ার সময় এলাকার মনির খান, হেলাল মোল্যা, জুয়েল মোল্যা, তুষার মুন্সী, এনামুল লস্কর ও হাসান মিয়া নামের কয়েক লম্পট যুবক স্বপ্নাকে ধরে নিয়ে ওই বাগানেই পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষিতার কাছে থাকা নগদ ২ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় ধর্ষকরা। লোহমর্ষক এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ওসি জানান, এ ঘটনায় ১৬ এপ্রিল স্বপ্না বাদী হয়ে ইয়াছিনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে সালথা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার  তদন্তভার ওসি নিজেই গ্রহণ করেন। এএসপি শামছুল হকের (সার্কেল ভাঙ্গা) নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলা হওয়ার ১০ ঘন্টার মধ্যেই ধর্ষক হাসানকে গ্রেফতার করা হয়।

হাসান এ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। পরবর্তীতে মামলার অন্য আসামী তুষার ও মনিরকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটি তদন্ত শেষে গত মঙ্গলবার সকালে এজাহারভুক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।