আন্তর্জাতিক জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর

‘আনোয়ারুল আজিম’ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশীদের গোল্ডেন সিটিজেন

unnamedশামছুজ্জামান নাঈম, মালয়েশিয়াঃ আনোয়ারুল আজিম। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া একজন মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীর নাম। যাকে মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশীরা উপাধি দেন ‘গোল্ডেন সিটিজেন’। যিনি জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ১৯৬০ সালের পহেলা জানুয়ারি মাত্র বিশ বছর বয়সে স্বদেশের মায়া ত্যাগ করে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান।
ফেনী জেলার ছাগল নাইয়া থানার জয়পুর গ্রামের বজলুস সোবহান ও শাহজাহান বেগমের একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম। ছোট তিন বোনের একজন মারা গেছেন, একজন নোয়াখালীতে এবং অপরজন লন্ডনে বসবাস করছেন।
তৎকালীন সময়ে বাবা ও চাচারা পেনাং রাজ্যে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারে আরেকটু সচ্ছলতা আসবে এই আসায় পাড়ি জমান মালয়েশিয়াতে।
কিন্তু পরিবারের ভাগ্য বদলাতে এসে নিজেই অন্যরকম ভাগ্যের হাতে বন্দি হয়ে যান। বাবা ও চাচারা একসময় দেশে ফিরে গেলেও স্থায়ীভাবে থেকে যান আনোয়ারুল আজিম।
১৯৭০ সালে মালয়েশিয়ান মেয়ে মোসা আয়েশা’র সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। একছেলে ২ মেয়ে এবং ৯ নাতি-নাতনি নিয়ে পেনাং প্রদেশেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তিনি।
৪৬ বছরের প্রবাস জীবনে পরিবার পরিজন ও আত্মীয় স্বজনদের দেখতে মাত্র ৩ বার বাংলাদেশে গিয়েছেন আনোয়ারুল আজিম। প্রথমবার ৩৩ বছর পর ১৯৯১ সালে, দ্বিতীয়বার ১৯৯৮ সালে এবং তৃতীয়বার ২০০৬ সালে।
সর্বজন শ্রদ্ধেয় আনোয়ারুল আজিমকে সম্প্রতি পেনাং রাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ মুসলিম কমিউনিটি এ্যাসোসিয়েশন’ গোল্ডেন সিটিজেন উপাধি দিয়ে সন্মাননা প্রদান করেন।

 

unnamed
আনোয়ারুল আজিম জানান, বাবা-মা গত হয়েছেন বহুবছর আগেই। আপন ছোট বোনকে দেখি না কত বছর। নিজ গ্রামের কথা, শৈশব ও কৈশোরের কথা, গ্রামের স্কুলের সহপাঠীদের কথা মনে পড়লে বুকটা হাহাকার করে উঠে। আনমনেই চোখ বেয়ে পানি পড়তে থাকে।
মালয়েশিয়া প্রসঙ্গে আনোয়ারুল আজিম বলেন, সে সময় মালয়েশিয়া আজকের ন্যায় এতটা উন্নত ছিল না। নিজের চোখের সামনে স্বল্পন্নোত থেকে মালয়েশিয়া আজ উন্নত দেশে পরিনত হয়েছে। বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে স্বপ্নের দেশ হিসেবে।
পেনাংয়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইউনুস আলী বলেন, শুধু পেনাং প্রদেশ নয়, গোটা মালয়েশিয়াতে সবচেয়ে পুরনো প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে তিনি অন্যতম। বৃদ্ধ বয়সে অনেকটা নিরবে জীবন যাপন করছেন তিনি। আমরা তাকে আমাদের মুরুব্বী হিসেবে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকি।