চট্টগ্রাম সারাদেশ

স্ত্রীর সঙ্গে খালুর পরকীয়া থাকায় মালয়েশিয়া থেকে ফিরে দু’জনকেই খুন করলো যুবক

porokiyahottaমালয়েশিয়া যাওয়ার কিছু দিন পর থেকেই শুনে আসছিলেন স্ত্রীর সঙ্গে খালুর প্রেম চলছে। কিন্তু এই ঘটনা শুনে আর স্থীর থাকতে পারেননি। দেশে ফিরে দু’জনকেই খুন করলেন।
চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার ফিরিঙ্গিবাজার এয়াকুব নগরে দুই নারী-পুরুষ খুনের নেপথ্যে প্রাথমিকভাবে এমন তথ্যই পেয়েছে পুলিশ।
এয়াকুব নগরের আলিম দোভাষ গলির টিনশেড একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন হৃদয় ও তার স্ত্রী আছমা আক্তার (২৫)। পাশেই আরেকটি বাসায় হৃদয়ের খালা রীনা বেগম ও মাকসুদুর রহমান (৩৫) ভাড়া থাকতেন। সেখানে একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকান চালাতেন মাসুদ। মঙ্গলবার রাতে স্ত্রী আছমা ও খালু মাকসুদুরকে হত্যা করেন হৃদয়। মাকসুদুর দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।
এই খুনের নেপথ্য কারণ খুঁজতে গিয়ে কথা হয় হৃদয়ের মেজখালা রুবি বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, অনেক ছোট বয়সে হৃদয়ের মা মারা যান। এরপর থেকেই সে রীনা ও মাকসুদুরের কাছেই বড় হয়। এরপর হৃদয়ের বিয়ে দেন তারা সবাই মিলে। বিয়ের পর খালারা মিলে তাকে মালয়েশিয়া পাঠান। যাওয়ার আগে হৃদয় স্ত্রীকে রেখে যান রীনা ও মাকসুদুরের কাছে।
হৃদয়ের চলে যাওয়ার পর থেকেই মাকসুদুর আর আছমা পরকীয়া প্রেম শুরু হয়। সে কথা মালয়েশিয়া থেকে জানতে পারেন হৃদয়। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে নানা দেনদরবার হয়েছে কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। হৃদয় দেশে ফিরে আসার পরও থামেনি সেই পরকীয়া। সেই ক্ষোভ থেকেই দু’জনকে হত্যা করেছেন হৃদয়।

আছমা ও হৃদয়ের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের বুড়িচং থানায়। চার বছর প্রেম করে বিয়ে করেছেন তারা। আর মাকসুদুরের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার কমলগঞ্জ থানায়।

তবে রুবির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন নিহত মাকসুদুরের স্ত্রী রীনা। তার দাবি, তার স্বামী এর আগে কোরান শরিফ ছুঁয়ে বলেছেন যে তিনি হৃদয়ের স্ত্রীর সঙ্গে কখনোই সম্পর্কে জড়াননি।

তিনি আরো বলেন, ‘সন্ধ্যায় বাসায় ছেলে মেয়েদের প্রাইভেট টিচার এসেছিলো, তাই বাসায় ব্যস্ত ছিলাম। সাড়ে আটটার দিকে মানুষের চিৎকার শুনে দোকানে গিয়ে দেখি, আমার স্বামীর পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এসময় তিনি আমাকে বলেন “রীনা আমিতো শেষ। হৃদয় আমারে ছুরি মেরে দিছে।” এসময় তার নাঁড়ি-ভুঁড়ি বের হয়ে যাচ্ছিল।’