অপরাধ রাজশাহী সিরাজগঞ্জ হটনিউজ স্পেশাল

সরকারি আইন অমান্য করে সিরাজগঞ্জে যত্রতত্র আস্বাস্থ্যকর পরিবেশে হচ্ছে পশু জবাই (পর্ব -১)

02075e11-4d7f-4aab-aab0-afc2e820e493দিলীপ গৌর ,সিরাজগঞ্জ: সরকার ঘোষিত প্রাণী সম্পদ জবাই আইন অমান্য করে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে যত্র-তত্র জবাই করা হচ্ছে পশু। আইন মোতাবেক পশু জবাইয়ের আগে তা পরিক্ষা করে দেখার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। রোগাক্রান্ত ও গর্ভবতী পশু জবাই করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। রাতের আধারে যেখানে সেখানে জবাই করা হচ্ছে পশু আর পরে তা বাজারে বিক্রয় করা হচ্ছে। প্রাণী সম্পদ অফিস বলছে সবকিছু দেখাশোনার দায়িত্ব পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদের। তবে তাদের পর্যাপ্ত ভেটেনারি সার্জন না থাকলে প্রাণী সম্পদ বিভাগ তাদের সহযোগীতা করবে যদিও প্রাণী সম্পদ বিভাগেরও ভেটেনারি সার্জন অপ্রতুল। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় অ্যানট্রাক্স রোগ দেখা দেওয়ায় নড়েচরে বসেছে প্রসাশন। জেলায় প্রাণী সম্পদ জবাই আইনের যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় তার তদারকিতে নেমেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা.মোঃ আকতারুজ্জামন। রাতের আধার কাটার আগেই তিনি গিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন পশু জবাইএর পয়েন্টগুলোতে আর হাতে নাতে ধরে ফেলছেন অসাধু ব্যবসায়ীদের। প্রাণী সম্পদ জবাই আইনে কসাইখানায় পশু জবাইয়ের বিধান থাকলেও ব্যবসায়ীরা পশু জবাই করেন তাদের পছন্দের স্থানে। দুºবর্তী, গর্ভবতী, উৎপাদনশীল ও প্রজননে সক্ষম পশু এবং ১ বছরের নিচে পুরুষ ছাগল,৭ বছরের নিচে পুরুষ গরু জবাই, সপ্তাহে তিনদিন পশু জবাই নিষেধ থাকলেও সিরাজগঞ্জের মাংশ ব্যবসায়ীরা তা মানছেননা। এ সব বিষয় নিয়মিত পরিদর্শনের বিধান থাকলেও উপজেলা প্রানী সম্পদ বিভাগ তা করছেন না। পশু জবাইয়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট সহ অন্যান্য বিষয়ে প্রত্যায়ন পত্র কেবল পশু সম্পদ কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারী সার্জনেরই রয়েছে। পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ গুলোতে সেনেটারি ইন্সেপেক্টর নিয়ন্ত্রনে ভেটেনারি সার্জন নিয়োগের বিধান থাকলেও সিরাজগঞ্জে কোথাও তা নেই। আবার অনেক হাটবাজার গুলোতে কশাইখানা না থাকায় ব্যবসায়ীরা অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে পশু জবাই করছে।

সিরাজগঞ্জ বড় বাজারের খাসির মাংস বিক্রেতা টুটুল জানান ছাগল জবাই করতে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হয় এইটা তার জানাই নেই আগে কোন দিন কেউ কিছু বলেও নি। পৌরসভা থেকে লোক আসে ১০টা ১১টার দিকে এসে ছিল মেরে যায় আর টাকা নেয়। আমরা হালাল ভাবে ব্যবসা করতে চাই যদি চিকিৎসক এসে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দিয়ে যায় তাতে আমাদের আপত্তি নেই।
পৌরসবা কর্তৃক নিয়োগকৃত মৌলভীদ্বারা বড় বাজারে কসাইখানাতে পশু জবাই করা হয়। তিনি জানান ২৫/৩০বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন কসাইখানাতে বকনা গরু জবাই করার পরে তার পেট থেকে বাচ্চা বের হয়েছে। দুগ্ধ দানকারী,গর্ভবতী ও প্রজনন সক্ষম গাভীও এখানে জবাই করা হয়। দেখার কেউ নাই তাই ব্যবসায়ীরা যা খুশি তাই করছে। তিনি বলেন তবে এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার,বাজার টা নিয়ন্ত্রন করে সরকারি বিধিবিধান মতো
পরিচালনা করলে ভালো হবে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান সদর উপজেলা ভেটেনারি সার্জন কে নিয়ে সদর উপজেলার বিভিন্ন হাটে বাজারে গিয়ে মাংস ব্যবসায়ীদের সচেতন করছেন এবং আইনের প্রতিশ্রদ্ধাশীল হয়ে হালাল ভাবে ব্যবসা করার পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি জানান দেশে আইন থাকলেও মানুষের মধ্যে আইন না মানার প্রবনতাটাই বেশী তারা মনে করে আইন মানলাম না এইটাই একটা বাহাদুরি। মানুষকে তাদের মানষিকতা পরিবর্তনের জন্য আগে পরামর্শ দিতে হবে,আমিও তাই করছি হাটে বাজারে গিয়ে ব্যবাসায়ীদের সাবধান করছি পাশাপাশি যারা পশুজবাই এবং কাটাকাটির সাথে জড়িত তাদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করার জন্য ১০ দিনের সময় দিচ্ছি এর পরে যদি তারা পরামর্শ না মানে তাহলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করবো। কিছু মানুষের জন্য সাধারণ মানুষ টাকা দিয়ে অ¯া^স্থ্যকর আর জীবানুযুক্ত মাংস খেয়ে বিপদে পড়বে তা হতে দেয়া হবে না। তিনি জানান ব্যবসায়ীরা সুর্য উঠার আগেই পশু জবাই করে কি জবাই করলো কেউতা দেখতে পায়না তা হবে না। নিয়ম করে দিয়েছি সিরাজগঞ্জ বড় বাজারে প্রতিদিন সকাল ৭টায় পশু জবাই করা হবে। তার আগে উপজেলা ভেটেনারি সার্জন পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ফিটনেস সনদ দিবে। শহরের সকল মাংস বিক্রেতাদের প্রাণী আগে বড় বাজার কসাই খানাতে আনতে হবে সেখান থেকে ফিটনেস সদন নিয়ে তার পর স্ব স্ব বাজারে গিয়ে জবাই করবে। আর রোজার মাসে প্রতিদিন পশু জবাই করা হলেও ঈদের পরে সরকার ঘোষিত ৩টি দিনে মধ্যে যে কোন একদিন বাজারে পশু জবাই বন্ধ থাকবে। সেই সাথে তিনি ক্রেতাদের আহবান জানান মাংস ক্রয়ের আগে দোকানদার যে প্রাণীর মাংস বিক্রি করছে তার ফিটনেস সনদ তা দেখতে হবে। ক্রেতারা সচেতন হলেই বিক্রেতারা সচেতন হবে। ডাঃ আকতারুজ্জামানে অভিযান জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই চলবে। অ্যানট্রাক্স জীবানু প্রতিরোধে তিনি বধ্যকর। এই প্রতিবেদন ধারাবাহিক চলবে আগামীকাল থাকবে পৌরসভার হাটবাজারের পশুজবাই এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গলিতে মাংস বিক্রির কান্ড নিয়ে প্রতিবেদন।