হটনিউজ স্পেশাল

রোজা-ঈদের বাড়তি চাহিদা মেটাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে মার্সেল

 38a6230f-7fc3-495c-bba6-d230b3f9104cঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক: রমজান মাস শুরু হতে আর কয়েকদিন বাকি। তারপরই ঈদ। প্রতিবছরই রোজা ও ঈদ উপলক্ষ্যে সারাদেশে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের চাহিদা ও বিক্রি বাড়ে। তুলনামূলক গরম কিছুটা বেশি হওয়ায় এবার ফ্রিজ, এসির বিক্রি অনেক বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। সেইসঙ্গে বিনোদনের প্রধান মাধ্যম টেলিভিশন এবং অন্যান্য হোম এ্যাপ্লায়েন্সও এসময়ে ব্যাপক বিক্রি হয়। বাড়তি চাহিদা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে মার্সেল। এরইমধ্যে তারা বাজারে ছেড়েছে ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্রিজ।

জানা গেছে, বিভিন্ন হোম ও ইলেকট্রিক্যাল এ্যাপ্লায়েন্স পণ্য দেশেই প্রস্তুত ও বাজারজাত করে দেশীয় ব্র্যান্ড মার্সেল ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। পণ্য বিক্রির দিক দিয়েও মার্সেল বাংলাদেশে শীর্ষস্থানীয়। রোজা ও ঈদ উপলক্ষ্যে ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের বাড়তি চাহিদার সিংহভাগ নিজেদের দখলে নিতে কারখানায় বাড়ানো হয়েছে উৎপাদন। গড়ে তোলা হয়েছে পর্যাপ্ত মজুদ। বাজারে ছাড়া হচ্ছে নতুন নতুন মডেলের পণ্য।
মার্সেল কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকেই তাদের পণ্যের চাহিদা ও বিক্রি বেশ বেড়েছে। গত কয়েকমাস ধরে অসহনীয় গরম পড়ায় মার্সেল ব্র্যান্ডের রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার, এয়ার কন্ডিশনার, রিচার্জেবল ফ্যানের বিক্রি বেড়েছে উল্লেখযোগ্যহারে। প্রতিমাসেই পণ্য বিক্রিতে ধারাবাহিকভাবে প্রায় ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে চলেছে মার্সেল। সামনে রোজা এবং ঈদ হওয়ায় ফ্রিজ, এলইডি টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, ব্লেন্ডার, রাইস কুকার, ইন্ডাকশন কুকারসহ ইলেকট্রনিক্স এ্যাপ্লায়েন্সের চাহিদা আরো বাড়বে। বিশেষ করে মানুষের লাইফ স্টাইলে পরিবর্তন, মাথাপিছুঁ আয় বৃদ্ধি, বিদ্যুত পরিস্থিতির উন্নতি এবং সহজলভ্য হওয়ায় প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
নিয়মিতভাবে গবেষণা এবং নতুন নতুন মডেলের পণ্য সরবরাহ, উৎপাদনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উচ্চ গুণগতমান বজায় রাখা, রুচিশীল ডিজাইন ও বৈচিত্র্যময় কালার, সাশ্রয়ী মূল্য, সহজ কিস্তি সুবিধা, আইএসও স্ট্যান্ডার্ড বিক্রয়োত্তর সেবা, দেশব্যাপী বিস্তৃত সেলস ও সার্ভিস নেটওয়ার্ক এবং সর্বোপরি স্থানীয় আবহাওয়া
উপযোগী করে দেশেই তৈরি হয় বলে মার্সেল ব্র্যান্ডের প্রতি ক্রেতাদের এতোটা আস্থা। এর প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্টরা এবার রোজায় গত বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।
সম্প্রতি, মার্সেল ফ্রিজে যুক্ত হয়েছে ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তি। এর ফলে ফ্রিজের বিদ্যুত খরচ কমবে বহুলাংশে। কম্প্রেসার হবে দীর্ঘস্থায়ী। ফ্রিজ চালু থাকলেও বাড়তি কোনো শব্দ হবে না। মার্সেল ফ্রিজে রয়েছে ন্যানো হেল্থকেয়ার টেকলোজি। যা খাবারকে সতেজ ও এর প্রাকৃতিক গুণাগুন অক্ষুন্ন রাখে। সবমিলিয়ে মার্সেল রেফ্রিজারেটর এখন এশিয়ার মান ছাড়িয়ে সর্বশেষ ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ডে উন্নীত হয়েছে। মার্সেল এয়ারকন্ডিশনারে যুক্ত হয়েছে গোল্ডেন ফিন। ফলে এসিতে মরিচা ধরে না, সহজে ময়লা জমে না। এলইডি টিভি উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি।
মার্সেলের রয়েছে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ২৫টি পণ্যের দেড় শতাধিক আকর্ষণীয় ডিজাইন ও মডেল। এর মধ্যে রয়েছে ৩১ মডেলের রেফ্রিজারেটর, ৬ মডেলের ফ্রিজার, ৪১ মডেলের এলইডি এবং ১৩টি মডেলের কালার লাইন বা সিআরটি টেলিভিশন, ৭ মডেলের এয়ার কন্ডিশনার, ৪ মডেলের মোটরসাইকেল, ৭ মডেলের জেনারেটর, ৯ ধরণের ব্লেন্ডার, ২৪ রকমের এলইডি বাল্ব, ৮ মডেলের ইলেকট্রিক স্যুইচ, ১৪ মডেলের রাইস কুকার, ৬ ধরণের আয়রন, ৪টি করে মডেলের ইলেকট্রিক কেটলি এবং রিচার্জেবল ফ্যান, ৫ মডেলের সিলড লিড এসিড রিচার্জেবল ব্যাটারি, ২টি করে মডেলের রিচার্জেবল ল্যাম্প, ইন্ডাকশন কুকার, ওভেন, রুম হিটার, ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ও গ্যাস স্টোভ এবং ১টি করে মডেল রয়েছে ওয়াটার পিউরিফায়ার, ফ্যান রেগুলেটর, হোল্ডার, এয়ার কুলার, ভোল্টেজ প্রোটেকটরের। কিছুদিন পর পরই প্রোডাক্ট লাইনে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন পণ্য। এভাবে বিশাল পণ্য সম্ভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে মার্সেল।
মার্সেলের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (উত্তর) মোশারফ হোসেন রাজীব বলেন, পণ্যের মান উন্নয়নের পাশাপাশি দামও এবার কমানো হয়েছে। ক্রেতাদের বাড়তি ভিড় সামাল দিতে বিপণন কর্মকর্তাদের দেয়া হয়েছে বিভিন্ন ধরনের দিক নির্দেশনা। সর্বোপরি, রমজানে দেশব্যাপী ইলেকট্রনিক্স পণ্যের যে বাড়তি চাহিদা তৈরি হবে তার সিংহভাগই মার্সেল দখল করতে পারবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মার্সেলের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (দক্ষিণ) শামীম আল মামুন বলেন, ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্যে মার্সেল এখন অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। ক্রেতারা মার্সেল ব্রান্ডের পণ্য ব্যবহার করে মূল্যের চেয়েও বেশি উপযোগ পাচ্ছেন। যে কারনে সারা দেশে মার্সেল পণ্যের ব্যাপক চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।