রাজনীতি

ইসরাইলের নেতার সঙ্গে বিএনপি নেতার সাক্ষাতে মর্মাহত ফিলিস্তিন

৪৬নিজস্ব প্রতিবেদক, হটনিউজ২৪বিডি.কম ১১ মে : সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লীতে বিএনপির এক শীর্ষস্থানীয় নেতার সাথে বর্ণবাদী ইসরাইলি লিকুদ পার্টির এক  ইহুদী নেতার সাক্ষাতের খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ফিলিস্তিন। ঢাকায় ফিলিস্তিনি দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ইউসুফ এস রামাদান এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এ ধরনের সাক্ষাত্ প্রকারান্তরে সকল ফিলিস্তিনি শিশু ও নরনারীর পিঠে ছুরিকাঘাতের শামিল, যা ঢাকাস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসকে অত্যন্ত মর্মাহত করেছে।

গত ৯ মে সোমবার ‘বাংলাদেশের সকল দরজা ইসরায়েলের জন্য খুলে যাবে- নয়াদিল্লীতে বৈঠক শেষে মেন্দি এন সাফাদি’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এ খবরের প্রতিক্রিয়ায় ইউসুফ এস রামাদান বলেছেন, সম্প্রতি নয়াদিল্লীতে ওই বৈঠক শেষে তারা একটি গ্রুপ ছবিও তুলেছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে আরো জানা গেছে, দুই পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে। সেখানে বাংলাদেশি পাসপোর্ট থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য ‘এই পাসপোর্টটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সকল দেশের জন্য প্রযোজ্য’ মুছে দেবার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। উক্ত বাক্যটি ফিলিস্তিনবাসীর নিকট যেমন মর্যাদাপূর্ণ তেমনি এটি ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও নীতিগত অবস্থানকে স্পষ্ট করে। অত্যন্ত পরিহাসের বিষয় এই যে, বর্ণবাদী ইসরায়েলী ইহুদী নেতা মেন্দি এন সাফাদি নির্যাতিতদের সাহায্যের কথা বলছে। অথচ তার বর্তমান ও অতীতের সরকার কীভাবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতন করেছে, সেটি সে ভুলে গেছে।

এ ধরনের সাক্ষাতকে সকল ফিলিস্তিনি শিশু ও নরনারীর পিঠে ছুরিকাঘাতের শামিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে আজ অবধি দুই দেশের ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ যে সম্পর্ক বিরাজমান, এ ধরনের বৈঠক সে সম্পর্ককে বিনষ্ট করার এক অপচেষ্টা মাত্র। বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীকে এই কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, বিগত এবং এই শতাব্দীতে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি নিরাপরাধ নারী ও শিশুর কথা, যাদেরকে ইসরায়েলি বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করেছে, যার মধ্যে ২০১৪ সালে ইসরায়েলের গাজা হামলা উল্লেখযোগ্য।

এ পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের আহবান জানাচ্ছি, এই সাক্ষাতের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে, বিশেষ করে আসলাম চৌধুরীকে। আমাদের কোন সন্দেহ নাই যে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি বিশেষ করে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের মানুষের যে দৃঢ় অবস্থান, তা নিঃসন্দেহে এই ধরণের সন্দেহপূর্ণ সাক্ষাতের পরিপন্থী। তাছাড়া এ ধরণের সাক্ষাত্ ফিলিস্তিনসহ আরব ও মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। পরিশেষে, আমরা সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রত্যাশা করব, ফিলিস্তিন ইস্যুর মূলে আঘাতকারী এ ধরণের সাক্ষাত্ বা বৈঠক থেকে বিরত থাকতে।
হটনিউজ২৪বিডি.কম/এআর