অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয় ঢাকা

চীনের ক্যান্টন ফেয়ারে ওয়ালটন প্যাভিলিয়ন

Canton Fairনিজস্ব প্রতিবেদক: ক্যান্টন ফেয়ার। যাকে বলা হয় বিশ্বের বৃহত্তম পণ্যমেলা। পুরো বিশ্বের শীর্ষ ক্রেতারা অপেক্ষায় থাকেন এই ফেয়ারের জন্য। চীনের ঐতিহ্যবাহী এবং মর্যাদাপূর্ণ এই মেলায় প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশী কোনো ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড। মেলায় থাকছে ওয়ালটনের মেগা প্যাভিলিয়ন। ওই প্যাভিলিয়নে প্রদর্শিত হবে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ খ্যাত’ ওয়ালটন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য।
ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের সঙ্গে পরিচয় হবে। তারা ওয়ালটন সম্পর্কে জানতে পারবেন। মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশী এই ব্র্যান্ডকে বিশ্বের ঘরে ঘরে পৌছে দেয়ার লক্ষ্যে গ্লোবাল বায়ারদের কাছে পৌছানো সহজ হবে বলে মনে করছেন তারা।
’ক্যান্টন ফেয়ার-২০১৬’ তে অংশ নিতে ওয়ালটনের ২৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যাচ্ছে চায়না। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দেশটির গুয়াংজু প্রদেশে ৫৯ বছর ধরে নিয়মিত এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি চীনা আমদানি-রপ্তানি মেলা বা ক্যানটন ফেয়ার নামে পরিচিত। এবছর ৫ দিনব্যাপী ১১৯তম আন্তর্জাতিক ক্যানটন ফেয়ার হবে এপ্রিলের ১৫ থেকে শুরু ১৯ তারিখ পর্যন্ত। ৫ দিনব্যাপী মেলায় ইলেকট্রনিক্স এন্ড হাউজহোল্ড ইলেকট্রিক্যাল এ্যাপ্লায়েন্সেস, লাইটিং ইক্যুইপমেন্ট, ভেহিক্যালস এন্ড স্পেয়ার পার্টস, মেশিনারি এবং হার্ডওয়্যার এন্ড টুলস পণ্য প্রদর্শিত হবে। ইলেকট্রনিক্স এন্ড হাউজহোল্ড ইলেকট্রিক্যাল এ্যাপ্লায়েন্সেস ক্যাটাগরীতে অংশ নিচ্ছে ওয়ালটন। ক্যানটন ফেয়ার’ র্এ আন্তর্জাতিক প্যাভিলিয়নে স্থাপন করা হচ্ছে ওয়ালটনের মেগা প্যাভিলিয়ন।
ক্যান্টন ফেয়ারে প্রদর্শিত হবে ওয়ালটন কারখানায় তৈরি আন্তর্জাতিকমানের ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্যসমূহ। এর মধ্যে রয়েছে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এলইডি টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, রিচার্জেবল ফ্যান, ইলেকট্রিক সুইস, সকেট,  ইন্ডাকশন কুকার, ব্লেন্ডার, এসিড লেড রিচার্জেবল ব্যাটারিসহ অন্যান্য পণ্য।
বিশ্বের ২’শরও বেশি দেশ থেকে প্রায় তিন লক্ষাধিক বড় বড় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা ক্যানটন ফেয়ারে আসেন। এতো সংখ্যক ক্রেতা বিশ্বের আর কোনো মেলাতেই উপস্থিত হয় না। তাই, এ মেলায় অংশ নেওয়ায় বহির্বিশ্বে ওয়ালটন তথা বাংলাদেশেরও ইমেজ আরো বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেলায় দর্শণার্থীদের আকৃষ্ট করতে ব্র্র্যান্ডিং কার্যক্রম চালাচ্ছে ওয়ালটন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা, মধ্য প্রাচ্য, ভারত, নেপাল, ভুটান সহ বিভিন্ন দেশে চালানো হচ্ছে প্রচারণা। ওইসব অঞ্চলে নিয়োজিত ওয়ালটনের পরিবেশক এবং প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্রেতাদের ফেয়ারে ওয়ালটন প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ক্যানটন ফেয়ারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় স্থানে ওয়ালটনের বিজ্ঞাপন বোর্ড স্থাপন করা হবে। ভিডিও স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে ওয়ালটনের বিজ্ঞাপন, ডক্যুমেন্টারি ইত্যাদি।
চীনে নিযুক্ত ওয়ালটনের প্রতিনিধি মীর আবুল হোসেন লিটন বলেন, ক্যান্টন ফেয়ার ইলেকট্রনিক্স পণ্য খাতের মেগা এক্সপো নামে পরিচিত। এই রকম বৃহৎ মেলায় চীনসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডগুলো অংশ নিয়ে থাকে। তিনি আশা করেন, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলোর সাথে পণ্য মান এবং মূল্য প্রতিযোগিতায় ওয়ালটন অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।
ওয়ালটনের অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম বলেন, দেশের বাজারে শীর্ষস্থান অর্জনের পর ওয়ালটনের লক্ষ্য বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি। আন্তর্জাতিক বাজারের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে ওয়ালটন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আর এই বার্তাটিই বিশ্বের সব ক্রেতাদের কাছে পেীঁছে দিতে ক্যানটন ফেয়ারে অংশ নেয়া। এতে ওয়ালটনের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। সেইসঙ্গে বিশ্বের সেরা ব্যবসায়ীদের  মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে ওয়ালটন।
ওয়ালটনের আন্তর্জাতিক বিপণন বিভাগের প্রধান রকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ওয়ালটনের পণ্যমান উৎকর্ষ সাধনে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বের যেকোনে ব্র্যান্ডকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি আমরা। ওয়ালটনের প্রধান লক্ষ্য এখন বিশ্ববাজার। এজন্য ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সব ইলেকট্রনিক্স পণ্যমেলায় অংশ নিচ্ছি। তিনি বলেন, ক্যান্টন ফেয়ারে অংশ নেয়ায় শুধু ওয়ালটনেরই নয়, বাংলাদেশের সুনামও বৃদ্ধি পাবে। ব্র্যান্ডিং হবে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের। যা দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে ভূমিকা রাখবে।