হটনিউজ স্পেশাল

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ চলছে

৪৬নিজস্ব প্রতিবেদক, হটনিউজ২৪বিডি.কম ১০ এপ্রিল : দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা এবং মানদণ্ড অনুসরণ করেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ ধাপে ধাপে এগিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব সিরাজুল হক খান।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের জনগণকে প্রকল্পের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড অবহিতকরণের লক্ষে শনিবার বিকেলে প্রকল্পের সাইট অফিস ঈশ্বরদীর রূপপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ৭৩ জন এবং পাবনা ও ঈশ্বরদীর ১৪ জন সংবাদকর্মী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন এবং প্রেসব্রিফিং-এ অংশ গ্রহণ করেন।

সচিব সিরাজুল হক খান জানান, ১০৬২ একর জমির ওপর এই প্রকল্প নির্মাণ হচ্ছে। প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে রাশান ফেডারেশনের নির্ধারিত ঠিকাদার এটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সঙ্গে ইতোমধ্যে ৪টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির ১ম ও ২য় পর্যায়ের কাজ দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। আগামী ডিসেম্বরে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। গ্রাউন্ড প্রিপারেশনসহ এর মধ্যেই ৮০ ভাগ আবার কোন কোন ক্ষেত্রে এর বেশী কাজও সম্পন্ন হয়েছে। মূল নির্মাণ কাজ তৃতীয় ও চতুর্থ চুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন। প্রথম পর্যায়ে কাজের জন্য রাশিয়া বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল চার হাজার কোটি টাকা এবং দেশীয় তহবিলের সাড়ে চার শত কোটি টাকা।  প্রকল্পের মূল পর্যায়ের নির্মাণ কাজের জন্য মোট ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার চুক্তি ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ১০ ভাগ অর্থাৎ ১.২৬৫ বিলিয়ন ডলার জিওবির অংশ। অবশিষ্ট ৯০ ভাগ অর্থাৎ ১১.৩৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার স্টেট ঋণ চুক্তির মাধমে রাশিয়া প্রদান করবে। রাশিয়ান সরকারের সঙ্গে অর্থ ঋণ চুক্তি এপ্রিলের শেষ নাগাদ অথবা মের প্রথমে স্বাক্ষরিত হবে বলে তিনি জানান।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, নির্মাণ পর্যায়ে দৈনিক ১৭৫০ কিউবেক মিটার পানি  এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ৮১ মিলিয়ন কিউবেক মিটার পানির প্রয়োজন। যার মধ্যে রিসাইক্লিং হিসেবে প্রায় অর্ধেক পানি পুনরায় ব্যবহৃত হবে।

প্রকল্প পরিচালক ড. সৌকত আকবর জানান, ২০১৭ সালের ১লা আগস্ট থেকে প্লান্ট বসানোর মূল ১ম কংক্রিট কাজ শুরু হবে। প্রথম ইউনিটের কমিশনিং ২০১৮ সালের এপ্রিলে শুরু হয়ে ২০২৩ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং ২০১৯ সালের এপ্রিলে শুরু হবে এবং ২০২৪ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াট করে দুটিতে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট  বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ প্লান্ট ৫০ বছর ধরে উৎপাদন করার জন্য ফুয়েল এবং ম্যানেজমেন্ট কস্ট তুলনামূলকভাবেকম হওয়ায় গড়ে প্রতি ইউনিটের খরচ পড়বে মাত্র ৩.০০ টাকা। যদি কোন দুর্ঘটনা না ঘটে তবে এই প্লান্ট থেকে ৮০-৯০ বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

৪৩৪ কোটি এডিপির টাকা ফেরত প্রসঙ্গে নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানির উপদেষ্টা রবীন্দ্র নাথ সরকার জানান, প্রথম পর্যায়ের অনেক কাজ রাশিয়ানদের অর্থেই সম্পাদিত হওয়ায় অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। তাছাড়া ডলারের দাম ৮০ টাকা ধরে মূল্যায়ন করা হলেও বাস্তবে ছিল ৭৮ টাকা। এ জন্য ১৬০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এই টাকা পরবর্তীতে ব্যয় হবে বলে তিনি জানান। এ সময় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান আলী জুলকারনাইন, সদস্য (ভৌত বিজ্ঞন) মাহাবুবুল হাসান, রাশিয়ান রোসাটমের প্রকল্প পরিচালক পাভেল, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফিরোজ আহমেদ, ওয়াহিদা মুর্সারাত অনিতা, প্রকল্পের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জাহিদুল হাসান, হাসিনুর রহমান, সাইট ইনচাজ এবিএম রুহুল কুদ্দুস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
হটনিউজ২৪বিডি.কম/এআর