অপরাধ চট্টগ্রাম চাঁদপুর

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে জাটকা নিধন চলছেই

index শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম, চাঁদপুর : চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটারের অভয়াশ্রম এলাকায় রাতের আঁধারে জাটকা নিধন করা হচ্ছে। আর  ধৃত জাটকা ভোরের আলোতে গ্রামের বাড়ি বাড়ি ফেরি করে বিক্রি হচ্ছে। জেলেদের জাটকা নিধনের মহোৎসব দেখে মনে হচ্ছে অভয়াশ্রম বলে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ বিশেষভাবে দায়িত্ব পালন করে আসলেও কোনোভাবে অসাধু জেলেদের নিবৃত করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ গত ২৩ দিনে অভয়াশ্রম কর্মসূচি চলাকালে এপর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিনশ টি অভিযানে ১শ ৩১জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা, ১৪ মে.টন. জাটকা উদ্ধার ও ২৮লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।
গত বুধবার বিকেলে চাঁদপুরের হারিণা ও আখনের হাট, হাইমচরের কাটাখালি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় শত শত মাছ ধরার নৌকা জাটকা নিধনে মেতে উঠেছে। আধঘন্টার ব্যবধানে প্রতি নৌকা কমপক্ষে ৮০-৯০ কেজি করে জাটকা নিধন করে। পরে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ৬০টাকা কেজিতে বিক্রি করা হয়। খুচরা বিক্রেতেরা জাটকাগুলো বিক্রি করে ১০০টাকা কেজি দরে। এভাবে জাটকা নিধন বেচাকেনা সব কিছুই প্রকাশ্য হলেও সেখানে দীর্ঘ তিন ঘন্টা অবস্থান করাকালীন প্রশাসনের কারো কোনো প্রকার তৎপরতা চোখে পড়েনি।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে বলেন, প্রতিদিন অন্তত ৫ থেকে দশ হাজার মণ জাটকা ধরা হচ্ছে। অল্প সময়ে অনেক লাভ পাওয়া যায়। তাই ঝুঁকি নিয়েই জাল ও নৌকা নিয়ে অনেকে নদীতে নামছে এবং জাটকা নিধন করছে।
চাঁদপুরের পদ্মা মেঘনায় (১মার্চ-৩০ এপ্রিল) দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। ইলিশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ২০০৬ সাল থেকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ১শ কিলোমিটার এলাকাসহ দেশের ৫টি অঞ্চলে এ কর্মসূচি চলে আসছে। মেঘনা ও পদ্মা নদীর চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত একশ’ কিলোমিটার এলাকায় চলে এ কার্যক্রম। জাটকা ইলিশের পাঁচটি প্রধান বিচরণ ক্ষেত্র চাঁদপুরে পদ্মা, মেঘনা, শাহবাজপুর চ্যানেল, তেতুলিয়া নদী ও আন্দার মানিক নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ।
জেলা মৎস্য কর্মকতা মোঃ সফিকুর রহমান জানান, অভয়াশ্রম কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে তারা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, চাঁদপুরে ৪১ হাজার ৪২জন জেলে রয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের জন্য ৪০ কেজি করে চাল বরাদ্দ হয়েছে। অভয়াশ্রম চলাকালে প্রথমবার কেউ নদীতে জাল ফেললে এক মাস হতে সর্বোচ্চ ছয় মাস সশ্রম কারাদন্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা এবং পরবর্তী প্রতিবার আইন ভঙ্গের জন্য কমপক্ষে ২ মাস হতে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং ২ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।