জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীতে আ.লীগের জনসভায় 

2015_07_06_08_42_04_ZaSbz9XCBLIXHUiGTxaGF3p5cOyyaQ_originalআছাদুজ্জামান,হটনিউজ২৪বিডি.কম : ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত হয়েছেন। জনসভায় ইতিমধ্যে ব্যাপক লোক সমাগম ঘটেছে। সোমবার বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে তিনি জনসভা স্থলে পৌঁছান। এর আগে বিকেল পৌনে ৩টার পর থেকে জনসভা শুরু হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে সভা শুরু হয়। জনসভায় সভাপতিত্ব করছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি। সভা পরিচালনা করছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং উপসম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও অসীম কুমার উকিল ৭ মার্চের জনসভা সফল করতে আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে বিভিন্ন যৌথসভা অনুষ্ঠিত করেছে। সভায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, যারা ৭ মার্চ পালন করে না তারা আগুনসন্ত্রাসের দল। এরা বাংলাদেশের শত্রু। তারা বাংলাদেশে থাকার অধিকার রাখে না। আমাদের সবাইকে এদের চিহ্নিত করতে হবে। এদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিলেন। এরাই বিভিন্ন সময়ে চক্রান্ত করে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তাই আমাদের সব সময় শেখ হাসিনাকে পাহারা দিতে হবে। গত বুধবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সঙ্গে আয়োজিত যৌথসভায় দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘৭ মার্চ, ১৭ মার্চ ও ২৬ মার্চের কর্মসূচি সফল করতে এটা আমাদের প্রথম প্রস্তুতি সভা। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সঙ্গে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক হবে। আমরা তাদের নিয়েই আগামী ৭ তারিখের জনসভায় ব্যাপক জনসমাগমের মাধ্যমে রেকর্ড করতে চাই।’ গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর ও তার আশপাশের সাংগঠনিক জেলাসমূহের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘৭ মার্চ জনসভাকে ঐতিহাসিক জনভায় পরিণত করতে চাই। এ জন্য আমরা ঢাকার আশপাশের জেলা, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তুতিমূলক সভা করছি।’

তিনি বলেন, ‘দেশে আজকের প্রেক্ষাপটে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের (আওয়ামী লীগ) শক্তিশালী প্রতিপক্ষ রাজনীতিতে এখন নেই। আমাদের বিপদ আছে। অভিন্ন বিপদ হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা। বিএনপির আন্দোলন আমাদের চ্যালেঞ্জ না। তাই সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ মোকাবিলায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শপথ নেব।’

এ ছাড়াও শনিবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি সভাতেও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগসহ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।

প্রতিবারের মতো এবারের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে রমনারে কালী মন্দিরের উত্তর পাশে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের কোল ঘেঁষে। প্রধানমন্ত্রী ও ভিআইপিদের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মূলগেট (শিশুপার্কের পাশে) উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নেতা-কর্মীরা প্রবেশ করতে পারবেন রমনা কালী মন্দির গেট এবং টিএসসির পাশের গেট দিয়ে।

সোমবার দুপুর ২টার পর থেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল সহকারে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে জনসভাস্থলে প্রবেশ করা শুরু করেন। সভা শুরুর নির্র্ধারিত সময় হতেই মঞ্চের সম্মুখস্থল নেতা-কর্মীদের সমাগমে ভরপুর হয়ে ওঠে। তবে ফাল্পুনের আকাশে রোদের উত্তাপে অনেক নেতা-কর্মীকে মাঠের ভিতর প্রবেশ না করে গাছের ছায়ার নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।