হটনিউজ স্পেশাল

বদ্ধপানিতে ইলিশ চাষ

৯.অর্থনীতি ডেস্ক,  হটনিউজ২৪বিডি.কম ২৯ ফেব্রুয়ারি : বাংলাদেশে এই প্রথম সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিতে বদ্ধপানিতে (পুকুরে) ইলিশ চাষ শুরু করেছে পটুয়াখালী মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিসের অর্থায়নে ইকো ফিস ও উপকূলীয় মৎস্য প্রকল্পের আওতায় ইলিশের বংশবৃদ্ধি এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া শতভাগ সফল হলে আগামী তিন বছরের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে সারাদেশে ইলিশ চাষ সম্ভব হবে বলে প্রকল্পের কর্মকর্তারা আশা করছেন। এর ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ইলিশ একটি বড় ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্বাস করেন মৎস্য বিজ্ঞানীরা।

জানা যায়, গত বছরের (২০১৫) সালের নভেম্বরের দিকে কলাপাড়া উপজেলার বাদুরতলি মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটে প্রায় ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে ৮ ফুড গভীর পুকুর করা হয়। পরে পুকুরটিতে নেটের জালের মাধ্যমে  নয়টি আলাদা পার্ট করা হয়। এর পরে স্থানীয় নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে পুকুরে মজুদ করা হয়। এরপর স্পিডবোটযোগে বঙ্গোপসাগরের ইলিশের প্রাণকেন্দ্র বা ইলিশের জোনখ্যাত খ্যাপের চর এলাকা থেকে বিশেষ জালের মাধ্যমে জাটকা ইলিশ শিকার করে বড় আকারের পলিথিনে লবণাক্ত পানি-অক্সিজেনসহ প্যাক করে আনা হয়। এরপর জাটকাগুলো সংরক্ষিত ৯টি পুকুরে ছাড়া হয়। এ পর্যন্ত ৯টি পুকুরে সাড়ে তিন হাজার জাটকা ইলিশ ছাড়া হয়েছে। প্রথম প্রথম কিছু ইলিশ মারা গেলেও এখন সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। ফলে প্রকল্পের সাফল্য আশা করছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

মাছগুলো পুকুরে ছাড়ার পরে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিতে পুকুরে কৃত্রিমভাবে ঢেউ সৃষ্টি করে পোনার স্বাভাবিক চলাচলের গতি ঠিক রাখা হয়। পাশাপাশি এয়ার ব্লোয়ার দিয়ে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা এবং বিভিন্ন মজুত ঘনত্ব দেয়ার জন্য ৯টি পুকুরে ৩টি ট্রিটমেন্ট এবং ৯টি রেফ্রিগেশনের মাধ্যমে পোনাগুলোকে সচল রাখার চেষ্টা করা হয়,  যাতে পোনাগুলো দুর্বল অথবা মারা না যায়। এজন্য সার্বক্ষণিক এই প্রকল্পে রয়েছে ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

বর্তমানে ইলিশের খাবার নিয়ে প্রকল্পটি গবেষণা চালাচ্ছেন। তারা জানান, সাগরের তলদেশে মাছের জন্য প্রাকৃতিকভাবে যে খাবারটি পাওয়া যায় সেটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হলে বদ্ধপানিতে ইলিশ চাষ করে সাফল্য আশা করা যায়।

এদিকে ইলিশ শিকারি জেলে ছোবাহান, আশ্রাফ, গনি প্যাদা জানান, খেপুপাড়া মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের এই উদ্যোগে তারাও দারুণ খুশি। কারণ এটি সফল হলে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে উপকূলের জেলেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর বা নদীতে মাছ শিকার করতে হবে না। পড়তে হবে না জলদস্যুদের কবলে।

পটুয়াখালীর ঊর্ধ্বতন মৎস্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নের জন্য তার গুরুত্ব, বিস্তৃতি, জীববিদ্যা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল বের করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরিবর্তিত অবস্থায় খাপখাওয়ানো, পুকুরে অভ্যস্ত করা, তাদের বৃদ্ধি, বাঁচার হার, সহ্য ক্ষমতা, খাদ্যাভাস বিষয়ে নিবিড়ভাবে পরিচর্যার জন্য পুকুরে ইলিশ চাষ শুরু করেন এই কর্মকর্তা। গত বছর প্রথম দফায় পুকুরে ছাড়া ছোট ইলিশের মৃত্যুর হার খুবই কম। সেগুলোর চলাচল বর্তমানে স্বাভাবিক হওয়ায় আশার আলো দেখছেন তিনি।

তার মতে, শতভাগ সফল হলে আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে সারাদেশে ইলিশ চাষ সম্ভব হবে।

হটনিউজ২৪বিডি.কম/এআর