জাতীয় লিড নিউজ

বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতা দিচ্ছেন
বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতা দিচ্ছেন

বগুড়া, ১২ নভেম্বর ২০১৫, নিরাপদনিউজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বগুড়ায় আমরা কখনো ভোট পাইনি, তবুও উন্নয়ন করে গেছি। এই বগুড়াতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
বৃহস্পতিবার বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শিবগঞ্জ মসলা গবেষণাকেন্দ্র, রাডার স্থাপন নির্মাণ, সারিয়াকান্দিসহ বিভিন্ন স্থানে হার্ড পয়েন্ট নির্মাণ করেছে।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য তার সারাজীবন উৎসর্গ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার জন্য জাতির পিতা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন, সারাটা জীবন কারাগারে কাটিয়েছেন। কারণ তিনি দেখেছিলেন, এ দেশের মানুষ দুর্ভাগা। তাই এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। সে লক্ষ্যে তিনি কাজ শুরু করেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা বিজয় অর্জন করলাম।’
শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপির আমলে একটা মোবাইল ফোন কিনতে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা লাগত। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, প্রযুক্তি যা পেয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারই দিয়েছে। আজ ঘরে ঘরে ফোন। সারা বাংলাদেশে আমরাই ইন্টারনেট সার্ভিস দিয়েছি।’
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ তিনি নির্বাচন বন্ধ করতে পারেনি, ১৩৫ জন মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। ৫৮২টি স্কুল পুড়িয়ে দিয়েও নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি বিএনপি। মানুষ হত্যা ছাড়া বিএনপি কিছু জানে না। যতই ষড়যন্ত্র তিনি করুক না কেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘উনার (খালেদা) ছেলে মুচলেকা দিয়ে বিদেশে বসে আছে। তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন খালেদা জিয়া। সেখানে বসে থেকে তিনি এখন বিদেশিদের হত্যা করতে চায়। তিনি বিদেশে বসে আবারো দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ কায়েম করতে চান। সারা জীবন তিনি এবং তার ছেলে খুনি হিসেবে জনগণের কাছে চিহ্নিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ উন্নয়নমূলক কাজ করে বলেই দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার প্রথম সোপানে পা রেখেছে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে তিনি জনসভাস্থলে এসে পৌঁছান তিনি।
এদিকে দুপুর পৌনে একটায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকেই জনসভাস্থলে মানুষের ঢল নামে। দুপুর আড়াইটার মধ্যে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে স্থান না পেয়ে হাজার হাজার মানুষ আশপাশে এবং শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথা, জলেশ্বরীতলা, ইয়াকুবিয়া স্কুলের মোড় ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন।