অপরাধ খুলনা

কেসিসিতে চাকরি পেল হত্যা মামলার আসামি

images (4)খুলনা ব্যুরো : সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ‘খুলনা ওয়াসা’র কর্মচারী দম্পতির পরিবারের সাহায্যের জন্য খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে উত্তোলন করা চাঁদার দেড় লাখ টাকা গত ৮ মাসেও হস্তান্তর করা হয়নি। অপরদিকে কেসিসির সাম্প্রতিক নিয়োগ পেয়েছে খুনের মামলার দুই আসামি। আবার মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকেও চাকরিতে পুর্নবহাল করা হয়েছে। বয়স কমিয়ে, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও কাগজপত্র ছাড়াও নিয়োগ পেয়েছেন কয়েকজন। এর মধ্যে কলেজে অধ্যায়নরতরাও আছেন। এ সব বিষয় নিয়ে সাবেক মেয়রের স্বচ্ছতা নিয়ে আবারো প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

কেসিসির সাবেক মেয়র ও সম্মিলিত নাগরিক কমিটি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের নির্দেশে এই অর্থ কেসিসির কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়। সাহার্য্যরে এ অর্থ পাওয়ার জন্য নিহত গোলাম মহিউদ্দিনের বৃদ্ধ পিতা খুলনা ওয়াসায় ঘুরে ফিরছেন।

খুলনা ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সকালে মহানগরী মুজগুন্নী উত্তর পাড়ার বাসিন্দা ওয়াসার পাম্প অপারেটর গোলাম মহিউদ্দিন (৩৮) ও তার স্ত্রী ওয়াসার অফিস সহকারী লাভলী বেগম (৩০) মটর সাইকেলে করে অফিসে যাবার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। নিহত গোলাম মহিউদ্দিন খুলনা ওয়াসার সহকারী পাম্প অপারেটর ও ওয়াসা কর্মচারি ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক এবং স্ত্রী লাভলী বেগম ডেসপাস সহকারী ও ওয়াসা কর্মচারি ইউনিয়নের উপদেষ্টা ছিলেন।

গোলাম মহিউদ্দিন ও লাভলি ইয়াসমিন মারা যাবার পর কেসিসির কর্মকর্তারা জনপ্রতি ৫শ’ টাকা, স্থায়ী কর্মচারীরা ২শ’ ও অস্থায়ী শ্রমিকরা ১শ’ টাকা করে চাঁদা দেন। এতে করে ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা জমা হয়। আদায়ের পরপরই এই অর্থের চেক তুলে দেয়া হয় সাবেক সিটি মেয়রের হাতে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই টাকা আজও ওই পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়া হয়নি।

খুলনা ওয়াসা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জিএম আব্দুল গফ্ফার জানান, ওই টাকাটা এখনও হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। সিটি কর্পোরেশন প্রায় দু’মাস আগে এক লাখ ৯ হাজার টাকা দিয়েছে। আরও যারা সাহায্য দিয়েছেন বা দিতে চাইছেন তা একত্র করে নিহত পরিবারের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, তা নগদে না দিয়ে নিহত দম্পতির দুই এতিম মেয়ের নামে ফিক্সড ডিপোজিট করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। কিন্তু গোলাম মহিউদ্দিনের পিতা নগদ টাকা চাওয়ায় একটু জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

গোলাম মহিউদ্দিনের পিতা গোলাম মোস্তফা জানান, ছেলে ও ছেলের স্ত্রী মারা যাবার সময় ওয়াসা থেকে দাফনের জন্য ২০ হাজার, সমিতির লভ্যাংশ থেকে ৪ হাজার ২শ’ ৬৬ টাকা, কল্যাণ তহবিল থেকে ৩ হাজার টাকা ও গত ঈদের সময় ইউনিয়ন থেকে ৩ হাজার টাকা তাদেরকে দেয়া হয়। এছাড়া আর কোন টাকা তিনি পাননি।

সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, টাকাতো তিনি তোলেন নি। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই টাকা তুলেছেন। তারা কি করা হয়েছে তা তার মনে নেই।

জানা যায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সহকারী কনজারভেন্সী অফিসার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বয়রা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি নুরুন্নাহার এ্যানীকে। সে ওই কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। একই পদে নিয়োগ পেয়েছেন যুবলীগ কর্মি মোঃ আঃ রাফী। এই দুই পদে নিয়োগ পেতে হলে অবশ্যই অভিজ্ঞতাসহ প্যারা মেডিকেল পাস ও তিন বছরের ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট (এসআইটি সনদ) প্রয়োজন। কিন্তু এ্যানী ও রাফীর সেই সার্টিফিকেট ও অভিজ্ঞতা নেই।

একইভাবে কনজারভেন্সী সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পাওয়া তানভীর নুরুল ইসলাম, স্যানিটারী ইন্সপেক্টর পদে নবজীত বাইন, শেখ মেহদী হাসান বুলবুল ও মোঃ ইসমাঈল আদমেরও কোন অভিজ্ঞতা ও এসআইটি সার্টিফিকেট নেই। ড্রাফটম্যান পদে নিয়োগ পাওয়া আসমাউল হুসনার জন্য পলিটেকনিক থেকে পাস সার্টিফিকেটসহ অভিজ্ঞতার প্রয়োজ থাকলেও তার তা নেই।

এদিকে তালুকদার আব্দুল খালেকের রাজনৈতিক সহযোগি বাবু (৫০) কেসিসির সাধারণ শাখায় নিয়োগ পেয়েছেন। তার বয়স কমিয়ে ২৮ বছর করে নিয়োগ দেয়া হয়। একইভাবে ভান্ডার শাখায় নিয়োগ পাওয়া আওয়ামীলীগ নেতা কুটু হত্যা মামলার আসামী মোঃ খায়রুজ্জামান বাবু ওরফে বোমারু বাবুর বয়সও ৫০ বছর। কিন্তু নিয়োগ শর্ত পুরণ করতে তার বয়স কমিয়ে ২৮ বছর করা হয়েছে। ভেটারিনারি সার্জন শাখার আবু মাদক দ্রব্য আইনে ৬ মাস সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাভোগ করেছে। কেসিসির বর্তমান সচিব ইদ্রিস সিদ্দিকী তাকে সাজা দিয়েছিলো। সেই আবুকে কারাভোগকালিন সময়ে ছুটি দেখিয়ে পূর্নবহাল করা হয়েছে।