খুলনা রাজনীতি

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম

download (5)খুলনা ব্যুরো:বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম বলেছেন, কেসিসি নির্বাচনের বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার চক্রান্ত চলছে। কোন প্রকার কারচুপির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনিকে হারানো হলে খুলনা বিভাগ থেকে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলন শুরু করা হবে।

বিকেলে নগরীর হাজী মহসীন রোডস্থ মনিরুজ্জামান মনির নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। আগামী ১৫ জুনের কেসিসি নির্বাচনে সরকারী দলের প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক টাকা ছড়ানোর মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেয়ার চক্রান্ত চলছে উল্লেখ করে তরিকুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান আচরণবিধি লংঘন করে ভোট প্রার্থনা করে বেড়াচ্ছেন। এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গত দু’দিন ধরে তিনি নগরীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগকালে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে তাদের আশংকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ভোটাররা ভোট দিলেও তা ধরে রাখা যাবে কি না তা নিয়েও তারা সন্দিহান। খালিশপুরের শ্রমিক শ্রেণী ও বিহারীদের মাঝে টাকা ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এ কেন্দ্রীয় নেতা।

সরকার নির্বাচনে কারচুপি করতে পারে এমন আশংকার পরও নির্বাচনে অংশ নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন, হলমার্ক কেলেংকারী, পদ্মাসেতু দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি, রানা প্লাজা হত্যা, তাজরীন গার্মেন্টস হত্যাকান্ডসহ সরকারের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। সরকারের সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করেই জনগন স্বত:স্ফুর্তভাবে ভোট দেবেন এমনটিও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

কেসিসির সদ্য বিদায়ী মেয়র ও আগামী নির্বাচনের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, মেয়র থাকাকালীন যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এখনও ওইসব পদে রয়েছেন। নির্বাচনের আগে তার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তরিকুল ইসলাম। একইসাথে খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান পদ থেকেও পদত্যাগে বাধ্য করাতে নির্বাচন কমিশনকে ভূমিকা রাখার আহবান জানান তিনি।

তরিকুল ইসলাম অবিলম্বে প্রিজাইডিং অফিসারদের তালিকা প্রকাশ, আলোচিত-সমালোচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রসমূহে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ কেসিসি নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সকল প্রকার খবরদারি থেকে মুক্ত রাখার আহবান জানান। একই সাথে যেসব তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এখনও কোন কোন মেয়রপ্রার্থীর সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদেরকে গ্রেফতারের আহবান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে বৈধ অস্ত্র জমা নেয়া হলেও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার যেমন হয়নি, তেমনি সন্ত্রাসীরাও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়েও শংকা প্রকাশ করেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম নূরুল ইসলাম দাদু ভাই, অধ্যাপক মাজিদুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরাম মনোনীত মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি, ফোরামের আহবায়ক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সরদার মোঃ ইউনুস, প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, সাহারুজ্জামান মোর্তুজা, সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাবেক এমপি মুজিবর রহমান, সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দিন, সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী, অ্যাডভোকেট লতিফুর রহমান লাবু, সাবেক এমপি অধ্যাপক ডাঃ গাজী আব্দুল হক, সিরাজুল ইসলাম মেঝ ভাই, মোল্লা আবুল কাশেম, মাওলানা নাসির উদ্দিন, সিরাজ উদ্দিন সেন্টু, অ্যাডভোকেট শাহ আলম, ফখরুল আলম, আমির এজাজ খান, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, ডাঃ রফিকুল হক বাবলু, মনিরজ্জামান মন্টু, আসাদুজ্জামান মুরাদ প্রমুখ প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।