খুলনা জাতীয়

সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেমিনার অনুষ্ঠিত

খুলনা ব্যুরো: বাংলাদেশ রোড ট্রাসপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)’র খুলনা সার্কেলের আয়োজনে এবং খুলনা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আজ সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেমিনার ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

খুলনা জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে এ সেমিনার উদ্বোধন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সড়ক দুর্ঘটনা ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য গাড়ীর চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। আইন আছে কিন্তু আমরা মানিনা, সকলের ট্রাফিক আইন মেনে চলা উচিত। গাড়ি চালকদের কারনে একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এজন্য সতর্কতার সাথে গাড়ী চালাতে তিনি চালকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রট এম,এম, আরিফ পাশা। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন পুলিশ সুপার গোলাম রউফ খান পিপিএম (বার) এবং সিভিল সার্জনের পক্ষে কেএম শফিউর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন খুলনা বিভাগীয় মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রহিম বক্স দুদু, খুলনা মটর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোলা মুজিবুর রহমান, ট্যাংলরী মালিক সমিতির সাধারণ স¤পাদক ওহিদুজ্জামান, নিরাপদ সড়ক চাই সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম এবং রূপসা-বাগেরহাট আন্তঃজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মফিজুর রহমান মফিজ। স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনা বিআরটিএ সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) শেখ সেলিম বক্স।

সেমিনারের জানানো হয়, ন্যাশনাল রোড ট্রাফিক এক্সিডেন্ট রির্পোট অনুসারে ২০১২ সালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা চার হাজার ৬৩৬টি যা পূর্বের বছরের তুলনায় পাঁচশ ২৮টি বেশি, ২০১২ সালে দুর্ঘটনার মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ৫৩৮জন যা পূর্বের বছরের তুলনায় ৭১জন বেশি এবং ২০১২ সালে গুরুতর আহতের সংখ্যা এক হাজার ৭৮৭ জন যা পূর্বের বছরের তুলনায় দুইশ ৩৯জন বেশি, বাংলাদেশে ২০১২ সাল পর্যন্ত রেজিস্টার্ড মোটর গাড়ীর সংখ্যা ১৮ লাখ যা ২০১১ সালের তুলনায় ৩ লাখের বেশি। ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে যানবাহন সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে দুর্ঘটনা এবং আহত-নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেজ্ঞদের মতে আমাদের দেশে প্রতি বছর ৫ হাজারের অধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৪ হাজার মানুষ অকালে প্রাণ হারায়। সড়ক দুর্ঘটনায় বৎসরে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা যা এডিপির ২পার্সেন্ট।

সেমিনারে পরিবহণ মালিক, শ্রমিক, চালক, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকগণ অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনার শেষে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় একশ ৫০জন বাস-ট্রাক চালক অংশগ্রহণ করেন। এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো ভারী যানবাহন চালকদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে ধারণা ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশিষ্ট সকলকে নিয়ে নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের পরিবেশ সৃষ্টি করা।