ঢাকা শিক্ষাঙ্গন

প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের কারণে ভেঙ্গে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা

download (21)শেরপুর থেকে শাহরিয়ার আহম্মেদ শাকির:শেরপুর সদর উপজেলার ২ নং চর শেরপুর ইউনিয়নের হেরুয়া সরকারী প্রাথমিকি বিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষক থাকালেও কৃত্রিম শিক্ষক সংকট ও প্রধান শিক্ষকের স্বোচ্ছারিতা, দায়িত্ব অবহেলা আর অনিয়মের কারণে ভেঙ্গে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। এ ব্যাপারে গ্রামবাসী এবং ওই স্কুলের মেনেজিং কমিটির সদস্যরা উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিক বার অভিযোগ করেও কোন প্রকার প্রতিকার পায়নি।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানাগেছে, ১৯৩৮ সালে হেরুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় করণ করা হয়। ওই এলাকার সবচেয়ে প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যাবহী ওই স্কুলের বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮৪ জন। বিদ্যালয়টি ইতিপূর্বে সুনামের সহিত চললেও বর্তমান প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম এ বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকে তার স্বোচ্ছাচারিতা, দায়িত্ব অবহেলাসহ নানা কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ইতিপূর্বে মাত্র দুই জন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হলেও তখন বিদ্যালয়টি র্তমান ব্যবস্তার ভালভাবে চলে। তখন ছাত্র সংখ্যা ছিল ২শ ৫০ জনেরও বেশী। অথচ বর্তমান প্রধান শিক্ষকসহ জন শিক্ষক নিয়োগ থাকলেও লেখাপড়া ভাল হচ্ছে না। গত তিন বছরে ছাত্র সংখ্যা কমে এখন দাড়িয়েছে ১শ ৮৪ জনে। বর্তমান প্রধান শিক্ষক এ বিদ্যালয়ে যোগদান করেই ম্যানেজিং কমিটির কাইকে জানিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ট্রেনিং এর নামে লম্বা ছুটিতে চলে যান। দীর্ঘ এক বছর ছুটি কাটিয়ে সে গত বছর স্কুলে আবার যোগদান করে। অপর সহকারী শিক্ষক ফেরদৌসী বেগম শেরপুর জেলা শহরের কসবা কাঠগড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে চলে যান। এবং অদ্যবধি সেখানেই ডেপুটেশনে আছেন। আরেক সহকারী শিক্ষক শিউলি বেগম প্রায় ১৫ মাস মেডিক্যাল ও শিক্ষা ছুটি কাটিয়ে সম্প্র্রতি বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন। এ ব্যপারে সদরের শিক্ষা কর্মকর্তা গত ২৭ জানুয়ারী তাকে শো-কজ দিলেও তার জবাব আজ পর্যন্ত দেয়নি। আরেক সহকারী শিক্ষক মঞ্জুয়ারা আক্তার বর্তমানে পিটিআই ট্রেনিংএ রয়েছেন। বিদ্যালয়টিতে সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহসীনা বেগম এবং সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেন তারা তাদের শহরের বাড়িতে অবস্থান করলেও এ দুজন শিক্ষক যথাসময়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করেন এবং কÍাশ নেন। এ দু শিক্ষক না থাকলে বিদ্যা তালা দেওয়ার উপক্রম হতো। মোহসিনা বেগম ইতিপূর্বে তিন দফায় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

এদিকে প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম ঠিকমত বিদ্যালয়ে আসেননা। প্রায় প্রতিদিনই আসেন দেরীতে। এতে যথা সময়ে বিদ্যালয়ে ক্লাশ শুরু হয়না। অন্য শিক্ষকদের সাথেও নেই কোন ভাল সম্পর্ক। সহকারী শিক্ষকরা তার এ অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাদের সাথে প্রধান শিক্ষকের মনামালিন্য হয়ে আসছে। এতে বিদ্যালয়ের লেখা পড়ার পরিবেশ ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। উপায়ন্তর না দেখে অনেক অভিভাবক বিদ্যালয় থেকে অন্যত্র মাদ্রাসা বা প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করছে। এতে দিন বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছে। এতে আশপাশের ৪টি গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় গমন শিশুদের ভবিষ্যত নিয়ে শংকা প্রকাশ করছেন অভিবাবকরা। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিকে পাস কাটিয়েই চলে কার্যক্রম। মাঝে মধ্যে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের বাড়ীতে খাতা পাঠিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে আনা হয়। বিদ্যালয়টিতে দু’ দফায় প্রায় এক লক্ষ টাকা বরাদ্ধ আসলেও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছেমতো ব্যয ও আত্মসাত করেছেন। সমপ্রতি বরাদ্ধকৃত ৪০ হাজার টাকার সিংহভাগ টাকা প্রধান শিক্ষক নিজেই আত্মসাত করেছেন। এছাড়া ক্রীড়া অনুষ্ঠানের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত টাকা আদায় করে তা অন্যশিক্ষকদের না জানিয়েই আত্মসাত করেছেন। এব্যাপারে অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে লিখিত অভিযোগ দিলেও রহস্যজনক কারণে অদ্যবধি পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এসব বিষয়ে ওই স্কুলের সভাপতি মোঃ সফিউল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময় পরিদর্শন বহিতে অভিযোগ লিপি বদ্ধ করলেও উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষ শুধু অভিযোগ গুলো দেখেই দায় সারেন।

বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি’র সভাপতি মো. শফিউল্লাহ জানান, এসব নানা অনিয়মের বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে দফায় দফায় লিখিত ভাবে জানানো হলেও আজ পর্যন্ত কোন কর্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি।

প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি নিয়মিত স্কুলে আসি এবং ৪টার পরই স্কুল থেকে চলে যাই। প্রধান শিক্ষক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করলেও অন্যান্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনা অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্ত শিউলি বেগমকে অনেক বার বলার পরও তিনি তার মনমত স্কুলে আসছে এবং যাচ্ছেন। এ ব্যপারে উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানোর পরও কোন সুরাহা হচ্ছেনা।

এব্যপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভিন জানান, অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষকদের বিষয়টি আমি ডিপিও (জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা) স্যারকে লিখিত ভাবে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। কিন্তু এ ব্যপারে আমি আর কিছুই জানিনা।

এ ব্যপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, বিষয়গুলো আমি সম্প্রতি জেনেছি। অভিযুক্ত শিক্ষকদের ব্যাপারে এবং ডেপুটেশনের শিক্ষকের ব্যপারেও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।