খুলনা শিক্ষাঙ্গন

যবিপ্রবিতে ছাত্র আন্দোলন চরমে

download (17)রিপন হোসেন, যশোর থেকে :যবিপ্রবিতে চরম অচলাবস্থা শুরু হয়েছে। ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা এখন রাজপথে। সভা সমাবেশ আর মিছির মিটিংয়ে উত্তপ্ত করে তুলছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। অব্যাহত আন্দোলনের মুখে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এখন মুখোমুখি অবস্থানে। ফলে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের অঘটন। অনার্সের সেমিস্টার ফি ও মাস্টার্সের ভর্তি ফি কমানোর দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে সোমবার সকালে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছে। এর আগে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-মিছিলও বের করে। একই দাবিতে গত ৮ জুন সারাদিন শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরসহ সব কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে ভাইস চ্যান্সেলরের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার ও ভর্তি ফি কয়েক গুণ বেশি। শিক্ষার্থীরা বলেন, ১৮ তারিখের মধ্যে সেমিস্টার ফি ও ভর্তি ফি কমানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হবে এবং সে পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে বলে ভাইস চ্যান্সেলর গত ২১ মে শিক্ষার্থীদের বলেছিলেন। কিন্তু এরপরই তিনি সকল বিভাগীয় প্রধানদের ক্লাস ও পরীক্ষা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। শিক্ষার্থীদের দাবি অযৌক্তিক বলেও তিনি মিডিয়াকে বলেন। এদিকে ক্যাম্পাস পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে বিকেলে ভিসির বাসভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার। তিনি এই ছাত্র আন্দোলনকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে বলেন, সমসাময়িক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর তুলনায় যবিপ্রবিতে ছাত্র ভর্তি ফি, সেমিস্টার ফি ও অন্যান্য সকল ফি তুলনামূলক ভাবে অনেক কম। তার পরও শিক্ষকদের সাথে কোন প্রকারে আলাপ আলোচনা না করে সম্পূর্ণ ব্যক্তি ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে অযৌক্তিক ভাবে ক্যাম্পাসকে উত্তপ্ত করছে। পরিস্থিতি দিন দিন চরমে পৌঁচাচ্ছে। এ ভাবে চলতে পারে না। তিনি অবিলম্বে এই আন্দোলন বন্ধের আহবান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হবেন। অন্যদিকে ছাত্ররা তাদের দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেওয়া হয়।