অপরাধ জাতীয়

দৌলতপুরে ডিএসএফ প্রকল্পে চলছে অনিয়ম দুর্নীতি

download (11)কাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া:কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে মাতৃ-স্বাস্থ্য ভাউচার (ডিএসএফ) স্কীমের বরাদ্ধকৃত কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা সিডফান্ড কমিটি ডিএসএফ প্রকল্পের টেন্ডারে স্থানীয়ভাবে কিভাবে সরকারী ঔষধ (লাল সবুজ মোড়ক সম্বলিত) ক্রয় করছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া টেন্ডারের মাধ্যমে সমস্ত ঔষধ কেনা হলেও প্রতিটি রোগীকে আলাদাভাবে ৫‘শ থেকে ১২‘শ টাকার ঔষধ কিনতে হচ্ছে। এভাবে ডিএসএফ প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত কয়েক কোটি টাকা অনিয়ম দুনীতির মাধ্যমে ঠিকাদার ও কর্মকর্তারা লুটপাট করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, ডিএসএফ প্রকল্পের মাধ্যমে গরীব ও দুঃস্থ মায়েদের মাতৃত্বকালীন সেবা দেয়ার জন্য সরকার প্রতিজন মায়ের জন্য সমুদয় সেবা প্রদানের জন্য উপজেলা সিডফান্ড কমিটি ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঔষধ ও উপহার সামগ্রী ক্রয়ের টেন্ডার আহবান করে। কিন্তু দাখিলকৃত একটি দরপত্র ছাড়া আর কোন দরপত্রের সাথে জামানত সংযুক্ত না থাকায় সে টেন্ডার বাতিল করা হয়। এবং চলতি বছর ২২ জানুয়ারী পুনঃ টেন্ডারে দুটি সেকশনে ১৮ টি দরপত্র বিক্রয় হলেও দাখিল হওয়া ৪ টি দপত্রের মধ্যে দু সেকশনের একটি করে দরপত্রের সাথে জামানত সযুক্ত ছিল। তারপরও ঐ দিনই দরপত্র অনুমোদন করেন উপজেলা সিডফান্ড কমিটির সভাপতি ইউএনও অরুন কুমার মন্ডল। ফলে যোগসাজস করে দুটি কাজই পান নিউ মার্কেট রোড টাঙ্গাইলের মেসার্স শামছুল হক ফার্মেসী ও শামছুল হক এন্টারপ্রাইজ দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর একই ব্যাক্তি। সংশিষ্টদের মতে দুর্নীতি ও অনিয়ম করার জিঘাংসা থেকেই টাঙ্গাইলের মেসার্স শামছুল হক ফার্মেসী ও শামছুল হক এন্টারপ্রাইজ কে কাজ দেয়া হয়েছে। মেসার্স শামছুল হক ফার্মেসী কাজ পাবার পর মাতৃ-স্বাস্থ্য ভাউচার স্কীমে ‘সরকারী সম্পদ বিক্রয় নিষিদ্ধ“ লাল সবুজ মোড়কের ঔষধ সরবরাহ করেন। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যবিভাগের উর্ধ্বতন একাধিক সুত্র জানায়, মাতৃ-স্বাস্থ্য ভাউচার স্কীমে লাল সবুজ মোড়কের ঔষধ সরবরাহ করতে পারেনা। কেননা লাল সবুজ মোড়কের ঔষধ শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ঔষাধাগার কিনে থাকে। উপজেলা পর্যায়ের টেন্ডারে এ ঔষধ কেনার কোন সুযোগ নেই। সুত্রগুলো আরো জানায়, যে ঠিকাদার এই ঔষধ সরবরাহ করছে সে গোপনে কোন কোম্পানীর লোকের কাছ থেকে তা কিনেছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, নিউ মার্কেট রোড টাঙ্গাইলের মেসার্স শামছুল হক ফার্মেসীর মালিক শামছুল হক সারাদেশে নেটওয়ার্ক স্থাপন করে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে স্থানীয় কিছু এজেন্টের মাধ্যমে সরকারী ঔষধ সরকারের কাছেই বিক্রয় করছে। এ ব্যাপারে মেসার্স শামছুল হক ফার্মেসীর মালিক শামছুল হক জানান, তিনি ইনসেপটা কোম্পানীর কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এবং কিছু ঔষধ ঢাকার মিডফোর্ট থেকে সংগ্রহ করে থাকেন বলে জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্র ও স্থানীয় ঔষধ বিক্রেতারা জানান, দেখা গেছে একটি ১ এমজি এক্সিফিন ইনজেকশনের বর্তমান বাজার মূল্য ১০০ টাকা, সরকার সেটি শুধুমাত্র উৎপাদন মুল্যে কিনলে দাম পড়বে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। অথচ সেই ঔষধ মাতৃ-স্বাস্থ্য ভাউচার স্কীমে সরবরাহ করা হচ্ছে ১৯০ টাকা দরে। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে প্রায় ৬ হাজার মা ও শিশুর জন্য উপহার সামগ্রী সরবরাহের জন্য মেসার্স শামসুল হক এন্টার প্রাইজ কে জনপ্রতি ২৭৫ টাকা মুল্যের ১ টি ১২ হাত প্রিন্টের শাড়ী, ১৪ টাকা মুল্যের একটি বেবী সাবান, ২ টি ৮০ টাকা মুল্যের বেবী সেট, ও ১৩০ টাকা মুল্যের দুটি মাঝারী তোয়ালে সরবরাহের জন্য সর্বমোট ৫৯৯ টাকায় কার্যাদেশ দেওয়া হলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অত্যান্ত নিম্নমানের শাড়ী, ৩০ টাকা মুল্যে দুটি বেবী সেট, ২২ ইঞ্চি লম্বা ২ টি রুমাল সদৃশ তোয়ালে ও ৬ টাকা মুল্যের একটি মেরিল মিনি সাবান মায়েদের হাতে তুলে দিচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এ সব উপহার সামগ্রীর মূল্য ২১০ থেকে ২৫০ টাকার বেশী নয়। মাতৃ-স্বাস্থ্য ভাউচার স্কীমে অপারেশন রোগীদের স্বজনরা জানান, সরকার আমাদের প্রয়োজনীয় ঔষধের বরাদ্ধ দিলেও আমাদের ৫ থেকে ১২‘শ টাকার ঔষধ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। তারাগুনিয়া এলাকার সেতু জানান, তার স্ত্রীর নামে ডিএসএফ প্রকল্পের কার্ড থাকা সত্বেও তাকে ১২ শ‘ টাকার ঔষধ কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সালেহ আহমেদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ২৪ মে ২০১১ ইং তারিখে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব স্বাক্ষরিত স্বাপকম/হাস-২/বিবিধ-২৩/২০০৮/৪৭১ স্বারকের একটি পত্র উপস্থাপন করেন। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ তরুন কান্তি হালদার জানান, আমাদের নির্দেশনা আছে লাল সবুজ মোড়ক থাকতে হবে। রোগীদের ঔষধ কিনতে বাধ্য করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বরাদ্ধ কম থাকায় হয়ত কিছু ঔষধ কিনতে হতে পারে।