খুলনা রাজনীতি

মনির পক্ষে প্রচারণায় জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোট

download (6)খুলনা ব্যুরো:দীর্ঘদিনের লালিত ক্ষোভ আর হতাশার অবসান ঘটিয়ে রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি নেতা ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরাম মনোনীতি মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির পক্ষে ভোটের মাঠে নেমেছে জামায়াত ইসলামী। কাউন্সিলর ইস্যুতে সৃষ্ট দূরত্ব ঘুচে এখন তা বিএনপি-জামায়াতের নৈকট্যের সম্প্রীতিতে রূপ নিয়েছে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের মাত্র ৫ দিন আগে মনির পক্ষে ভোট চাইতে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান এই শরীক দল জামায়াতের নেতা-কর্মীরা রোববার নগরবাসীর কাছে মনির আনারস প্রতীকে ভোট চাইলেন।

একই সাথে খুলনার ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা রোববার একত্রিত হয়ে গণসংযোগে অংশ নিয়েছেন। এর আগে জোটের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক মহানগর বিএনপির সভাপতি ও জোটের সমন্বয়ক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তৃতা করেন জামায়াতের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি, বিজেপির লতিফুর রহমান লাবু, জাগপার সালাউদ্দিন মিঠু, খেলাফত মজলিসের মাওলানা নাসিরউদ্দিন, বিএনপির সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, মাহফুজুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, ইয়াসিন আলী, আজিজুর রহমান স্বপন, আবু হোসেন বাবু, শামসুজ্জামান চঞ্চল, সাইদুর রহমান, আনিসুর রহমান ফরাজি, আব্দুল খালেক প্রমুখ।

সভা থেকে ১৮ দলীয় জোটের নেতাদেরকে সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে মেয়র প্রার্থী মনির পক্ষে প্রতিটি ওয়ার্ডে ও থানায় কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়। নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ করাতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। সভা থেকে কারাগারে আটক খুলনা জামায়াত নেতা অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও খেলাফত মজলিসের মাওলানা গোলাম কিবরিয়াসহ সকল নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়। সভা থেকে অবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানানো হয়। এর আগে শনিবার জামায়াত ইসলামীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতি দিয়ে মনিরুজ্জামান মনির পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় কর্মীদের কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, কেসিসি নির্বাচনে জামায়াত ইসলামী ১০টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী দিয়ে তাদের পক্ষে জোটের সমর্থন দাবি করে। অপরদিকে বিএনপি মাত্র একটি ওয়ার্ড জামায়াতের প্রার্থীর সমর্থনে উন্মুক্ত রাখে। এ ঘটনায় জোটের প্রধান দুই শরীকের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল।