কৃষি

ভর্তুকিতেও বাড়ছে না কৃষি উৎপাদন

078ঢাকা: চলতি অর্থ বছরের তুলনায় ২০১৩-২০১৪’ অর্থ বছরে কৃষি খাতে ভর্তুকি কমানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের প্রথম বাজেটের চেয়ে নতুন বাজেটে এ খাতে দুই শতাংশ অর্থ বরাদ্দ কমেছে। কৃষকবান্ধব হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ সরকারের চলতি অর্থ বছরসহ বিগত ‍অর্থ বছরগুলোতেও কৃষিখাতের উৎপাদন কমেছে।
বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমায় উৎপাদনে এর প্রভাব পড়লেও ভর্তুকি সুষ্ঠু ব্যবহারের অভাব বেশি প্রভাবিত করছে। এ ছাড়াও কৃষকদের ন্যায্য পণ্যমূল্য না পাওয়ার বিষয়টিও কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে বলে উপলব্ধি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের।

২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে শস্য ও শাক-সবজি খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ শতাংশের উপরে। কিন্তু চলতি অর্থ বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়।

চলতি অর্থ বছরে কৃষিখাতে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা। পরে এটি সংশোধিত করে ১২ হাজার কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু তারপরেও কৃষির অন্যতম উপখাত শস্য ও শাক-সবজি উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি শূন্যের কাছাকাছি নেমেছে।

২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে যেখানে শস্য ও শাক-সবজি খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ কিন্তু পরের অর্থ বছরে এটি কমে নেমে আসে ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশে।

২০১১-২০১২ অর্থ বছরে এ খাতে এক দশমিক ৯৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও চলতি অর্থ বছরে তা দশমিক ১৫ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আবাদের তুলনায় বাড়ছে না গ্রীষ্মকালীন সবজি উৎপাদন। গত পাঁচ বছরে সবজির আবাদ ৭৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ আবাদ বাড়লেও ‍উৎপাদন বাড়ার হার মাত্র ১১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে এ খাতে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয় মিলে মোট বাজেটের ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ খরচ করা হয়। ২০১১-১২ অর্থবছরের মূল বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ ছিল সাত হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ দাঁড়ায় নয় হাজার ২৬০ কোটি টাকায়। ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে এ খাতে বছর শেষে ব্যয় দাঁড়াবে ১৪ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা।

ভর্তুকির বন্টনে প্রথাগত পদ্ধতি অনুসরণ করায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের এক তথ্য দেখা গেছে, দেশে মাঝারি মানের কৃষক রয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। আর প্রান্তিক কৃষক ৩৯ শতাংশ। ভর্তুকির প্রচলিত ব্যবস্থায় মাঝারি ও ক্ষুদ্র এ কৃষকরা অবহেলিত ও বঞ্চিত। ফলে উৎপাদন খরচ কমাতে পারছেন কৃষকরা। অবশেষে উৎপাদন উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন তারা।

অন্যদিকে ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। সম্প্রতি ভারত, চীন ও বাংলাদশের প্রধান খাদ্যের ওপর একটি গবেষণা চালিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএফপিআরআই)। ওই গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, বাংলাদেশের কৃষক ফসলের দাম সবচেয়ে কম পান। এর অন্যতম কারণ বাজারে ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগীদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় কমাতে ভর্তুকি সহায়তার গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্যশস্যের ন্যায্য দামও নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক (গবেষণা) ড. আসাদুজ্জামান জানান, “কৃষক যেমন দাম পান না, তেমনি ভর্তুকি সুবিধা না পাওয়ায় উৎপাদন খরচও কমাতে পারেন না। এতে শস্য উৎপাদন ছেড়ে অন্য কিছু উৎপাদনে যাচ্ছেন কৃষকরা।”