খুলনা

নিখোঁজ কাউছার কিডনি শিকারী, হেফাজতী,নাকি অন্যকারো শিকার?

SAM_0208কাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া:বয়স মাত্র ১৯ বছর। এক দিনমজুর পরিবারের সন্তান। জীবন জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বেড়িয়েছিল কাজের সন্ধানে। কোন এক পরিচিত জনের একটি মোবাইল ফোনের আহ্বানে ঢাকায় গিয়েছিল গার্মেন্টসে চাকরী করবে বলে। এরপর মাসাধিককাল সময় অতিবাহিত হলেও মোঃ কউছার আলী (১৯)’র কোন সন্ধান পাচ্ছে না পরিবার। সম্ভাব্য সকল মাধ্যমে খোঁজ করেও কোন সন্ধান না পেয়ে অবশেষে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি জিডি করেছে নিখোঁজ কাউছারের পিতা দিনমজুর মহাম্মদ আলী সেখ। নিখোঁজ কাউছারের মা সদর উপজেলার পুরাতন কুষ্টিয়া গ্রামের মহম্মাদ আলীর স্ত্রী গৃহবধু রাশিদা বেগম জানায়, তার চার ছেলের মধ্যে ২য় পুত্র মোঃ কাউছার আলী পরিবারের আর্থিক সংকট থাকায় লেখাপড়ার সুযোগ না পেয়ে ৫ম শ্রেনীতেই সে পাঠ চুকে যায়। এরপর দিনমজুর পিতার সংসারে একটু অর্থিক সহায়তা করতে সেও দিনজমুর হিসেবে কাজকর্ম করত। গতবছর কুষ্টিয়ার গড়াই নদী পুন:খনন প্রকল্পে কাজ করতে আসা বরিশালের কোন এক অজ্ঞাত ছেলের সাথে তার পরিচয় হয়। তার সাথেই মাঝে মধ্যে মোবাইল ফোনে কাউছারের কথা হতো। সেই সূত্র ধরেই গত ৩ মে, ২০১৩, শুক্রবার আনুমানিক সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে বাড়ি থেকে ঢাকার মতিঝিলস্থ একটি গার্মেন্টসে কাজ করার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাড়ি থেকে যাওয়ার ২/৩ দিন পর (০১৮৪৫-৯৮৬০২৩) নম্বরের একটি মোবাইল থেকে কল করে কাউছার তার মা রাশিদা খাতুন (৪০)’র সাথে কথা বলে। সে সময় কাউছার মা’কে বলেছিল তার মোবাইল টি হারিয়ে গেছে সে কারণে তাদের একই ফ্যাক্টরীতে কর্মরত ঘনিষ্ট এক সহকর্মীর ঐ নাম্বারের মোবাইল থেকে কথা বলতে হচ্ছে। মা’য়ের সাথে কাউছার’র সর্বশেষ এই কথোপকথনে আরও বলেছিল, ঐ অফিস থেকে তাকে বলা হচ্ছে তোমার কিডনিতে সমস্যা আছে; দ্রুত চেকআপ করে চিকিৎসা নিতে হবে। মা রাশিদা জানায় সেসময় কাউছারকে কেমন যেন ভীত সন্ত্রস্ত কন্ঠে কথা বলতে শোনা যায়। এরপর থেকে ঐ মোবাইল ফোনে অসংখ্যবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি আর খোলা পাওয়া যাচ্ছে না বা ছেলে কাউছারেরও কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সর্বশেষ ফোনালাপ আনুমানিক ৫ অথবা ৬ মে ২০১৩ থেকে শুরু করে অদ্যবধি পর্যন্ত নিকটতম আতœীয় স্বজন ও পরিচিত জনদের মারফত সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজ করেও কোন সন্ধান বের করতে পারছে না পরিবার। নিখোঁজ কাউছারের পিতা দিনমজুর মহাম্মদ আলী সেখ জানায়, সংসারের অভাব মোচনের জন্য কাউছার যখন যা পেতো তাই করেই কিছু আর্থিক সংস্থানের যোগন দিতো। সবেমাত্র উঠতি বয়সী টগবগে এক তরুণ ছেলে আরও কিছু বেশী রোজগারের আশায় ছুটে যায় ঢাকার মতিঝিলের কোন এক গার্মেন্টসে চাকরী করার জন্য। কিন্তু কোন এক অশুভ খপ্পরে পড়েই আজ ছেলে কাউছার নিখোঁজ হয়েছে বলে মনে করছেন। তিনি নিখোঁজ ছেলে কাউছারের চেহারার বিবরণে বলেন, বয়স- ১৯ বছর, উচ্চতা ঃ ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি, গায়ের রং ঃ ফর্সা, মুখমন্ডল গোলাকার, পরনে নীল রংয়ের জিন্স প্যান্ট এবং বাদামী রংয়ের ফুল হাতা গেঞ্জি। উল্লেখ্য নিখোঁজ কাউছারের মা রাশিদা ও পিতা মহাম্মদ আলী’র দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ ধারণা করছেন, হয়ত কোন কিডনি চক্র অথবা সর্বশেষ ঘটনার সূত্রানুযায়ী (৩ মে ২০১৩- ৬মে ২০১৩ সময়কালে) ঢাকার মতিঝিল এলাকায় সংঘটিত সহিংসতার শিকার হয়ে থাকতে পারে। এই একই ধারণা পোষন করে মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার মশিউর রহমান জানান, ঘটনা যাই ঘটুক না কেন, এবিষয়ে থানায় নথিভুক্ত সাধারণ ডায়েরী নং ৩০৬ তাং ০৭/০৬/২০১৩-তে উল্লেখিত তথ্য ধরে যথাযথ সকল জায়গায় ম্যাসেজ প্রেরণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।