ঢাকা

লাশ ফেরত পাওয়াই এখন স্বজনদের একমাত্র দাবী

মোঃ বোরহান উদ্দিন রব্বানী, শরীয়তপুর :সংযুক্ত আরব আমিরাতের সারজা শহরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনে শরীয়তপুরের ৫ শ্রমিকদের মৃত্যুর ৮ দিন পার হয়ে গেলেও শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন বা কোন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ করেনি ওইসব পরিবার গুলোর সঙ্গে। নুন্যতম শান্তনা নিয়েও শোকাতুর স্বজন হাড়ানো ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ নেয়রি স্থানীয় জন প্রতিনিদিরাও। নিহত ব্যাক্তিদেও স্বজনদের সরকারের কাছে এখন একটাই দাবী যারা মারা গেছে তাদের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা।

নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২ জুন বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় ১২ টায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সারজা শহরে একটি ফ্যাক্টরীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আগুনে পুরে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে শরীয়তপুরের সদর ও নড়িয়া উপজেলার ৫ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ সকল শ্রমিকদের মৃত্যুর ৮ দিন পার হয়ে গেলেও সরকারীভাবে তাদের কোন রকম খোঁজ নেয়নি জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা। এখনো পরিবার গুলোতে চলছে শোকের মাতম। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে সরকারীভাবে এখনো জানানো হয়নি প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের ভূমিকার কথা। ইউনিয়ন পরিষদের কোন মেম্বার-চেয়ারম্যানও যায়নি ওই সকল পরিবারের কাছে। ফলে এক দিকে যেমন তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উপর অপর দিকে মিডিয়ার কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ভূমিকা রাখতে।।

সদর উপজেলার গ্রামচিকন্দী গ্রামের জয়নাল বেপারীর ছেলে খবির উদ্দিন ২০১২ সালের জুলাই মাসে এবং একই গ্রামের মৃত হোসেন দেওয়ানের ছেলে আলী একাব্বার ২০১২ সালের সালের জানুয়ারী মাসে দুবাই যায়। সুজানদোয়াল গ্রামের ইউছুব আলী মল্লিকের ছেলে আল আমিন ২০০৫ সালে দুবাই পাড়ি জমায়। ৫ বছর আগে মাত্র একবার দেশে এসেছিল। নড়িয়া উপজেলার দুলুখন্ড গ্রামের আব্দুল হামিদ শেখ এর ছেলে জাকির হোসেন শেখ ২০০৭ সালে এবং চাকধ গ্রামের গিয়াস উদ্দিন হাওলাদেরর ছেলে বাচ্চু মিয়া হাওরাদার ২০০৮ সালে দুবাই যায়।

খবিরের ভাই গিয়াস উদ্দিন এবং আলী একাব্বরের ভাই সুলতান দেওয়ান, জাকির হোসেন শেখ এর স্ত্রী পারভীন বেগম, আল আমিনের ভাই খোকন মল্লিক এবং বাচ্চু হাওলাদের ছেলে আশিকুর রহমান (১৪) জানায়, তারা দুবাইতে অবস্থানরত অন্যান্য বাংলাদেশীদের কাছে শুনেছেন তাদের স্বজনদের মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে হিমাগারে রাখা হয়েছে। কিন্ত লাশ দেশে আনার ব্যাপারে সরকার কোন ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে কিনা সে বিষয়ে কেউ তাদের কিছু জানায়নি।

 

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক রাম চন্দ্র দাস বলেন, শনিবার তার সাথে পররাষ্ট্র সচিবের সাথে টেলিফোনে কথা হয়েছে। আরব আমিরাতের সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকার দুই দেশের দুতাবাসের মাধ্যমে ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। একটি সুস্পষ্ট ধারনা পাওয়া গেলেই কেবল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর কাছে এ বিসয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।