ঢাকা

৮ কোটি টাকা ব্যয়ে যাদুঘর নির্মান

বেলাব(নরসিংদী) প্রতিনিধি:আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দূর্গ নগর উয়ারী-বটেশ্বরের সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় কর্তৃক ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বরাদ্দকৃত যাদুঘরের স্থান নির্ধারন নিয়ে টালবাহানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সাংসদ এডঃ নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়নের নির্বাচনী ইসতেয়ার ও বর্তমান সরকারের কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রীদের পূর্ব আশ্বাস অনুযায়ী উক্ত যাদুঘরটি উয়ারী গ্রামে স্থাপনের দাবি জানিয়েছে উয়ারী গ্রামবাসী।

এদিকে গতকাল শনিবার বিকাল ৪ টায় উয়ারী গ্রামের সহস্রাধিক নারী পুরুষ উক্ত যাদুঘরটি উয়ারী গ্রামে স্থাপনের জন্য এক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে এলাকাবাসির স্বাক্ষর সম্বলীত একটি অভিযোগ পত্র স্থানীয় সাংসদ এডঃ নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের কাছে প্রদান করা হয়।বিবরনে জানা যায়, স্থানীয় স্কুল মাষ্টার মরহুম হানিফ পাঠান ও উনার উত্তর সূরী হাবিবুল্লাহ পাঠান কর্তৃক উয়ারী-বটেশ্বর গ্রাম হতে আড়াই হাজার বছর আগের প্রতœতাত্ত্বিক সামগ্রী আবিস্কৃত হয়। পরে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতাত্ত্বিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সুফি মুস্তাফিজুর রহমানের নের্তৃত্বে উয়ারী বটেশ্বর গ্রামে খনন কাজ করে হাজার বছরের আগের চর-সুরকী নির্মিত রাস্তা ও ইট নির্মিত অন্যান্য স্থাপত্য আবিস্কার করেন। যার অধিকাংশই উয়ারী গ্রাম হতে আবিস্কৃত হয়। প্রতœতত্ববিধরা উয়ারী বটেশ্বর গ্রামকে বাংলাদেশের সবচেয়ে পরানো স্থান হিসেবে ঘোষনা দেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এল,জি,আর ডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম,শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী রাজি উদ্দীন আহম্মেদ রাজু,অর্থমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মুহিত,প্রধান মন্ত্রীর উপদেষ্ঠা এস,টি ইমাম উয়ারী- বটেশ্বর গ্রাম পরিদর্শন করে ঘোষনা দিয়ে যান উয়ারী গ্রামে যাদুঘর নির্মান করা হবে। সম্প্রতি সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় হতে উয়ারী-বটেশ্বর গ্রামে যাদুঘর ও অন্যান্য কাজের জন্য ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ আসে। এর মধ্যে ৮ কোটি টাকা দিয়ে অত্র এলাকায় যাদুঘর নির্মানের কথা।

এলাকাবাসির অভিযোগ উক্ত যাদুঘরটি সূফি মোস্তাফিজুর রহমান সহ কিছু স্বার্থন্বেসী মহল উয়ারী গ্রামে নির্মান না করে বটেশ্বর গ্রামে নির্মানের পায়তারা শুরু করছেন। এদিকে যাদুঘর নির্মানের জন্য উয়ারী গ্রাম বাসি জেলা প্রশাসক ওবায়দুল আজমের কাছে ৫ বিঘা জমির ষ্টেম্প করে দিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীর নগন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রততাত্তিবক বিভাগীয় প্রধান সূফি মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, উয়ারী গ্রামে আরো ৪টি যাদুঘর হবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ওবায়দুল আজমকে মোবাইল করলে তিনি ফোন ধরেননী।স্থানীয় সাংসদ এডঃ নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন,আমার নির্বাচনী ইসতেয়ার ছিল উয়ারী গ্রামে যাদুঘর হবে এবং বর্তমান সরকারের অনেক মন্ত্রীও এ এলাকা পরিদর্শন করে বলেছেন যাদুঘর উয়ারী গ্রামেই হবে। উয়ারী গ্রামবাসি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উক্ত যাদুঘরটি উয়ারী গ্রামে নির্মানের দাবি জানিয়েছেন।