আন্তর্জাতিক জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর

২ ডিগ্রির নিচে বিশ্বের তাপমাত্রা রাখার চুক্তি

timthumb.phpহটনিউজ ডেস্ক : বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মতি দিয়ে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে চুক্তি হয়েছে। ২১তম কনফারেন্স অব পার্টিজ বা কপ২১ এ পর গতকাল শনিবার প্রায় ২০০ দেশের প্রতিনিধি এই চুক্তিতে সম্মতি দেন। এই চুক্তির মাধ্যমে সব দেশ প্রথমবারের মতো কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলো বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে এই ঐতিহাসিক চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বের বড় বড় পরিবেশ দূষণকারী দেশগুলোও স্বাগত জানিয়েছে। তবে সেখানে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার জন্য দেশগুলোকে বাধ্য করা যায়-এমন কিছুই নেই এই চুক্তি- এ অভিযোগ করছেন কেউ কেউ। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি যারা কার্বন নিঃসরণ করে তাদের মধ্যে অন্যতম চীন। তারা এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলছে, এটা হবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। তবে দেশটির একজন প্রতিনিধি বলেছেন, এক্ষেত্রে ধনী দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আরও আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব করা প্রয়োজন। তিনি বলছিলেন, চীন জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী একটি উন্নয়নশীল দেশ। চীন তার সক্ষমতা, রাষ্ট্রীয় অবস্থা এসব কিছু বিবেচনায় রেখে, যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে সম্মান করবে এবং পূরণে কাজ করে যাবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলছেন, এই চুক্তি বিশ্ব ও আগামী প্রজন্মের জন্য এক বড় বিজয়। ইউরোপিয় ইউনিয়ন ফ্রান্সের প্রশংসা করে বলেছে, প্যারিসে হামলার কিছুদিনের মধ্যে সারাবিশ্বকে একত্রিত করতে পেরেছে তারা। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া ওলান্দ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এটা এক বিপ্লবের সামিল। তিনি বলছেন, ২০১৫ সালের ১২ই ডিসেম্বর, দিনটি বিশ্বের ইতিহাসে লেখা থাকবে। প্যারিসে গত কয়েক শতাব্দীতে আমরা কয়েকটি বিপ্লব দেখেছি কিন্তু সবচেয়ে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ যে বিপ্লব অর্জিত হয়েছে সেটা হল জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বিপ্লব। তবে ‘গ্লোবাল জাস্টিস নাও’ নামে একটি সংগঠন অভিযোগ করছে এই চুক্তিতে নিরাপদ ও বাসযোগ্য জলবায়ু নিশ্চিত করার জন্য দেশগুলোকে বাধ্য করার মতো প্রায় কিছুই নেই। চুক্তিতে কিছু বিষয় মেনে চলতে বাধ্যবাধকতা এবং কিছু বিষয়ের ক্ষেত্রে নমনীয়তা থাকছে বলে এতে বলা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সাল থেকে কার্বন নিঃসরণের লাগাম টানবে দেশগুলো। এই চুক্তিকে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক অর্থনীতিকে কয়েক দশকের মধ্যে রূপান্তরের জন্য ‘ঐতিহাসিক’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করছেন অনেকে। ৬ বছর আগে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনেও একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন বিশ্ব নেতারা। সূত্র : বিবিসি