খুলনা

‘একটি এনজিওকে বাড়ি ভাড়া দিয়ে বিপাকে পড়েছি আমি’

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি :‘একটি এনজিওকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছি আমি। সেই এনজিও রাতারাতি পালিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এনজিওটির কর্মচারিরা এখন ৬/৭টি মামলা করেছে আমার নামে। ওইসব মামলায় প্রায় ৬ মাস কারাগারে থেকে আমি জামিন পেয়েছি। আমার ছেলে এখনও কারাগারে। ভূয়া এনজিওকে বাড়িভাড়া দিয়ে আজ আমি বিপদগ্রস্ত। অথচ, প্রকৃত অপরাধিরা ধরাছোয়ার বাইরে।’

শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাব চুয়াডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে চুয়াডাঙ্গা শহরের এতিমখানাপাড়ার পাঠান সালেহা আজাদ এসব কথা বলেন। লিখিত বক্তব্য থেকে জানা যায়, গত বছরের ১ মে শহরের এতিমখানা রোডে বিএডিসির সাবেক এক কর্মচারির স্ত্রী পাঠান সালেহা আজাদ তার বাড়িতে ইউনাইটেড সোসাইটি নামের একটি এনজিও বাড়িটি ভাড়া দেন। এনজিওটি অনেককে তাদের অফিসে চাকরি দেয়। পাঠান সালেহ আজাদের ছেলে দেওয়ান সাইদিল হোসেনকেও একই অফিসে চাকরি দেয় এনজিওটি।

এনজিওটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাউল হক ও তার অন্যতম সহযোগি এনজিওটির অপর কর্মকর্তা শামীম রেজা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে রাতারাতি অফিস গুটিয়ে পালিয়ে যায়। অফিসের কর্মচারিরা বাড়ির মালিক পাঠান সালেহ আজাদ ও তার ছেলে দেওয়ান সাইদিল হোসেনের নামে থানায় একাধিক মামলা করে। পুলিশ ওই মামলাগুলোতে গ্রেফতার করে পাঠান সালেহা আজাদ ও তার ছেলে দেওয়ান সাইদিল হোসেনকে।

অতি সম্পতি পাঠান সালেহা আজাদ জামিনে মুক্তিলাভ করেছেন। তার ছেলে এখনো কারারুদ্ধ।

পাঠান সালেহা আজাদ তার লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, ‘আমার তিন ছেলেমেয়ে বেকার। আমার স্বামী বেঁচে না থাকায় আমার কোনো আয়ের উৎস নেই। ওই বাড়িটি ভাড়া দিয়েই আমার সংসার চলে। বাড়িটি দীর্ঘদিন পুলিশ তালা মেরে আটকে রাখায় এখন কোনো ভাড়াটিয়াও নেই। আমি খুবই দুরাবস্থায় পড়েছি। অনাহারে-অর্ধাহারে আমাকে দিন কাটাতে হচ্ছে।’

লিখিত বক্তব্য পাঠ করার সময় ডুকরে কেদে ওঠেন পাঠান সালেহা আজাদ। কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি তার এই বিপদের সময় সাংবাদিকদের পাশে থাকার অনুরোধ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে প্রেসক্লাব সভাপতি মানিক আকবর, সম্পাদক মরিয়ম শেলীসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।