অপরাধ রাজশাহী

ভূমিহীন সুফলভোগীদের ২শ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণমৎস্য ও পশু সম্পদ ফাউন্ডেশনের এমডি সহ কর্মকর্তাতের বিরুদ্ধে দাতা সংস্থাদের দেয়া অনুদানের সুফলভোগী সদস্যদের প্রায় ২শ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এদের কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৭ বছর যাবৎ চালু আছে। বেশ কিছুদিন যাবৎ এই বিষয়টি নিয়ে ভূমিহীন সদস্যদের মধ্যে আন্দোলন, সংগ্রাম ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে । প্রতিকার চেয়ে অর্থ মন্ত্রী সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছে ক্ষতিগ্রস্থরা।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ মৎস্য ও পশু সম্পদ ফাউন্ডেশনের কর্ম এরিয়া সিরাজগঞ্জ জেলাধীন রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছি জয়সাগর খামার, দিনাজপুর জেলাধীন দিনাজপুর খামার, টাঙ্গাইল জেলার এলেঙ্গা এলাকায় যমুনা বরোপিট খামার, কক্সবাজার জেলার চকরিয়া চিংড়ি খামার ও পাবনা জেলাধীন সাথিয়া ও বেড়ায় ক্যাট প্রজেক্ট এর অধিনে ২২টি ইউনিট আছে। এতে প্রায় ৫৫ হাজার সুফলভোগী ভূমিহীন সদস্য রয়েছে। উক্ত ইউনিটের অধিনে গ্রামে গ্রামে ভূমিহীন সুফলভোগীদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য গাভী পালনের উদ্দেশ্যে ২০০০ সালে ইউএনডিপি (দাতা সংস্থা) কর্তৃক এককালীন ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করে। ইউএনডিপি (দাতা সংস্থা) এর শর্তানুযায়ী ওই টাকা সুফলভোগীগণ ঋণ হিসেবে ব্যবহার করে নিজস্ব ফান্ড তৈরী করবে। কিন্তু সুফলভোগীদের ফান্ড তৈরী হওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মকর্তারা উক্ত ফান্ড সুফলভোগীদের না জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষরে বিভিন্ন ব্যাংকে অবৈধ ভাবে এফডিআর করে রাখে । প্রতিটি ইউনিটের অধিনে যে সকল সুফলভোগী আছে তাদের উক্ত ফান্ডের টাকা ইউনিটের জেনারেল লেজারে নিম্নোক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ আছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা বিনসাড়া মুক্তাহার ইউনিটের ২৫০৪/১,২৫০৪/২, ৩১০১, ৩৫১২, ৩৫১৩ কোডে সুফলভোগী সদস্যদের ইউএনডিপির অনুদান ৬৭ লাখ ৫০ হাজার, সুদের হার (২৫%) ৫৫ লাখ ৫০ হাজার, সদস্যদের ব্যক্তিগত সঞ্চয় ৫ লাখ, গাভী ক্রয়ের সময় বীমা কর্তন শুরু হতে এ পর্যন্ত ৬০ লাখ ও গাভী ক্রয়ের ২.৫%, প্রতিলিটার দুধের ৩০ পয়সা এবং অন্যান্য বাবদ সর্বমোট ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা থাকার কথা।

কিন্তু উক্ত টাকা পর্যায়ক্রমে ইউনিট হতে প্রাক্তন খামার ব্যবস্থাপক মোঃ আক্তার হামিদের মাধ্যমে স্থানান্তর করে এফডিআর করা হয়। এফডিআর এর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর আবারও সুদাসলসহ উক্ত টাকা পুনরায় এফডিআর করা হয়। যা ইউএনডিপির (দাতা সংস্থা) শর্ত ভঙ্গ ও মানি লন্ডারিং এর সামিল। এভাবে ২২টি ইউনিটের সদস্যদের/সুফলভোগীদের ফান্ডে জমানো টাকা খামার অফিসে স্থানান্তর করে এফডিআর ম্যাচুরিটি হওয়ার পর সুফলভোগীদের টাকার পরিমান দাড়ায় সিরাজগঞ্জ জেলাধীন তাড়াশের কুঞ্জবন ইউনিটে ৪ কোটি, মাধাইনগর ইউনিটে ৭ কোটি, পাঁচতারা গুড়পিপুল ইউনিটে ৪ কোটি ৫০ লাখ মুক্তাহার ইউনিটে ৬ কোটি, নওগাঁ ইউনিটে ৭ কোটি, রায়গঞ্জের নিমগাছি জয়সাগর ইউনিটে ৭ কোটি, উল্লাপাড়ার মোহনপুর ইউনিটে ৩ কোটি, শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি ইউনিটে ২ কোটি, পাবনা জেলাধীন চাটমোহর ইউনিটে ৪ কোটি, মধুকর ইউনিটে ২ কোটি, ভাংগুড়া ইউনিটে ১ কোটি, সাথিয়া ইউনিটে ১৮ কোটি, কুড়িগ্রামের চিলমারি ইউনিটে ৮ কোটি, বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম ইউনিটে ৪ কোটি, দিনাজপুর জেলার দেউলি ইউনিটে ৪ কোটি, শুকসাগর ইউনিটে ৫ কোটি ৫০ লাখ, রামরাই ইউনিটে ৪ কোটি ৫০ লাখ, ভিতবাড়ি ইউনিটে ৫ কোটি, পুলহাট ইউনিটে ২ কোটি ৫০ লাখ, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা ইউনিটে ৯ কোটি, নলকা ইউনিটে ৭ কোটি ৫ লাখ এবং কক্সবাজারের চকরিয়া ইউনিটে ১৫ কোটি টাকা সহ সর্বমোট ১৩০ কোটি টাকা। ইহা ছাড়াও ১৯৯৮ সালে ডিএফআইডি (দাতা সংস্থা) কর্তৃক সুফলভোগীদের বন্যা দূর্গতদের জন্য এককালীন ১৩ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করে। উক্ত টাকা সুফলভোগীদের না দিয়ে ১৪ বছরের মেয়াদে এফডিআর করা হলে তা (১৩কোটিদ্ধ৪)=৫২ কোটিতে দাড়িয়েছে। তাছাড়া সুফলভোগীদের দুধ মিলের বোনাস ও গোখাদ্য মিলের লভ্যাংশ প্রতি বছর দেয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা সদস্যদের ফেরৎ দেয়া হয়নি। যার হিসাব খামার অফিস গুলোতে একাউন্স সেকশনে লিপিবদ্ধ আছে। প্রতি ইউনিটের টাকা কোথায় কোন ব্যাংকে এফডিআর করা হয়েছে, তা স্ব স্ব খামারের একাউন্সে হিসাব আছে। সব মিলিয়ে গ্রামীণ মৎস্য ও পশুসম্পদ ফাউন্ডেশন এর নিকট সদস্য/সুফলভোগীদের পাওনা দাড়ায় প্রায় ১৯৮ কোটি টাকা। উক্ত টাকা সুফলভোগীদের ২০০০ সালের ইউএনডিপি (দাতা সংস্থা) কর্তৃক সুফলভোগীদের সাথে ইউএনডিপির (দাতা সংস্থা) এর চুক্তি অনুযায়ী ১৯৮ কোটি টাকা সুফলভোগীদের ফেরৎ দিলে সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় মিল কারখানা সহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করতে সক্ষম হবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কতিপয় অসাধু লোক সদস্যদের টাকা ফেরৎ না দিয়ে তা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছেন বলে সুফলভোগীরা অভিযোগ করেছেন। আত্মসাৎকারীদের মধ্যে গ্রামীণ মৎস্য ও পশু সম্পদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসানুল বারী, উপ-মহাব্যবস্থাপক বদরুল আলম, সহকারী-মহাব্যবস্থাপক আবুল কাশেম, নিমগাছি খামার ব্যবস্থাপক মোঃ মোতাহার হোসেন, দিনাজপুর খামার ব্যবস্থাপক আশিষ কুমার মিশ্র, বরোপিট খামার ব্যবস্থাপক মোঃ নজরুল ইসলাম, নিমগাছি খামারের আরএম নূর-মোহাম্মদ ও তাড়াশের আরএম আজিজুর রহমান অন্যতম। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট অফিস ও একাধিক সুফলভোগী সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। সুফলভোগী সদস্যরা তাদের পাওনা টাকা ফেরৎ ও আত্মসাৎকারীতের শাস্তির দাবীতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন, ও সংগ্রাম করে আসছে। এমনকি এ ব্যাপারে তারা (সুফলভোগী সদস্য) অর্থ মন্ত্রী সহ এ সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে অভিযুক্তরা রাজী হয়নি ।