অপরাধ ঢাকা ফরিদপুর শিক্ষাঙ্গন

জয়পাশা স্কুলে চুরি, কর্তৃপক্ষের রহস্যময় নিরবতা

indexলিটু সিকদার, বোয়ালমারী (ফরিদপুর) সংবাদদাতাঃ  উপজেলার পরমেশ্বরর্দী ইউনিয়নের জয়পাশা সৈয়দ ফজলুল হক একাডেমীতে এক রহস্যজনক চুরি সংগঠিত হয়েছে। আর এ ঘটনায় লুকোচুরি খেলা খেলছে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ পরিচালনা পর্ষদ। বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, ২৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার যথা নিয়মে বিদ্যালয় ছুটির আগেই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। অন্যান্ন শিক্ষক ও সহকারী ও দপ্তরী ছুটির পর সমস্ত কক্ষে তালা দিয়ে চলে যান। পরবর্তী কার্য্যদিবস ২৮ নভেম্বর শনিবারে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ মামুন মিয়া সকালে এস এস সি পরিক্ষার্থীদের কোচিং দেওয়ার জন্য বাহিরের ফটক খুলে ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলে তিনি সহ ছাত্ররা প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে তালা ভাঙ্গা দেখতে পেয়ে দফতরীকে খবর দেয় এবং প্রধান শিক্ষককে অবহিত করে। এসময় কক্ষে রক্ষিত তিনটি ষ্টিলের আলমারী ভাঙ্গা ও তছনছ দেখতে পায়। এঘটনায় প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে খোয়া যাওয়া ১টি সরকারী ল্যাপটপ, নগদ ৯ হাজার টাকা, ফাইন্যাল পরিক্ষার প্রশ্নপত্র, কম্পিউটারের কিছু মালামাল চুরি গেছে মর্মে বোয়ালমারী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। এ সময় পুলিশ বিদ্যালয়ের দপ্তর মো. সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন ও হারান চন্দ্র দাসকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেন। বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায় চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার হয়েছে রহস্যজনক ভাবে। গত ২৯ নভেম্বর রবিবার বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মামুন মিয়ার ব্যক্তিগত মোবাইল ০১৮১১৭৯১০৭১ নম্বরে অজ্ঞাত নম্বর থেকে অপরিচিত মহিলার ফোন আসে। আর তা থেকেই চোরাই মালের সন্ধান পান ওই শিক্ষক। সাথে সাথে প্রধান শিক্ষককে অবগত করে স্থাণীয় চৌকিদার ও দফাদার নিয়ে জয়পাশা গ্রামের পশ্চিম পাড়ার হালিম (কারিকর) চৌধুরীর ছেলে ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র মিলন (কারিকর) চৌধুরীর ঘরের বাক্স ভেঙ্গে চোরাই মালামাল উদ্ধার করে। শিক্ষক মো. মামুন মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। চুরি এবং মালামাল উদ্ধারের বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষকের  অফিস কক্ষে গেলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি স্থাণীয় ভাবে মিমাংশার চেষ্টা চলছে। যেহেতু প্রকৃত চোরের বাড়ী থেকে মালামাল উদ্ধার হওয়ায় কাউকে আসামী করে মামলা হয়েছে কিনা, ফোনে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন, এবং বলেন আপনারা থানায় গিয়ে খোজ নেন, ভালো জানতে পারবেন। সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, চোর মিলন এবং প্রধান শিক্ষকের ভাতিজা লিমনের গভীর বন্ধুত্ত্ব থাকার কারনে ঘটনাটি ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারা বেগম হাসি। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।