খুলনা জাতীয় যশোর

১৭ বছরেও সাংবাদিক মুকুল হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি

unnamedযশোর থেকে আব্দুল ওয়াহাব মুকুল: সতেরো বছরেও যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক রানার সম্পাদক আর এম সাইফুল আলম মুকুল হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি। ১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট রাত ১০ টার দিকে শহর থেকে বাসায় ফেরার পথে তিনি দুর্বৃত্তদের নিক্ষিপ্ত বোমায় নিহত হন। পরের দিন নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার শিরিন কোতয়ালি থানায় অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নাটকীয় চার্জশীটের ফলে মামলার ভবিষৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দুই আসামি পৃথকভাবে হাইকোর্টের শরনাপন্ন হয়ে মামলা স্থগিত করতে সক্ষম হয়।
আদালত সূত্র জানা গেছে, সাইফুল আলম মুকুল হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইড যশোর জোনের তৎকালীন এএসপি দুলাল উদ্দিন আকন্দ তদন্ত শেষে ২২জনকে অভিযুক্ত করে ১৯৯৯ সালের ২৫ এপ্রিল প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রে গোলাম রহমানের আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। আসামিদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পাটির পলিট ব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদও ছিলেন। মামলার বাদী এ চার্জশীটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি পিটিশন দেন। এক পর্যায়ে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলা কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
মামলার বাদী প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে প্রায় দুই বছর পর আবার মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। ২০০৫ সালের পর যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ শফিকুল ইসলামের আদালতে হত্যা মামলার চার্জ গঠন করা হয়। এই দিন সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামসহ দুই আসামিকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এরপর আদালতের নির্দেশে সিআইডি যশোর জোনের তৎকালীন এএসপি মাওলা বক্স অধিকতর তদন্ত করেন। ২০০৫ সালের ২১ ডিসেম্বর তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার ফারাজী আজমল হোসেনসহ দুইজনকে নতুন করে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করেন। পরবর্তীতে দুইজন আসামি হাইকোর্টের শরনাপন্ন হয়ে মামলাটি স্থগিত করতে সক্ষম হন। পরে আর মামলার অগ্রগতি হয়নি।
হত্যাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের সাংবাদিক সমাজ নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। প্রেসক্লাব, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর পুষ্পার্ঘ অর্পণ, স্মৃতিচারণ, দোওয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।