জাতীয়

হোটেল ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষের কাছে রেশমা

Rasma20130605234728 (1)সাভার (ঢাকা): সাভারে রানা প্লাজা ধসের ১৭ দিন পর জীবিত উদ্ধার হন বিস্ময়কন্যা রেশমা। দীর্ঘ ২৭ দিন সাভার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।

অবশেষে বৃহস্পতিবার ঢাকার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পাঁচ তারকা হোটেল ওয়েস্টিনে পাবলিক এরিয়া অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যোগ দিচ্ছেন রেশমা।

এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় সাভার সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের আঙিনায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রেশমাকে হোটেল ওয়েস্টিনের জেনারেল ম্যানেজার আজিম শাহ’র কাছে বুঝিয়ে দেন সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বীর বিক্রম।

বিকেল ৩টায় রেশমা কাজে দেবেন বলে জানা গেছে।

জিওসি সারওয়ার্দী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেশমাকে চাকরি দেওয়ার জন্য হোটেল সোনারগাঁও এবং হোটেল ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে অফিসিয়ালি আবেদন জানায়। পরে রেশমা ও তার পরিবারের লোকজন হোটেল ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা মনঃপূত হওয়ায় তাকে হোটেল ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হলো।”
এ বিষয়ে হোটেল ওয়েস্টিনের জেনারেল ম্যানেজার আজিম শাহ বলেন, “আমরা রেশমাকে আমাদের হোটেলের এরিয়া অ্যাম্বাসেডর হিসেবে পেয়ে অত্যন্ত গর্বিত। আমরা তার যোগদানের মধ্য দিয়ে উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।”
রেশমার বেতন-ভাতা সম্পর্কে তিনি বলেন, “তার পরিবার সচ্ছলভাবে চলতে যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন হবে, হোটেল কর্তৃপক্ষ তা পূরণ করবে। পাঁচ তারকা হোটেলের আন্তর্জাতিক মানের বেতন-ভাতাই তাকে প্রদান করা হবে।”
এসময় রেশমা তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একটি প্যাকেটে পাওয়া ৪ পিছ বিস্কুট ও আধা বোতল পানি খেয়ে কখনো ভাবিনি আর জীবিত ফিরতে পারবো।”

তিনি বলেন, “আল্লাহার অশেষ রহমতে ও উদ্ধারকর্মীদের চেষ্টায় আমি আজ নতুন জীবন পেয়েছি। তাই আমি দেশবাসীসহ সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সবার কাছে।”

সবশেষে রেশমা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তার ইচ্ছার কথা জানিয়ে বলেন, “আমি আমার নিজের জন্য চিন্তা করি না। আমার দু’টি ভাই আছে, যারা অত্যন্ত কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আমার ভাইদের একটি করে ভালো চাকরি দেন তাহলে কৃতার্থ হবো।”

উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে কয়েক হাজার শ্রমিক। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীসহ বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থার লোকজন এবং জনসাধারণের সহযোগিতায় উদ্ধার কাজ শুরু হয়।

উদ্ধারের সময় শাহীনা নামের এক শ্রমিককে দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টা প্রাণান্তর চেষ্টা চালিয়েও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ধ্বংসস্তূপ থেকে যখন জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ, তখন জিওসির নির্দেশে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়।

১৭ দিন উদ্ধার কাজ চালানোর পর ১০ মে অলৌকিকভাবে বিস্ময়কন্যা রেশমাকে জীবিত উদ্ধারের পর আনন্দে আবেগ‍াপ্লুত পুরো দেশবাসী।

এ খবর শুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেশমাকে দেখার জন্য সাভার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ছুটে আসেন ওইদিনই। তিনি রেশমার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।

এর পর দীর্ঘ ২৭ দিন সাভার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞের বিশেষ তত্ত্বাবধানে সুচিকিৎসার মাধ্যমে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন রেশমা।
প্রসঙ্গত, সাভার ট্রাজেডিতে ১১২৭ জন নিহত হন। জীবিত উদ্ধার করা হয় ২৪৩৮ জনকে।