জাতীয় ঢাকা হটনিউজ স্পেশাল

দুবাই প্রবাসী নিহত ৫ বাংলাদেশী শ্রমিকের শরীয়তপুরের বাড়ী

 

মোঃ বোরহান উদ্দিন রব্বানী, শরীয়তপুর: সংযুক্ত আরব আমিরাতের সারজা শহরে একটি ক্যামিক্যাল ফ্যাক্টরীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে শরীয়তপুরের সদর ও নড়িয়া উপজেলার ৫ শ্রমিকের মৃত্যু বরনের খবর আসে স্বজনদের কাছে। বিদেশের মাটিতে স্বামী, সন্তান, পিতা হাড়িয়ে এখন পাগল প্রায় পরিবারের সদস্যরা। নিহত ব্যাক্তিদের বাড়িতে বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তারা নিহত স্বজনদের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন সরকারের কাছে।

জেলা প্রশাসক বলছেন, ঘটনা শোনার পর আমরা দুতাবসের সাথে কথা বলেছি। বিষয়টি তারা এখনও জানে না।

 

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীর সারজা শহরেরর দশ নম্বর নামক স্থানে একটি ক্যামিকেল ফ্যাক্টরীতে গত ২ জুন রোববার স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ১০ টায় (বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় ১২ টা) গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় ফ্যাক্টরীতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের বেশ কিছু শ্রমিক হতাহত হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার উত্তর গ্রাম চিকন্দী গ্রামের জয়নাল বেপারীর ছেলে খবির উদ্দিন বেপারী, একই গ্রামের হোসেন দেওয়ানের ছেলে মোঃ আলী একাব্বর দেওয়ান, সুজান দোয়াল গ্রামের ইউসুফ আলী মল্লিকের ছেলে আল আমীন মল্লিক, নড়িয়া উপজেলার দুলুখন্ড গ্রামের আব্দুল হামিদ শেখ এর ছেলে জাকির হোসেন শেখ ও চাকধ গ্রামের রিক্সা চালক গিয়াস উদ্দিন হাওলাদারে ছেলে বাচ্চু হাওলাদার।

খবির উদ্দিন ২০১২ সালের জুলাই মাসে মাত্র ১১ মাস পূর্বে ৩ লক্ষ টাকা ব্যায় করে দুবাই যায়। একটি হত দরিদ্র পরিবারের ৪ ভাইয়ের সবার ছোট খবির। খবিরের ৩ বছরের একমাত্র পূত্র সন্তান রাকিব ও স্ত্রী রতœা আক্তার সহ বৃদ্ধা মা ও অন্যান্য ভাই-বোন বাড়িতে রয়েছে। আলী একাব্বর ২০১২ সালের জানুয়ারী মাসে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা ব্যয় করে সারজা যায়। সে ৫ ভায়ের মধ্যে ৪র্থ। সে বিয়ে করেনি। তার স্বজনেরা জানায় সারজা যাবার পর আলী একাব্বর ৩ মাস কোন কাজ পায়নি। সে না খেয়ে থেকে মসজিদে মসজিদে ঘুমিয়েছে। আল আমীন মল্লিক ২০০৫ সালে ৮ বছর পূর্বে সারজা যায়। সে ৩ বছর আগে এক বার দেশে এসেছিল। আগামী রমজানের ঈদে দেশে এসে আল আমীনের বিয়ে করার কথা ছিল। জাকির হোসেন শেখ ২০০৭ সালে দুবাই যায়। ১১ বছর পূর্বে সে বিয়ে করে। বাড়িতে তার ৩য় শ্রেণীতে পড়–য়া একমাত্র কন্যা ইতি ও স্ত্রী পারভীন সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা রয়েছেন। হতদরিদ্র গিয়াস উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে বাচ্চু হাওলাদার ২০০৮ সালে আবুধাবি যায়। যাওয়ার পর আর দেশে ফিরেনি। তার ছেলে আশিকুর রহমান ১০ম শ্রেনীতে এবং মেয়ে সুমাইয়া ২য় শেনীতে পড়ছে। স্ত্রী রিজিয়া এখনো মানুষের বাড়িতে ঝি’র কাজ করে।

নিহতদের স্বজনেরা সকলেই বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোর মিনতি জানিয়েছেন সকলের মরদেহ সরকারী ব্যবস্থাপনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার। নিহত জাকির শেখ এর বড় ভাই আমির হোসেন শেখ বলেন, আমার ছোটভাই জাকির দীর্ঘ ৬ বছর আগে বৈধভাবে চাকুরী নিয়ে দুবাইতে যায়। সেখানে ৩ বছর চাকুরী করার পর সে অবৈধ হয়ে যায়। এ কারনে সে বাড়ি আসতে পারেনি। বর্তমানে একটি ক্যামিক্যাল কোম্পানীতে চাকুরী করতো।সোমবার রাতে আমার এক ভাতিজা সালাউদ্দিন ফোনে জানায় আগুন লেগে জাকির মারা গেছে। আমারা গরীব মানুষ । কিভাবে আমার ভাইয়ের লাশ দেশে আনবো। তাই ভাইয়ের লাশ দেশে আনতে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা চাই। নিহত আল আমিন মল্লিকের বড়ভাই শাহজাহান মল্লিক বলেন,দীর্ঘ ৯বছর যাবত আল আমিন দুবাই ছিল । মাঝখানে গত রমজানে বাড়ি এসে চলে যায়। ফোনে বলেছিল এবার রমজানে বাড়ি এসে বিয়ে করবে। তার জন্য পাত্রি দেখে রাখতে। গত সোমবার আমার চাচাত ভাই কালাম মল্লিক সেখান থেকে ফোনে জানায় আল আমিন যে কারখানায় কাজ করে সেখানে আগুন লেগেছে। আল আমিনের কোজ নেই। এরপর খোজ খবর নিয়ে জানা যায় সে মারা গেছে।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক রামচন্দ্র দাস বলেন,ঘটনাটি শোনার পর পরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে দুতাবাসের সাথে কথা বলা হয়েছে। তারা এখনো বিষয়টি জানেনা। তারা জেনে আমাদের কে জানালে প্রয়োজণীয় পদক্ষেপ নিব।