খুলনা জাতীয় স্বাস্থ্য

দৌলতপুর হাসপাতালে ফাটল ঝুকিতে রোগী ও চিকিৎসকরা

কাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া:কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ৫০ শয্যা হাসপাতালের সম্প্রসারিত ভবনের সর্বত্র অসংখ্য ফাটলের সৃষ্টি হওয়ায় হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও রোগীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নির্মাণের মাত্র ৫ বছরের মাথায় এরকম ফাটল ধরায় ঠিকাদারের নির্মাণ ক্রটিকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দৌলতপুর হাসপাতালে ফাটলের সৃষ্টি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও রোগীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করলেও কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন কে এ বিষয়ে অবগত না করায় অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে সম্প্রসারিত দৌলতপুর হাসপাতালের এ ভবনে অপারেশন থিয়েটার, প্রসুতিবিভাগ, শিশু পুষ্টি ইউনিট, ব্রেষ্ট ফিডিং রুম, কাউন্সিলিং রুম, ইপিআই রুম, ষ্টোর রুম, টিকাদান কেন্দ্র, চিকিৎসকদের চেম্বার, বহির্বিভাগ সহ রোগীদের অপেক্ষাগার রয়েছে। হাসপাতালের এ সকল গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ সমুহ ভবনটিতে থাকলেও ভবনের প্রতিটি অংশে অসংখ্য ফাটলের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিমুহুর্তে জীবনের ঝুকি নিয়ে চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছেন আর রোগীরাও ঝুকির মধ্যে আতংকগ্রস্থ হয়ে সেই সেবা গ্রহণ করছেন। জানা যায়, ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নতিকরণ ডব্লিও-২০২ এন-সিএমএমইউ প্রকল্পের আওতায় ভবনটি নির্মাণের জন্য মেসার্স মাহরিন কন্সট্র্রাকশন ২০০৫ সালের ২১ জুন কার্যাদেশ পায়। এরপর ২০০৮ সালের ২২ এপ্রিল ঠিকাদার হাসপাতাল কতৃপক্ষের নিকট ভবনটি হস্তাস্তর করে। ঐ বছর ২৫ এপ্রিল ভবনটিতে ৫০ শয্যা হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার, প্রসুতিবিভাগ, ষ্টোর রুম, টিকাদান কেন্দ্র, চিকিৎসকদের চেম্বার, বহির্বিভাগ সহ রোগীদের অপেক্ষাগারসহ বিভিন্ন ইউনিট স্থানান্তর করা হয়। মাত্র ৫ বছরের মাথায় ভবনটিতে অতির্ক্তি ফাটলের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, ঠিকাদারের মাত্রতিরিক্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলেই এ অবস্থার সৃষ্টি। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, অপারেশন থিয়েটার সহ সকল স্থানে ফাটল ধরায় যে কোন সময় ভবনটি ধ্বসে পড়ার আশংকায় আমরা আতংকিত দৌলতপুর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: নাজিম উদ্দিন জানান, আমার চেম্বারে চর্তুদিকে ফাটল দেখা দেয়ায় চরম ঝুকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছি। টিএইচএ ডাঃ সালেহ আহমেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি । এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ তরুন কান্তি হালদার জানান, দৌলতপুর হাসপাতালে ফাটলের বিষটি আমার দৃষ্টি গোচরে আসেনি। তিনি বলেন, ফাটল দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।