জাতীয় বরিশাল হটনিউজ স্পেশাল

নির্মাণের একমাস না যেতেই কুয়াকাটাগামী মহাসড়ক বিধ্বস্ত

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া: কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের শেষপ্রান্তের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ মাত্র এক মাস আগে সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে ওই অংশের সিলকোট উঠে খানাখন্দ হয়ে গেছে। রাস্তার দুইপাশ ভেঙ্গে দেবে গেছে। এখনই চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে সড়কটির কাজ করা হয়েছে। দুই পাশে মাটি দিয়ে যথাযথভাবে ভরাট না করার কারণে নির্মাণের এক মাস না যেতেই সড়কটির এমন ভগ্নদশা হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা সদর থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়কের নীলগঞ্জ ফেরিঘাট থেকে পাখিমারা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এবং আলীপুর বন্দর থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সাড়ে চার কিমি অংশের নির্মাণ কাজ করে আসছেন মাহফুজ খান নামের একজন ঠিকাদার। এজন্য পাখিমারা অংশের জন্য নয় কোটি ১০ লাখ নয় হাজার ৫২৩ টাকা এবং আলীপুর কুয়াকাটা অংশের জন্য আট কোটি ৫৭ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৪ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ২০১০ সালের ৭ ডিসেম্বর কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর কাজটি শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু আলীপুর থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত পৌনে পাঁচ কিমি অংশের কাজে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে যথাযথভাবে মাটি দেয়া হয়নি। এমনকি স্থানীয় পর্যায়ের ্আওয়ামীলীগের কয়েক নেতাকে ম্যানেজ করে পাবলিকের মাটি জোর করে কেটে নেয়া হয়েছে। কোন টাকা দেয়া হয় নি। তারপরও কুয়াকাটা সৈকত পর্যন্ত শেষ দুই কিলোমিটার অংশে দুই পাশে মাটি দেয়া হয়েছে নামে মাত্র। ফলে নির্মাণের একমাস না যেতেই সড়কটি ভেঙ্গে খাঁদে বিলীন হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পটুয়াখালী জেলা সদর থেকে কুয়াকাটায় যেতে ৭০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার মহাসড়কের ওই দুই কিলোমিটার ছাড়া সম্পুর্ণ পথ খুবই ভাল। নির্বিঘেœ চলাচল করছে সকল যানবাহন। বর্তমানে ফের খানাখন্দের পাশাপাশি দুইদিক দিয়ে রাস্তার এজিংসহ মুল সড়ক ভেঙ্গে পাশের খাদে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে ফের রাস্তায় চলাচলে নতুন করে দুর্ভোগের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চালকরা। এব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের একাধিক প্রকৌশলীরা জানান, সড়কটির নির্মান কাজ এখন পর্যন্ত শেষ হয় নি। পরিপুর্ণভাবে শেষ হলেই বিল পরিশোধ করা হবে। তাই খারাপ হওয়া অংশের কাজ দ্রুত সম্পন্নের কাজ চলছে। তবে স্থানীয় লোকজন জানান, সড়কটির কাজ করা হয়েছে নি¤œমানের তাই এই অবস্থা হয়েছে।