অপরাধ বরিশাল হটনিউজ স্পেশাল

পুলিশের ঘুষবাণিজ্যে পর্যটক প্রেমিক যুগল ২০ ঘন্টা থানাহাজতে

নিজস্ব সংবাদদাতা: কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাড়ির এএসআই কবির ও কথিত ক্যাশিয়ার দীপকের চরম হয়রাণী ও ষড়যন্ত্রের কারনে এক রাত একদিন থানা হাজতে কাটাতে হয়েছে এক পর্যটক প্রেমিক যুগলকে। শুধুমাত্র দুই পুলিশের চাদাবাজির খায়েশ মেটাতে কুয়াকাটায় ভ্রমনে এসে এমন অমানকি লাঞ্চনার শিকার হয়েছেন তারা। মঙ্গলবার গভীর রাতে আবাসিক হোটেল সৈকতে অবস্থানকালে ওই পুলিশদ্বয় হোটেল কর্তৃপক্ষকে অবহিত না চোরের মতো বাইরে থেকে মই লাগিয়ে দোতলায় গিয়ে কক্ষ খুলে পর্যটক যুগলকে স্বামী-স্ত্রী কি না তা জানতে অশোভন আচরণ করে। এক পর্যায়ে তাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা না পেয়ে পর্যটক আরিফুর রহমান ও সুমিকে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আটক রাখা হয়। রাতভর আটকের পরে ২২ কিলোমিটার দুরে কলাপাড়া থানায় সোপর্দ করা হয়। পরে বুধবার রাতে কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) হানিফ শিকদার পর্যটক যুগলের অভিভাবকদের ডেকে তাদের কাছে উভয়কে হস্তান্তর করেন। এঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা হানিফ শিকদার দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এদিকে হোটেল কক্ষে চোরের মতো প্রবেশ করে পর্যটক হয়রাণীর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি পর্যটন এলাকার সুনাম ক্ষুন্নের জন্য পুলিশ একটি দালালচক্রের যোগসাজশে এমন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।
হোটেল সৈকতের মালিক শেখ জিয়াউর রহমান জানান, রাত ২টার দিকে ফাঁড়ির বকসি কনেস্টবল দীপক মই এনে হোটেলের দোতালায় উঠে সব লাইট বন্ধ করে ওই পর্যটকদের কক্ষ খুলে তাদের আটক করে বের হওয়ার সময় আমার হোটেল বয়দের বকাঝকা করে তাদের নিয়ে যায়। তিনি আরো জানান, দীপক একজন কনেস্টবল হয়েও এখানে এসে তাদের কাছে অফিসার পরিচয় দিয়েছে। এই ঘটনায় তিনি হতবাক বনে গেছেন।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন সাধারন সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, কোন রকম ইনফর্মেশন ছাড়া মামলা ছাড়া হোটেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এভাবে যদি পর্যটক হয়রানী করে তবে কুয়াকাটা শেষ হয়ে যাবে। কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সঞ্জয় জানান, আমি আগে বিষয়টি শুনিনি পরে শুনে সেখানে গিয়েছি। এই ঘটনায় গোটা কুয়াকাটা হোটেল মালিক ও পর্যটকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।