জাতীয় ঢাকা সারাদেশ হটনিউজ স্পেশাল

দুবাই প্রবাসী নিহত ৫ বাংলাদেশী শ্রমিকের বাড়ী শরীয়তপুর

শরীয়তপুর সংবাদদাতা :আরব আমিরাতের ওয়ার্কসপে কাজ করার সময় ৫ জন বাংলাদেশী শ্রমিক অগ্নিকান্ডে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ২ জনের বাড়ী সদর উপজেলার ৩ জনের বাড়ী নড়িয়া উপজেলায়। মৃত্যুর খবর পেয়ে তাদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পুলিশ বলছেন,লোকমুখে শুনেছি। কিন্তু আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই।

নিহত বাচ্চু হাওলাদারের ভাই নাছির উদ্দিন হাওলাদার জানায়, দীর্ঘ সাড়ে ৪ বছর পূর্বে তার ভাই বাচ্চু হাওলাদার শ্রমিকের চাকরী নিয়ে কুয়েত যান। গত রোববার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় একটি ওয়ার্কসপে কয়েকজন বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করছিল। এ সময় গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরন ঘটলে কয়েকজন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। তাদের শারজায় অবস্থিত আল-কাশমির হাসপাতাল ও কুয়েতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েকজন শ্রমিক মারা যায়। এদের মধ্যে রয়েছে শরীয়তপুরের ৫ জন শ্রমিক। নিহত শ্রমিকরা হলেন, নড়িয়া উপজেলার চাকধ গ্রামের গিয়াস উদ্দিন হাওলাদারের পুত্র বাচ্চু হাওলাদার (৩৬),একই উপজেলার দুলখন্ড গ্রামের আব্দুল হমিদ শেখের পুত্র জাকির হোসেন শেখ(৩২), শরীয়তপুর সদর উপজেলার সুজন দোয়াল গ্রামের ইউসুফ আলী মল্লিকের পুত্র আল-আমিন মল্লিক (৩০),উত্তর গ্রামচিকন্দি গ্রামের জয়নাল বেপারীর পুত্র খবির বেপারী (২৫) ও একই গ্রামের মৃত হোসেন আলী দেওয়ানের পুত্র মোহাম্মদ আলী দেওয়ান (২৫)। সহায় সম্বল বিক্রি করে রোজগারের জন্য সন্তানকে বিদেশে পাঠায়। একমাত্র উপার্জনকারী সন্তাননের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাদের গ্রামের বাড়ীতে বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।এছাড়াও কুয়েতী হাসপাতালে মুমুর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার দেওভোগ গ্রামের বিমল চন্দ্র ও চরডোমসার গ্রামের নুর মোহাম্মদ মোল্যার পুত্র মনির হোসেন। নিহত বাচ্চু হাওলাদারের বাড়ী গিয়ে তার মা চিনু বেগম ছেলের মৃত্যু খবর শুনে বার বার মূর্চ্ছা যাচ্ছে। সেখানে এক হদয় বিদারক ঘটনার অবতারনা হয়।

নিহতের ভাই নাছির হাওলাদার বলেন, আমার ভাই বাচ্চু হাওলাদারের সাথে আরব আমিরাতে একই রুমে থাকে বাংলাদেশী ওসমান ও কুদ্দুস আমাকে ফোন করে নিহত ৫ জনে নাম ঠিকানা জানায়। এর মধ্যে আমার ভাই বাচ্চুকে ফোন করার পর মোবাইল বন্ধ পাই। মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর মালিক বলে জীবিত আছে। কিন্তু কাউকে দেখতে দিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে পালং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রবিউল আলম ও নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের ফকির বলেন, আমরা লোক মুখে শুনেছি বিদেশে লোক মারা গেছে।কে মারা গেছে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই।