অপরাধ রাজশাহী শিক্ষাঙ্গন

৩ শিক্ষককে অবৈধ নিয়োগের অভিযোগে

মোঃ মাহফুজ আলম মুনী, নাটোর থেকে:নাটোরের বড়াইগ্রামের কৈডিমা উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটিকে না জানিয়ে ঘুষ নিয়ে ৩ শিক্ষককে নিয়োগ দানের অভিযোগে স্কুল কমিটির সভাপতি স্থানীয় এমপি আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছে স্কুলের নির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা। এদিকে এমপির সাথে যোগসাজস করে বিদ্যালয়ে তিনজনকে গোপনে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগে বুধবার সকালে প্রধান শিক্ষক মহসিন আলীকে স্কুলে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ গেলে কমিটির সদস্যরা জানান. প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ নয় অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের জন্য তাকে নিয়ে কমিটির সভা চলছে। বুধবার সকালে এই ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এ ব্যাপারে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে মিটিং চলছিল। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি আব্দুস সাত্তার সেলিম জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগসাজসে সম্প্রতি ১৫-১৮ লক্ষ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটিকে না জানিয়ে গোপনে স্থানীয় একটি দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ কমিটি গঠন করে নাটোর সার্কিট হাউসে গত ২জুন গোপনে নিয়োগ পরীক্ষা নেন। এ ব্যাপারে কমিটির অপর সদস্যদের নিয়ে কোন মিটিং বা কাউকেই কোন তথ্য না জানিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আক্কাস আলীকে সহকারী প্রধান শিক্ষক, আকরাম হোসেন টুকুকে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) এবং স্থানীয় কৈডিমা এলাকার ছাত্রলীগ কর্মী শাহ আলমকে সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) হিসেবে নিয়োগ দেন। বিষয়টি জানতে পেরে কমিটির অন্য সদস্যরা নোটিশের মাধ্যমে বুধবার সকালে স্কুলে জরুরী মিটিং ডেকে প্রধান শিক্ষককে নিয়োগের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে না পারায় কমিটির সদস্য ও স্থানীয়রা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। পরে তারা ওই বৈঠকে স্কুলের সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে নিয়োগ বাতিলের প্রস্তবনা পাশ করেন। এছাড়া তারা এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবী করেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় স্কুলের একটি কক্ষে মিটিং চলছে আর স্থানীয় জনতা বাহিরে অবস্থান করছে। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক মহসিন আলী জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতি, এমপি কুদ্দুসের কথামত তিনি সব কাজ করেছেন। নিয়োগ পরীক্ষার পর নিয়োগ দানের বিষয়টি কমিটিকে জানানোর কথা বললে সভাপতি জানিয়েছিলেন যে, ৬-৭ দিনের মধ্যেই কমিটির মিটিং ডেকে বিষয়টি ম্যানেজ করা হবে। কিন্তু তার আগেই আজ সভাপতিকে ছাড়াই মিটিং ডেকে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তবে মিটিং আসা ম্যানেজিং কমিটির ১৩ সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ৯জন সদস্য জানান, আমরা এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল ও সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার জন্য মিটিং করছি। এদিকে স্কুলের রেজুলেশন খাতায় দেখা যায় ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বরের পরে কোন মিটিং এর রেজুলেশন নেই। এছাড়া ২টি পৃষ্ঠায় সদস্যদের উপস্থিতির তালিকা স্বাক্ষর করা থাকলেও তারিখ কিংবা রেজুলেশনের সিদ্ধান্ত উল্লেখ নাই। সেখানে উপস্থিত একাধিক সদস্য জানান, অনেক সময় স্বাক্ষর জাল করে রেজুলেশন লেখা হয়। এছাড়া ওই স্বাক্ষরিত পৃষ্ঠায় প্রধান শিক্ষক ইচ্ছামত সিদ্ধান্ত লিখে নিয়োগ বৈধ করার জন্য রেখেছিলেন কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি। এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার কত টাকার লেনদেন হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি বলেন, এ সম্পর্কে আমি কিছু জানি না সব সভাপতি জানেন। স্থানীয় জনসাধারণ ও কমিটির অন্যান্য সদস্যরা দাবী করেন, তাঁরা নিয়োগ প্রাপ্তদের সাথে কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫-৬ লক্ষ টাকা লেনদেনের সত্যতা পেয়েছেন। অনতিবিলম্বে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আহ্বান জানান তারা। এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি ও স্কুল কমিটির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার মোবাইলে (০১৭১১-৩৩৩৭০৮) বার বার চেষ্ঠা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে নাটোরের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমাদের তেমন কোন হস্তক্ষেপ থাকে না। আমাদের একজন প্রতিনিধি দিতে হয় আর বাকি কাজ সভাপতিসহ কমিটি করে থাকে। তবে কমিটিতে পাশ না হলে ওই নিয়োগ কখনোই বৈধ হবে না এবং কমিটির নিয়োগ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত না পেলে আমরাও তা বাতিল করে দেব।

মোঃ মাহফুজ আলম মুনী, নাটোর থেকে:নাটোরের বড়াইগ্রামের কৈডিমা উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটিকে না জানিয়ে ঘুষ নিয়ে ৩ শিক্ষককে নিয়োগ দানের অভিযোগে স্কুল কমিটির সভাপতি স্থানীয় এমপি আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছে স্কুলের নির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা। এদিকে এমপির সাথে যোগসাজস করে বিদ্যালয়ে তিনজনকে গোপনে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগে বুধবার সকালে প্রধান শিক্ষক মহসিন আলীকে স্কুলে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ গেলে কমিটির সদস্যরা জানান. প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ নয় অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের জন্য তাকে নিয়ে কমিটির সভা চলছে। বুধবার সকালে এই ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এ ব্যাপারে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে মিটিং চলছিল। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি আব্দুস সাত্তার সেলিম জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগসাজসে সম্প্রতি ১৫-১৮ লক্ষ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটিকে না জানিয়ে গোপনে স্থানীয় একটি দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ কমিটি গঠন করে নাটোর সার্কিট হাউসে গত ২জুন গোপনে নিয়োগ পরীক্ষা নেন। এ ব্যাপারে কমিটির অপর সদস্যদের নিয়ে কোন মিটিং বা কাউকেই কোন তথ্য না জানিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আক্কাস আলীকে সহকারী প্রধান শিক্ষক, আকরাম হোসেন টুকুকে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) এবং স্থানীয় কৈডিমা এলাকার ছাত্রলীগ কর্মী শাহ আলমকে সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) হিসেবে নিয়োগ দেন। বিষয়টি জানতে পেরে কমিটির অন্য সদস্যরা নোটিশের মাধ্যমে বুধবার সকালে স্কুলে জরুরী মিটিং ডেকে প্রধান শিক্ষককে নিয়োগের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে না পারায় কমিটির সদস্য ও স্থানীয়রা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। পরে তারা ওই বৈঠকে স্কুলের সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে নিয়োগ বাতিলের প্রস্তবনা পাশ করেন। এছাড়া তারা এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবী করেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় স্কুলের একটি কক্ষে মিটিং চলছে আর স্থানীয় জনতা বাহিরে অবস্থান করছে। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক মহসিন আলী জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতি, এমপি কুদ্দুসের কথামত তিনি সব কাজ করেছেন। নিয়োগ পরীক্ষার পর নিয়োগ দানের বিষয়টি কমিটিকে জানানোর কথা বললে সভাপতি জানিয়েছিলেন যে, ৬-৭ দিনের মধ্যেই কমিটির মিটিং ডেকে বিষয়টি ম্যানেজ করা হবে। কিন্তু তার আগেই আজ সভাপতিকে ছাড়াই মিটিং ডেকে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তবে মিটিং আসা ম্যানেজিং কমিটির ১৩ সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ৯জন সদস্য জানান, আমরা এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল ও সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার জন্য মিটিং করছি। এদিকে স্কুলের রেজুলেশন খাতায় দেখা যায় ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বরের পরে কোন মিটিং এর রেজুলেশন নেই। এছাড়া ২টি পৃষ্ঠায় সদস্যদের উপস্থিতির তালিকা স্বাক্ষর করা থাকলেও তারিখ কিংবা রেজুলেশনের সিদ্ধান্ত উল্লেখ নাই। সেখানে উপস্থিত একাধিক সদস্য জানান, অনেক সময় স্বাক্ষর জাল করে রেজুলেশন লেখা হয়। এছাড়া ওই স্বাক্ষরিত পৃষ্ঠায় প্রধান শিক্ষক ইচ্ছামত সিদ্ধান্ত লিখে নিয়োগ বৈধ করার জন্য রেখেছিলেন কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি। এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার কত টাকার লেনদেন হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি বলেন, এ সম্পর্কে আমি কিছু জানি না সব সভাপতি জানেন। স্থানীয় জনসাধারণ ও কমিটির অন্যান্য সদস্যরা দাবী করেন, তাঁরা নিয়োগ প্রাপ্তদের সাথে কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫-৬ লক্ষ টাকা লেনদেনের সত্যতা পেয়েছেন। অনতিবিলম্বে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আহ্বান জানান তারা। এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি ও স্কুল কমিটির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার মোবাইলে (০১৭১১-৩৩৩৭০৮) বার বার চেষ্ঠা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে নাটোরের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমাদের তেমন কোন হস্তক্ষেপ থাকে না। আমাদের একজন প্রতিনিধি দিতে হয় আর বাকি কাজ সভাপতিসহ কমিটি করে থাকে। তবে কমিটিতে পাশ না হলে ওই নিয়োগ কখনোই বৈধ হবে না এবং কমিটির নিয়োগ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত না পেলে আমরাও তা বাতিল করে দেব।