অপরাধ রংপুর

মধ্যরাতে এ কোন বর্বরতা

imagesআব্দুল খালেক ফারুক, কুড়িগ্রাম:রাত তখন ২টা। চারিদিকে সুনশান নিরবতা। রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে ঘুমন্ত মানুষের উপর হঠাৎ হামলে পড়ে একদল মানুষ। নারকীয় বর্বরতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে গুড়িয়ে দেয় ৫টি বাড়ি। লুট করে সহায় সম্বল। হাঁস, মুরগী, গরু ছাগল-এমনকি পরনের কাপড় আর হাড়ি পাতিলও লুটেরাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। এ সময় নির্বিচারে পিটিয়ে পিটিয়ে আহত করে ১০ গ্রামবাসীকে। এদের ৭ জনকে কুড়িগ্রাম ও উলিপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার মধ্যরাতে এই নিষ্ঠুরতম ঘটনা ঘটে উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের আপুয়ারখাতা গ্রামে। একটি মাদ্রাসার কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পান্ডুল ইউপি চেয়ারম্যান আক্তারুল করিম হারুনের নেতৃত্বে শতাধিক সহযোগী এই হামলা ও লুটপাটে অংশ নেন বলে জানান এলাকাবাসী।হামলায় আহত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তারা হলেন, মজির উদ্দিন, মিজু, সবুজ, মোস্তফা, আজগার, জাহের আলী ও আজাদ আলী। এর মধ্যে মজির উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।হামলার শিকার ওই গ্রামের মকবুল মাষ্টার জানান, আপুয়ারখাতা সিনিয়র মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে তার শত্রুতা সৃষ্টি হয়। কয়েকমাস আগে তাকে সভাপতি করে কমিটি গঠিত হবার পর থেকে তার আত্মীয় স্বজনদের উপর কয়েকদফা হামলা করে চেয়ারম্যানের বাহিনী। সর্বশেষ মঙ্গলবার মধ্যরাতের হামলায় তার বাড়িসহ প্রতিবেশী আমির হোসেন, মজির উদ্দিন, আব্দুল মোমিন ও আব্দুল মতিনের বাড়ি গুড়িয়ে দেয়া হয়। এই হামলায় ৪ ভরি স্বর্ণ, দেড় লাখ টাকা, দুটি গরু, ৩৮টি হাঁস মুরগীসহ কাপড় ও আসবাবপত্র নিয়ে গেছে চেয়ারম্যানের বাহিনী। এমনকি ঘরের টিন ও কাঠ পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে তারা।সরেজমিন দেখা গেছে, গুড়িয়ে যাওয়া ঘর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন ক্ষতিগ্রস্থরা। দুর দুরান্ত থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসছেন এই তান্ডবের ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে। হামলার শিকার আমির হোসেন বলেন, ‘মাদ্রাসার ঘটনা নিয়া হামার বাড়ি ভাংগি দিলে চেয়ারম্যান। হামার কী দোষ কনতো বাহে। কাঁই হামাক এই ক্ষতি পূরণ দিবে?’ এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন,‘এমন বর্বরতা ৭১ সালের পর আর দেখা যায়নি। পুলিশকে খবর দেয়া হলেও তারা হামলা শেষ করে দুর্বৃত্তরা চলে যাবার পর এসেছেন। চেয়ারম্যান আক্তারুল করিম হারুন হামলায় তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘রাতে পাল্টাপাল্টি হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর সাথে আমি জড়িত নই’।উলিপুর থানার ওসি (তদন্ত) জাকিরুল ইসলাম জানান, ভোর ৫টা থেকে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোন পক্ষ এখনও মামলা করেনি।