কৃষি চট্টগ্রাম

ফেনীতে বোরোর বাম্পার ফলন মাঠে কৃষকের মুখে হাসি বাজারে মলিন

নাজমুল হক শামীম, ফেনী প্রতিনিধি:ফেনীতে চলতি বছর মাঠে বোরোর বাম্পার ফলন দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটলেও উৎপাদন খরচের চেয়ে ধানের দাম কম হওয়ায় সে হাসি মুখটা বাজারে গিয়ে মলিন হয়ে যায়।জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ফেনী জেলায় ২৯ হাজার ৭২৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। আবাদের লক্ষমাত্রা ছিল ৩০ হাজার ২৬৯ হেক্টর জমি। সেচ স্বল্পতায় ও বিগত বছরের বাজার মন্দা হওয়ায় কিছু কৃষক চাষাবাদে উৎসাহ হারিয়ে ফেলায় লক্ষমাত্রার চেয়ে ৫৪২ হেক্টর জমিতে ফসল কম লাগানো হয়।চলতি বছর ফেনী সদর উপজেলায় বোরো চাষ হয়েছে নয় হাজার ৪৬৬ হেক্টর, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ছয় হাজার ১৩২ হেক্টর, ফুলগাজী উপজেলায় চার হাজার ২২২ হেক্টর, পরশুরাম উপজেলায় তিন হাজার ৭০৭ হেক্টর, দাগনভূঁঞা উপজেলায় পাঁচ হাজার ৪০০ হেক্টর এবং সোনাগাজীতে মাত্র ৮০০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল এক লাখ ১৭ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন। কিছু জমিতে চাষাবাদ না হওয়া শর্তেও ফসলের জন্য ভাল আবহাওয়া এবং ঠিকমত পানি, সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কারনে এবার জমিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে করে উৎপাদন লক্ষমাত্রা অতিক্রম করেছে।ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকার সফি উল্যা নামে একজন কৃষক জানায়, তিনি দুই একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। তিন বেলা খাওয়া ছাড়াও ধান কাটার একজন দিন মজুরকে নগদ ৪ শত টাকা দিতে হয়। বাজারে প্রতিমন (৪০ কেজি) ধান বিক্রি হচ্ছে ৫ শত টাকা করে। নিজের পরিশ্রম বাদ দিয়ে প্রতিমন ধানের উৎপাদন খরচ পড়েছে ছয় শত টাকার ওপর। এভাবে প্রতি বছর লোকসান হলে কৃষকরা ধান উৎপাদনে নিরুউৎসাহী হয়ে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারী ভাবে এখনো ধান কেনা শুরু হয়নি। যখন শুরু হবে তখনও কর্মকর্তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে কৃষকদের ধান ক্রয় করতে আগ্রহী হবেনা।ফেনী সদর উপজেলার কাতালিয়া গ্রামের কৃষক নুর নবী জানায়, তাদের এলাকায় একজন ধান কাটার দিন মজুরকে দুই বেলা খাওয়া ও নগদ ৪ শত ৫০ টাকা দিতে হয়। বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় মুলধনও তোলা সম্বভ হবে না।জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুনীল চন্দ্র ধর বলেন, চলতি বছর বোরা আবাদের লক্ষমাত্রা থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ শত হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ কম হয়েছে। কিন্তু ভাল ফলন হওয়ায় উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।