জাতীয় রংপুর সারাদেশ হটনিউজ স্পেশাল

কুড়িগ্রামে লক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তির শিকার

Kurigram Bridge pic, -4--06-2013ডাঃ জি এম ক্যাপ্টেন, কুড়িগ্রামঃকুড়িগ্রামের রৌমারীতে দু’এলাকার মানুষের বিবাদের কারণে একটি ভাঙা রাস্তা মেরামত না করায় লক্ষাধিক মানুষ এক বছর ধরে ভোগান্তির শিকার হয়েছে। এই বিবাদের ফলে পরিবহণ ব্যবস্থা, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, শিক্ষার্থীসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম বিড়ম্বনার মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে।জানা যায়, জেলার রৌমারী উপজেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের রৌমার-দাতভাঙা সড়কের ঝগড়ার চর নামক স্থানে গত বছরের প্রবল বন্যায় প্রায় তিনশত ফুট এলাকা পর্যন্ত ভেঙে যায়। ভাঙা অংশে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অস্থায়ীভাবে বাঁশের সাকো নির্মান করে দেয়া হয়। এই সাকো দিয়ে ঝগড়ার চর গ্রামের উত্তর অংশের হরিণধরা, ধর্মপুর, কাইয়ারচর, চর নয়াগ্রামসহ উলিপুরের বিভিন্ন চরের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে। সাকো দিয়ে পরিবহণ চলাচল না করায় বর্তমানে বিভিন্ন পেশার সাথে যুক্ত মানুষেরা প্রতিদিন ঝুকির মধ্যদিয়ে পারাপার করছেন। ব্যবসায়ীদের এতে সাকোর দু’পাশে বাড়তি লোডিং’র কারণে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ঝগড়ার চর গ্রামের দক্ষিণ অংশের দেড় হাজার মানুষের স্বাক্ষরসহ ভাঙা অংশে ব্রীজ নির্মাণের একটি আবেদন সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগে জমা দেয়া হয়। এই দরখাস্ত দাখিলের পরপরই ঝগড়ার চর উত্তর অংশের এলাবাসীর পক্ষে অনুরূপভাবে দেড় হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে ভাঙা অংশে মাটি ভরাটের আবেদন করা হয়। ফলে ভাঙা অংশের দু’পক্ষের মানুষের দু’ধরণের দাবির প্রেক্ষিতে ব্রীজ নির্মাণ অথবা রাস্তা ভড়াটের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।দাঁতভাঙা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গনি (ভারপ্রাপ্ত) জানান, প্রতিবছর বন্যায় একই স্থানে এনিয়ে কয়েকবার সমস্যা হয়েছে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে স্লুইচ গেট নির্মাণের আবেদন করেছি। কিন্তু গ্রামবাসী দু’ভাগে বিভক্ত হওয়ায় কোন সমাধান হচ্ছে না। এজন্য মালামাল পরিবহণ ও শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে।এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল হক জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। এছাড়াও পরিবেশ ও প্রতিবেশের কথা বিবেচনা করে ইতোমধ্যে স্লুইচ গেটের জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে অনুমোদন পেলে বরাদ্দ সাপেক্ষে অর্থ ডিপোজিট করে পানি উন্নয়ন বিভাগকে বাস্তবায়নের জন্য দেয়া হবে।