খেলা জাতীয় ঢাকা

বাংলাদেশের জয়ের সুযোগ থাকবে

Walton1436092688  মিরপুর থেকে : শনিবার মাশরাফি বলেছিলেন, ‘বোলাররা ভালো বোলিং করলে বাংলাদেশের জয়ের সুযোগ থাকবে।’

মাশরাফির ব্যাখ্যা ছিল এ রকম- বোলাররা যদি ১৫০-১৬০ রানের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আটকে রাখতে পারে, তাহলে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের লক্ষ্য তাড়া করতে সহজ হবে।

ব্যাটসম্যানদের সাম্প্রতিক ফর্ম মাশরাফিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জয় পাওয়ার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল। কিন্তু এক দিনের ব্যবধানে মাশরাফির সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো।

বোলাররা দক্ষিণ আফ্রিকাকে বেঁধে রেখেছিল ১৪৮ রানে। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ে জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় ইনিংসের মাঝপথেই। টাইগাররা সবাই মিলে শতরানও করতে পারেননি। ৯৬ রানে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস। ৫২ রানের বড় পরাজয় নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মিশন শুরু করল বাংলাদেশ।

১৪৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনার তামিম ও সৌম্য হতাশ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার আগ্রাসী বোলিংয়ের সামনে দুই ব্যাটসম্যানই নিজেদের উইকেট বিলিয়ে আসেন। দলীয় ১৩ রানের মধ্যে তামিম (৫) ও সৌম্য (৭) আউট হন।

তৃতীয় উইকেটে সাকিব ও মুশফিক ৩৬ বলে ৩৭ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ৫০ রানে মুশফিকুর রহিম (১৭) আউট হওয়ার পর সাব্বির রহমান (৪) ও নাসির হোসেন (১) দ্রুত সাজঘরের পথ ধরেন। এক পর্যায়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে  ৫৭ রান। তখনই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ।পরে শুধু ব্যবধান কমানোর পালা, পরাজয় ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

সাকিব আল হাসান এক প্রান্ত আগলে খেললেও বেশি দূর এগোতে পারেননি। ৩০ বলে ১টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৬ রান করে ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।

শেষ দিকে অভিষিক্ত লিটন কুমার দাসের ২২ রানের ইনিংস পরাজয়ের ব্যবধান কমায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে বল হাতে রাবাদা, ওয়াইজি ও ডুমিনি ২টি করে উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন অ্যাবট, পার্নেল ও ফাঙ্গিসো।

এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হওয়ার পরিকল্পনা ছিল প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু চার-ছক্কার ফরম্যাটে শুরুতেই পিছিয়ে পড়েন প্রোটিয়ারা। ডি ককের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। কিন্তু প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন মারকুটে এই ব্যাটসম্যান। আরাফাত সানীর করা প্রথম ওভারের প্রথম চার বলে কোনো রান নিতে পারেননি ভিলিয়ার্স। পঞ্চম বলে এক্সটা কাভার দিয়ে ২ রান নিয়ে রানের খাতা খোলেন তিনি। কিন্তু ওভারের শেষ বলে সানীর ঘূর্ণিতে পরাস্ত হতে হয় ডি ভিলিয়ার্সকে। সানীর হাফ ডেলিভারিতে কাভার দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকাতে দিয়ে মাশরাফির হাতে ক্যাচ দেন ডানহাতি এই ওপেনার।

শুরুতেই বাংলাদেশ বেশ চাঙ্গা। প্রতিপক্ষকে বেশ চেপেই ধরেন বাংলাদেশি বোলাররা। প্রথম ৫ ওভারে স্পিনাদের সামলাতেই ব্যস্ত ছিলেন সফরকারী ব্যাটসম্যানরা। প্রথম বাউন্ডারির জন্য ১৬ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় প্রোটিয়াদের। অবশ্য পরের ১৪ বলে তারা তুলে নেয় তিন বাউন্ডারি। ৫ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ২ উইকেটে ৩৫। নাসিরের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার ডি কক (১২)।

ষষ্ঠ ওভারে প্রথমবারের মতো পেস আক্রমণের মুখোমুখি হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। মুস্তাফিজের বোলিং বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই খেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস ও জে পি ডুমিনি। ১০ ওভার পর্যন্ত এই দুই ব্যাটসম্যান ৭০ রান যোগ করেন। ১২তম ওভারে প্রোটিয়া শিবিরে আবারও আঘাত করেন আরফাত সানী। জেপি ডুমিনিকে ১৮ রানে আউট করেন সানী। মিড অনে নাসির হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ডুমিনি। ক্রিজে আসা মারকুটে ডেভিড মিলারকে টিকতে দেননি সাকিব। মাত্র ১ রানে সাকিবের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন কিলার মিলার।

সে সময়ে ১৩.২ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৪ উইকেটে ৯০। পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে মাথা তুলে দাঁড়ায় প্রোটিয়ারা। ডু প্লেসিস ও রাইলি রুশো ৪০ বলে অবিচ্ছিন্ন ৫৮ রানের জুটি গড়ে দলের স্কোরকে ১৪৮-এ নিয়ে যান। ডু প্লেসিস ৬১ বলে ৮টি বাউন্ডারিতে ৭৯ রান করেন। আর বাঁহাতি রুশো ২১ বলে ২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩১ রান করেন।

বাংলাদেশের সেরা বোলার আরাফাত সানী। ৩ ওভারে ১৯ রানে ২ উইকেট নেন তিনি। ১টি করে উইকেট নেন নাসির হোসেন ও সাকিব আল হাসান।

বোলিং অ্যাকশন শুধরে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা সোহাগ গাজীর শুরুটা ভালো হয়নি। ২ ওভারে ১৬ রানে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি।