অর্থ ও বাণিজ্য

বাজেটের আকার দ্বিগুণ একই সরকারে

ama-muhit20130603072134ঢাকা: আ.লীগ নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী বাজেট আসছে। সব মিলিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বাজেটে থাকছে আটটি চ্যালেঞ্জ। এমনটাই মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা।সরকারের প্রথম অর্থবছর থেকে শেষ অর্থবছরের মধ্যে বাজেটের আকার বেড়ে দ্বিগুণ হচ্ছে। সরকারের শুরু অর্থাৎ ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা।সরকারের শেষ অর্থাৎ আগামী ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটের আকার দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা।এতে ঘাটতিসহ ১ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা থাকছে অনুন্নয়ন বাজেট। বাকি ৭৪ হাজার কোটি টাকা থাকছে উন্নয়ন বাজেট বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)।অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি বাজেটেও একই লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে। গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনারাও ঘোষণা দেওয়া হবে।আগামী বাজেটে আলোচিত পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ছয় হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় রাখা হয়েছে এক হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা।

সম্প্রসারণমূলক অর্থনীতির সমর্থনে অর্থমন্ত্রী নিজেই বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের ওপরে রাখার পক্ষে। আগামী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ৬৫ থেকে ৬৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।আগামী ৬ জুন জাতীয় সংসদে মহাজোট সরকারের শেষ বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি উৎস থেকে ২১ হাজার ১১০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৩৫ হাজার ১৮০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। নতুন বাজেটে চলতি মূল্যে ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে জিডিপি প্রাক্কলিত করা হয়েছে ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৮শ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক, রেলপথ, বন্দরসহ ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নকে নতুন বাজেটে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এ ছাড়াও মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন, কর্মসৃজন, সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনী জোরদার করা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়াকেও নতুন বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বাজেটে।

নতুন বাজেটে আটটি চ্যালেঞ্জ আছে বলেও অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন। এগুলোর মধ্যে আছে রাজস্ব খাতে পরিকল্পিত সংস্কার কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, পদ্মাসেতুসহ সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর জন্য অর্থ সরবরাহ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, কৃষি ও খাদ্যখাতে ভর্তুকিসহ কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়গুলো কমিয়ে আনা।

এ ছাড়া জ্বালানি খাতে স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয় প্রদ্ধতি বাস্তবায়ন, মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখা, বিদেশি অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার কাঙ্খিত স্তর এবং বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও আগামী বাজেটের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।

আরো জানা গেছে, আলোচ্য বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। আয়কর চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৪৮ হাজার ৩শ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

আদমানি শুল্কের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উত্স থেকে রাজস্ব আহরণে জোর দেওয়া হচ্ছে এবারের বাজেটে। মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চলতি বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৫১ হাজার কোটি, শুল্ক ৩৫ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অন্যান্য কর বাবদ আরো প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ঠিক হচ্ছে আগামী অর্থবছরে। বাজেট চ্যালেঞ্জ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, যে খাতগুলো থেকে রাজস্ব আহরণ করা হত সেসব খাতের কর্মকান্ড বৃদ্ধি পেলেও রাজস্ব খাতে অগ্রগতি হয়নি।

করের ক্ষেত্র শুধু বাড়ালে হবে না, তা তদারকি করার পরামর্শ দেন তিনি। চলতি অর্থবছরে ৫-৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতির সম্ভাবনা আছে।

এটি যেহেতু আ.লীগ নেতৃত্বধীন মহাজোটের শেষ বাজেট তাই অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ থেকেই যাচ্ছে। তবে সরকার আন্তরিক হলে এবারের বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কষ্টকর হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।