অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয় ঢাকা

সরকার মুদ্রা পাচাররোধে কঠিন অবস্থানে

taka11435567875অর্থনৈতিক প্রতিবেদক,হটনিউজ২৪বিডি.কম: আগামী ২০১৬ সালে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি)-এর বার্ষিক সম্মেলন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে দেশ থেকে মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে প্রতিরোধ বিষয়ক তথ্য আদান-প্রদানের প্রয়োজনে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) মোট ৩০টি দেশের ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (এফআইইউ) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে অর্থ পাচার হওয়া এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ করা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে পাঁচটি দেশের এফআইইউর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ দেশগুলো হচ্ছে- ভুটান, ভিয়েতনাম, মরক্কো, বাহরাইন ও ব্রুনাই।

সূত্র জানায়, বিএফআইইউ ২০১৩ সালে ফাইন্যান্সিয়াল ইউনিটগুলোর আন্তর্জাতিক সংগঠন এগমন্ট গ্রুপের সদস্য পদ লাভ করেছে।  বিএফআইইউ ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত এগমন্ট গ্রুপের এফআইইউ প্রধানদের বৈঠকে ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এগমন্ট গ্রুপের এশিয়া ও  প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিএফআইইউ প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছে। আঞ্চলিক প্রতিনিধি হিসেবে বিএফআইইউ এ অঞ্চলের এফআইইউসমূহ, এগমন্ট কমিটি, এগমন্ট গ্রুপ সেক্রেটারিয়েট ও ওয়ার্কিং গ্রুপসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

সূত্র জানায়, প্যারিসে অনুষ্ঠিত ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) প্লেনারিতে এফএটিএফের ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন রিভিউ গ্রুপ (আইসিআরজি) প্রক্রিয়া থেকে বাংলাদেশে অব্যাহতি লাভ করেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি)-এর ১৭তম বার্ষিক সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০১৮-২০২০ মেয়াদে এপিজির কো-চেয়ার নির্বাচিত হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২০১৬ সালে এপিজির বার্ষিক সভা আয়োজন করবে এবং কো-চেয়ারের মেয়াদকালে বাংলাদেশে আরেকটি বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র জানায়, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমে গতি আনার লক্ষ্যে বিএফআইইউ ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) ডাটাবেইজ, বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউজের (বিএসিএইচ) ডাটাবেইজ এবং আমদানি, রপ্তানি, ভ্রমণ ও বিবিধ এবং অন্তর্মুখী রেমিট্যান্স-প্রবাহের ডাটাবেইজে প্রবেশাধিকার পেয়েছে।

ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ বিএফআইইউ কর্তৃক সংগৃহীত goAML সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে নগদ লেনদেন রিপোর্ট ও সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট পাঠানো শুরু করেছে। পাশাপাশি মূলধন বাজারে নিযুক্ত স্টক ডিলার ও স্টক ব্রোকার এবং পোর্টফোলিও ম্যানেজার ও মার্চেন্ট ব্যাংকার (ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবসিডিয়ারি) এবং সম্পদ ব্যবস্থাপকগণ বিএফআইইউর চাহিদা অনুযায়ী goAML সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য পাঠাচ্ছে।

সূত্র জানায়, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাস অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে বিএফআইইউ নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেইজ ব্যবহার করছে। এ ছাড়াও সংস্থাটি বর্তমানে উক্ত ডাটাবেইজে সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রবেশাধিকারের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে।

সূত্র জানায়, এর আগে বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফেরত আনতে সরকারি ১৮ প্রতিষ্ঠান মাঠে নামছে। এসব প্রতিষ্ঠান অনলাইন কানেকটিভিটির মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

এদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল পর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, অর্থ পাচারে রাজনৈতিক কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অর্থ পাচার রোধে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে সেগুলোকে এরই মধ্যে অনলাইন কানেকটিভিটির আওতায় আনা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এর ফলে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার অনেকাংশেই কমে যাবে। এ ছাড়া বিদেশে কোনো অর্থ পাচার হয়ে থাকলে সেটিও আমরা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিভিন্ন দেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। কারণ, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে বিদেশ থেকে অর্থ আসার বিষয়ে সরকারের কাছে বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। বিশেষ করে, ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বিভিন্ন সময়ে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।