জাতীয়

পবিত্র রমজানের রহমতের দশক শেষের পথে

20373_1

নিজস্ব প্রতিবেদক, হটনিউজ২৪বিডি.কম ২৭ জুন : দেখতে দেখতে শেষের পথে পবিত্র মাহে রমজানের রহমতের দশক। আজ নবম দিন। আর মাত্র একদিন, তার পর শুরু হবে মাগফিরাতের দশক। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের ওপর রোযা ফরজ করেছেন। সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের মতো তোমাদের উপরও রোযা ফরজ করা হয়েছে, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পার।’ (সুরা বাকারা-১৮৩)
রোযার গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত আছে- তালহা বিন ওবায়দুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘একদা জনৈক বেদুঈন রাসুলুল্লাহ (স.) এর কাছে আগমন করে। তার মাথার চুল ছিল ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত। সে বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ (স.)! আমাকে বলুন, আল্লাহ আমার উপর কত ওয়াক্ত নামায ফরজ করেছেন?  রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত। তবে তুমি যদি নফল নামায পড় তবে তা স্বতন্ত্র কথা। লোকটি বলল, আমাকে বলুন, আল্লাহ আমার উপর কতটা রোযা ফরজ করেছেন? রাসুলুল্লাহ (স.) বললেন, গোটা রমজান মাস। তবে তুমি যদি নফল রোযা রাখ তবে তা স্বতন্ত্র কথা। ‘লোকটি আবার বলল, রাসুলুল্লাহ (স.)! আমাকে বলুন, আল্লাহ আমার উপর কি পরিমাণ যাকাত ফরজ করেছেন? এবার রাসুলুল্লাহ (স.) তাকে ইসলামের বিধি বিধান জানিয়ে দিলেন। অতঃপর লোকটি বলল, সেই মহান সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য বিধান দিয়ে সম্মানীত করেছেন। মহান আল্লাহ আমার উপর যা ফরজ করেছেন, আমি তার কম বেশি করবো না। ‘লোকটির মন্তব্য শুনে রাসূলুল্লাহ (স.) বললেন, সে সত্য বলে থাকলে সফলতা লাভ করল। অথবা বললেন, সে সত্য বলে থাকলে জান্নাত লাভ করল।’ (সহীহ বোখারী, প্রথম খণ্ড) রোযার গুরুত্ব কতখানি তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিভিন্ন হাদিসেই দেখতে পাওয়া যায়। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলার কসম! মুসলমানদের জন্য রমযানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমযান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা মুমিনগণ এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গনীমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ। -(মুসনাদে আহমদ, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, সহীহ ইবনে খুযাইমা, তাবারানী, বাইহাকী শুয়াবুল ঈমান) আরেকটি হাদিস এ রকম- হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-  যখন রমযান মাসের আগমন ঘটে, তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমদ, সুনানে দারেমী) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রোযা এবং কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও প্রবৃত্তির চাহিদা মেটানো থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন দু’জনের সুপারিশই গ্রহণ করা হবে। (মুসনাদে আহমদ, তবারানী, মাজমাউয যাওয়াইদ)
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হচ্ছে রোজা। ইতিহাসে পাওয়া যায় আদি মানব সর্বপ্রথম নবী হযরত আদম (আ:) থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী হযরত মুহম্মদ (সা:) পর্যন্ত সব নবী রাসুলগণই রোজা পালন করেছেন। শুধুমাত্র শেষ নবীর উম্মত আমাদের ওপরই ফরজ হয়নি পূর্ববর্তী নবী রাসুলদের সময়ও রোজা ফরজ করা হয়েছিল। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন- ‘হে ঈমানদারগণ তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমন, তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল- যেন তোমরা খোদাভীতি অর্জন করতে পারো।’ (সূরা আল-বাকারা আয়াত ১৮৩)
মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘এটি এমন একটি মাস, যার প্রথম ভাগে আল্লাহর রহমত, মধ্যভাগে গুনাহের মাগফিরাত এবং শেষ ভাগে দোজখের আগুন থেকে মুক্তিলাভ রয়েছে।’ (মিশকাত)
সেই অবারিত রহমতে পরিপূর্ণ প্রথম ১০ দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ আমাদের অবারিত রহমতের সুযোগ লাভের তৌফিক দান করুন। আমিন।
হটনিউজ২৪বিডি.কম/এআর