রংপুর

হাকিমপুরে বাংলাদেশের প্রথম লোহার খনি আবিস্কার

images (1)মো.নুরুন্নবী বাবু দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মশিদপুরে কুপ খনন করে লোহার খনির (ম্যাগনেটিক মিনারেল) সন্ধান পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ভূ-তাত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) ভূ-তাত্বিক দল খনিজ সম্পদ উন্নয়নে ভূবৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের আওতায় অনুসন্ধান চালিয়ে আবিস্কার করা হয়। এছাড়া এখানে অপেক্ষাকৃত কম গভীরতায় চুনা পাথরেরও (লাইম ষ্টোন) সন্ধান পাওয়া গেছে।

এদিকে প্রথম লোহার আক্ষরিকের আবিস্কারের খবর পেয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ভূ-তাত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) মহাপরিচালক সিরাজুর রহমান খান, পরিচালক (ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং) আব্দুস সামাদ, পরিচালক (অপারেশন এন্ড কো-অর্ডিনেশন) সিরাজুল ইসলাম খান, পরিচালক (প্রজেক্ট ডাইরেক্টর) আনওয়ারুল হক এবং পরিচালক মো. নিহাল উদ্দীন হাকিমপুরের মশিদপুর এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তাঁরা এই খনির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ভূ-তাত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) পরিচালক ও এই কাজের প্রকল্প পরিচালক মো. নিহাল উদ্দীন বলেন, মশিদপুর এলাকায় কুপ জিডিএইচ-৬৮ খনন করে লোহার আক্ষরিকের (ম্যাগনেটিক মিনারেল) সন্ধান মিলেছে। আর এটিই হচ্ছে দেশের মধ্যে প্রথম আবিস্কার। যা এর আগে কখনো এর সন্ধান পাওয়া যায়নি। কারণ লোহা না হলে চুম্বকে ধরত না। তবে কত এলাকা নিয়ে এবং কি পরিমাণে মজুদ রয়েছে, তার অনুসন্ধানে জরিপ দল কাজ করছে।

তিনি বলেন, এই কুপ খনন করে প্রায় ১২’শ ফুট গভীরতায় চুনা পাথর পাওয়া গেছে। যা অন্যান্য জায়গার গভীরতার চেয়ে অপেক্ষাকৃত অনেক কম গভীরে। ১৫’শ থেকে দুই হাজার ফুট গভীরতায় এই ম্যাগনেটিক মিনারেল, হেমাটাইট, ম্যাগনেটাইট ও লিমোনাইট পাওয়া যায়। এই খনন কাজ শেষে সংশিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চুড়াš– প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

জরিপ কাজে নিয়োজিত সহকারি পরিচালক (ভূতত্ব) মো. নুরুজ্জামান সবুজ এ প্রতিনিধি নুরুন্নবী বাবুকে বলেন, খনিজ সম্পদ উন্নয়নে ভূবৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের আওতায় জরিপ কাজ পরিচালিত হচ্ছে। গত ২২ মার্চ থেকে খনন কাজ শুরু হয়ে এখনো অব্যাহত আছে। কুপ খনন করে যে খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জিএসবিসহ অন্যান্য গবেষণাগারে কাজ চলছে।

ভূ-তাত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) মহাপরিচালক সিরাজুর রহমান খান বলেন, এখানে মূল্যবান লৌহ জাতীয় ধাতব পদার্থের সন্ধান পাওয়ায় ঘটনা¯’ল পরিদর্শন করেছি। প্রায় সাড়ে ৪’শ কোটি বছর আগে এখানে সমুদ্র ছিল। একারণে এখানে আগ্নেয়শিলা ছিল। জমাট বাঁধা এই শিলার ভেতরে যে সম¯– খনিজ পদার্থ খোঁজা হচ্ছে, তা এর ভেতরেই অব¯’ান করছে। সেখানে আমরা ম্যাগনেটিক হাই পেয়েছি। যা দেশের জন্য লাভজনক হবে।

মহাপরিচালক বলেন, খনিজ পদার্থ আবিস্কার করার পাশাপাশি আমরা এখানে চুনা পাথরেরও সন্ধান পেয়েছি। আমরা কখনোই এমন আশা করিনি। এখন আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। এই খনন কাজে সরকারের রাজস্ব খাত থেকে ব্যয় করা হচ্ছে।