প্রধান খবর রংপুর

আধুনিক সভ্যতাকে হার মানিয়েছে তিস্তা পাড়ের ৬০ বছরের বৃদ্ধ সমছের আলী

লালমনিরহাট থেকে মাজহারুল ইসলাম বিপু: আধুনিক সভ্যতাকে হার মানিয়েছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তিস্তা পাড়ের ৬০ বছরের বৃদ্ধ সমছের আলী ও তার স্ত্রী আবজন বেগম। যে কাজ গরু দিয়ে করার কথা অভাব অনটন জীবন বাচাঁর তাগিদে আজ নিজেরা তেলের ঘানি টেনে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। সর্বগ্রাসী তিস্তা নদী দফায় দফায় ভিটে মাটি কেড়ে নিলেও পূনর্বাসনের জন্য পায়নি কোন সাহায্য সহযোগীতা। আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী নামুড়ী চর কাশিয়াবাড়ি গ্রাম। জেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দুরে এই গ্রামটির সমছেল আলীর তেলীর পরিবারে বেঁচে থাকার লড়াই হার মানিয়েছে আধুনিকতাকে। একটি গরুর অভাবে মানুষ হয়ে বৃদ্ধ বয়সে কখনো স্বামী আবার কখনও স্ত্রী পশুর কাজ নিজে করে তেলের ঘানি টেনে গাছ মাড়াই করে সরিষার তেল বিক্রি করে কাটাচ্ছে দিন। একবেলা খেতে পারলেও আর এক বেলা থাকতে হয় অর্ধাহারে অনাহারে। নিরুাপায় পরিবারটি নীরবে কাঁদলেও মিলছে না সমাধান। তবুও বাঁচতে হয়,বাঁচতে হচ্ছে এভাবেই। পূর্ব পুরুষের পেশা শরিষা দিয়ে তেল মাড়াই করে তেলের ব্যবসা। আর তেলের ব্যবসার ঘানি টানার জন্য নেই একটি গরু। তাই কখনো সমছের আলী তেলী আবার কখনো তার স্ত্রী আবজন বেগম গরুর কাজ নিজে করে তেলের ঘানি টেনে সংসার চালায়। সর্বগ্রাসী তিস্তা নদী দফায় দফায় ভিটে মাটি কেড়ে নিলেও পূনর্বাসনের জন্য পায়নি কোন সাহায্য সহযোগীতা। সমছের আলী জানান, মেম্বার, চেয়ারম্যান কোন সাহায্য সহযোগীতা করে না। গরুর মত ঠেলি গাছ মারতেছি। তার পর তেল হাটে নিয়ে বিক্রির পর বাজার করি। ৫ কেজি সরিষা মেরে সোয়া কেজি তেল হয়। একটা গরু ছিল সেটাও মারা গেছে।স্থানীয়রা জানান, গ্রামের লোকজন তাদের কাছ থেকে পাচ্ছেন খাঁটি সরিষার তেল। বাড়ীতে অন্য গ্রামের মানুষও আসেন তেল কিনতে। এই তেল দিয়ে রান্নার পাশাপাশি শরীরের বিষ ব্যাথার কাজ হয়। তাকে সহযোগিতা করার সামর্থ্য নেই দারিদ্র পীড়িত এই গ্রামের মানুষের। পরিবারটির পূনর্বাসনে সরকারি ও সমাজের দানশীল ব্যাক্তির কাছে সহযোগীতার কামনা করেছেন স্থানীয়রা।