আন্তর্জাতিক

বিক্ষোভে উত্তাল তুরস্ক

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে তুরস্ক। প্রায় এক দশক পর এ ধরনের বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে। শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো ইস্তানবুল ও রাজধানী আঙ্কারায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতায় সহস্রাধিক মানুষ আহত হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ইস্তানবুলের তাকসিম স্কোয়ার সংলগ্ন অটোম্যান আমলের একটি সামরিক ব্যারাক, যা পার্ক হিসেবে ব্যবহৃত তা ভেঙে বিপণীবিতান করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে পরবর্তীতে তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। আর বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। তাকসিম স্কোয়ার সংলগ্ন গেজি পার্ক, যেখানে ঐতিহাসিক আমলের সামরিক ব্যারাক রয়েছে সে স্থাপনাটি ভেঙে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনার প্রতিবাদে শুক্রবার শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানায় স্থানীয়রা। কিন্তু পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এক পর্যায়ে কাঁদানে গ্যাসের শেল, জলকামান ও পিপার ¯েপ্র ব্যবহার করে পুলিশ।
এর প্রতিবাদে শনিবার ইস্তানবুলের পাশাপাশি আঙ্কারা ও বন্দরনগরী ইজমিরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সকালে ইস্তানবুলের কেন্দ্রস্থলে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হয়ে সরকার পতনের দাবিতে ¯ে¬াগান দেয়। সরকারের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী আচরণের অভিযোগ এনে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় তারা। ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির(একেপি) বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তারা। এসময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ চলতে থাকে। পুলিশের কাঁদান গ্যাস ও পিপার ¯েপ্রর জবাবে পাথর ছোড়ে বিক্ষোভকারীরা। বিশেষত তরুণ-তরুণীরা মুখে কাপড় বেধে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, ফেইসবুক ও টুইটার ব্যবহার করে সংগঠিত হয় তারা।
এদিন আঙ্কারার কিজালি জেলায়ও বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হাজারো মানুষের বিক্ষোভের মুখে বিকালে ইস্তানবুলের তাকসিম স্কোয়ার থেকে পুলিশ প্রত্যাহার করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের প্রতি শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তবে পার্ক পুনর্নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। ২০০২ সাল থেকে তুরস্কের ক্ষমতায় রয়েছেন এরদোয়ান। ক্রমশ তার সরকার স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠছেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের।
স্থানীয় একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পিছনে সরকারের ইসালমীকিকরণের’ বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। গত সপ্তাহে তুরস্কের পার্লামেন্টে অ্যালকোহল সেবনের ওপর কড়াকড়ি আরোপ সংক্রান্ত একটি আইন হয়, যাতে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা অ্যালকোহল বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়।