খেলা

ব্যাটসম্যানদের দিনে শ্রীলংকাকে পাঁচ উইকেটে হারাল ভারত

খেলাধূলা ডেস্ক : ওয়ার্ম আপ ম্যাচেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উত্তাপটা টের পাওয়া গেল। কার্ডিফে গা গরম করতে নেমেছিল উপমহাদেশের দুই দল ভারত এবং শ্রীলংকা। দিনটা বোধ হয় ছিল ব্যাটসম্যানদের। আগে ব্যাট করে শ্রীলংকার তিন উইকেটে তোলা ৩৩৩ রানের জবাবে বিরাট কোহলি এবং দীনেশ কার্ত্তিকের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভারতীয়রা যেভাবে এই বিশাল সংগ্রহ টপকে জয় পেয়েছে তাতে করে কার্ডিফের শনিবারটা ব্যাটসম্যানদের বললে খুব বাড়িয়ে বলা হয়না। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল রানের পাহাড় গড়েছে শ্রীলংকা। অনেকে আবার উল্টো করে ভারতীয় বোলিং ডিপার্টমেন্টের নখরদন্তহীন চেহারাটা আবারো সকলের সামনে ফুটে ওঠল বলে সমালোচনা করেছেন। কারণ, বোলিং ডিপার্টমেন্টের দৈন্যদশা নাহলে কার্ডিফের অমন সুইং কন্ডিশনে ওয়ার্ম আপ ম্যাচে মাত্র তিন উইকেট খরচায় শ্রীলংকার স্কোরবোর্ডে কি আর ৩৩৩ রানের বড় সংগ্রহ জমা হয়?
দুই লংকান ওপেনার নবাগত কুশল পেরেরা এবং তিলকরতেœ দিলশান রিটায়ার্ড হার্ট (আহত হয়ে অবসর) না হলে স্কোরবোর্ডে চারশ রান ওঠাটাও বিচিত্র ছিল না। পেরেরা অবসরে যাওয়ার সময়ে তার ব্যক্তিগত সংগ্রহ সাত বাউন্ডারি এবং তিন ওভার বাউন্ডারিতে ৮২। নবীন বলেই হয়তো পেরেরা দেখেশুনে খেলেছেন বিশ্ব চ্যা¤িপয়ন দলের বোলারদের। কিন্তু তিলকরতেœ দিলশান ছিলেন নির্দয়। পেরেরার স্ট্রাইক রেট যেখানে ৮৭.২৩, সেখানে দিলশানের স্ট্রাইক রেট ১০৭.৬৯। নয় বাউন্ডারী আর এক ছক্কায় ৭৮ বলে ৮৪ রান করে তিনিও ভারতীয় বোলারদের হাঁফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ দিয়ে অবসরে যান। মাহেলা জয়াবর্ধনে ৩০ রানে আউট হওয়ার সময়টাতে লংকান স্কোরবোর্ডে এক উইকেটে ২০৯ রানের বড় সংগ্রহ। তখন বাকী ছিল ১৪.৫ ওভারের খেলা। এই সময়টাতে ভারতীয় বোলারদের ওপর দিয়ে রীতিমত ঝড় বয়ে গেছে। ১২৪ রান জমা হয়েছে ৮৯ বলে। ৩২ বলে সাত বাউন্ডারিতে কুমার সাংগাকারা ৪৫ এবং চার বাউন্ডারী ও এক ছক্কায় ৪৮ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলেন দীনেশ চান্ডিমাল। দু’জনের স্ট্রাইক রেট যথাক্রমে ১৪০.৬২ ও ৯৫.৮৩। স্ট্রাইক রেটের বিচারে বোলারদের ওপর নির্মম ছিলেন ইনিংস শেষে অপরাজিত থাকা অপর দুই ব্যাটসম্যান থিসারা পেরেরা ও দিলহারা। পেরেরার স্ট্রাইক রেট ১৬২.৫০ আর দিলহারার কাঁটায় কাঁটায় ২০০।
ভারতীয় অধিনায়ক ধোনি সাতজন বোলারকে ব্যবহার করেও তেমন সাফল্য পাননি। ইশান্ত শর্মা, অমিত মিশ্র এবং ভুবনেশ্বর কুমারের একটি করে পাওয়া সাফল্য ছাড়া অন্যদের নামের পাশে কোনো উইকেট নেই। জয়ের জন্য ৩৩৪ রানের বিশাল লক্ষ্যে খেলতে নামা ভারতীয়দের শুরুটা কোনোভাবেই ভালো হয়নি। দলীয় পাঁচ রানে পতন ঘটে ওপেনার শিখর ধাওয়ানের। মুরালি বিজয় ফিরেছেন দলীয় ৫২ রানে। তৃতীয় উইকেট হিসাবে রোহিত শর্মা ফিরে যাওয়ার সময় স্কোরবোর্ডে মাত্র ৬২ রান। সুরেশ রায়না
ফেরেন ১১০ রানের মাথায়। জয়ের লক্ষ্যের অর্ধেক পথ পার হওয়ার আগেই চারজন ব্যাটসম্যানকে হারানো ভারতীয় শিবিরে যখন পরাজয়ের শংকা, সেই সময়ে প্রতিরোধ গড়েন বিরাট কোহলি এবং দীনেশ কার্ত্তিক। কোহলি ১২০ বলে ১১ বাউন্ডারি এবং তিন ছক্কায় ১৪৪ রানে ইরাংগার বলে চান্ডিমালের তালুবন্দি হয়ে ফিরে আসার সময়ে জয়ের খুব কাছাকাছি ভারত। স্কোরবোর্ডে তখন ২৯৬ রান। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৩৮ রান তোলার জন্য বল বাকি ৩৭টি। দুর্দান্ত ফিনিশার হিসাবে বরাবরই সেরা ভারতীয় অধিনায়ক ধোনি। ক্রিজে নেমে দীনেশ কার্ত্তিককে যোগ্য সহায়তা দিয়ে পাঁচ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন ক্যাপ্টেন কুল। ততক্ষণে কার্ত্তিকের সেঞ্চুরিটাও হয়ে গেছে। মাত্র ৮১ বলে ১২ বাউন্ডারি এবং দুই ছক্কায় ১০৬ রানে অপরাজিত থাকেন কার্ত্তিক।